দক্ষিণ লেবাননে চলমান সংঘর্ষে আরও এক ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ে তিনি প্রাণ হারান। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন ইসরায়েলি সেনা। এতে সীমান্তজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে এবং সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, নিহত সেনার নাম আয়াল উরিয়েল বিয়াঙ্কো। তার বয়স ৩০ বছর। তিনি কাটস্রিন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং ১৮৮তম ‘বারাক’ সাঁজোয়া ব্যাটালিয়নের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দক্ষিণ লেবাননে অভিযানের সময় হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষে তিনি নিহত হন।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, আহত তিন সেনার একজন মাঝারি মাত্রায় আহত হয়েছেন। বাকি দুজন সামান্য আহত হন। তাদের তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করেছে বলেও জানানো হয়।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। সীমান্তবর্তী একাধিক এলাকায় গোলাবর্ষণ, ড্রোন হামলা ও স্থল অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এতে দুই পক্ষের হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে ইসরায়েলি সেনাদের হতাহতের খবর ঘন ঘন সামনে আসায় দেশটির অভ্যন্তরেও উদ্বেগ বাড়ছে।
অন্যদিকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগও নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, তেবনিন সরকারি হাসপাতালে হামলার পর করিডোরজুড়ে ভাঙা কাঁচ, ধ্বংসাবশেষ ও এলোমেলো চিকিৎসা সরঞ্জাম পড়ে আছে। হাসপাতালের বাইরে থাকা কয়েকটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ওই হামলায় হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। তবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনায় হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও বাড়ছে।
লেবাননের কর্মকর্তারা বলছেন, চলমান হামলায় দক্ষিণাঞ্চলের বহু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। স্কুল, বাজার ও সরকারি সেবা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
সংঘাত শুরুর পর থেকে দক্ষিণ লেবাননজুড়ে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সতর্ক করেছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, মার্চের শুরু থেকে চলমান হামলায় দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যদিও এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত সংঘর্ষ এখন আর সীমিত পর্যায়ে নেই; এটি ধীরে ধীরে বড় আকারের সামরিক সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলা এবং ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক অভিযান পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
#আরএ
বিষয় : লেবানন

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬
দক্ষিণ লেবাননে চলমান সংঘর্ষে আরও এক ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ে তিনি প্রাণ হারান। একই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও তিনজন ইসরায়েলি সেনা। এতে সীমান্তজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে এবং সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, নিহত সেনার নাম আয়াল উরিয়েল বিয়াঙ্কো। তার বয়স ৩০ বছর। তিনি কাটস্রিন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং ১৮৮তম ‘বারাক’ সাঁজোয়া ব্যাটালিয়নের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দক্ষিণ লেবাননে অভিযানের সময় হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সঙ্গে সংঘর্ষে তিনি নিহত হন।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, আহত তিন সেনার একজন মাঝারি মাত্রায় আহত হয়েছেন। বাকি দুজন সামান্য আহত হন। তাদের তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করেছে বলেও জানানো হয়।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। সীমান্তবর্তী একাধিক এলাকায় গোলাবর্ষণ, ড্রোন হামলা ও স্থল অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এতে দুই পক্ষের হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে ইসরায়েলি সেনাদের হতাহতের খবর ঘন ঘন সামনে আসায় দেশটির অভ্যন্তরেও উদ্বেগ বাড়ছে।
অন্যদিকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগও নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, তেবনিন সরকারি হাসপাতালে হামলার পর করিডোরজুড়ে ভাঙা কাঁচ, ধ্বংসাবশেষ ও এলোমেলো চিকিৎসা সরঞ্জাম পড়ে আছে। হাসপাতালের বাইরে থাকা কয়েকটি গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ওই হামলায় হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। তবে হতাহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনায় হামলার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও বাড়ছে।
লেবাননের কর্মকর্তারা বলছেন, চলমান হামলায় দক্ষিণাঞ্চলের বহু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে জীবনযাত্রা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। স্কুল, বাজার ও সরকারি সেবা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
সংঘাত শুরুর পর থেকে দক্ষিণ লেবাননজুড়ে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সতর্ক করেছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, মার্চের শুরু থেকে চলমান হামলায় দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যদিও এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত সংঘর্ষ এখন আর সীমিত পর্যায়ে নেই; এটি ধীরে ধীরে বড় আকারের সামরিক সংঘাতে রূপ নিচ্ছে। হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলা এবং ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক অভিযান পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
#আরএ

আপনার মতামত লিখুন