সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে চট্টগ্রামের সাতজন পেশাদার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে মামলা করেছেন ফটিকছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের কর্মী রিদুয়ান সিদ্দিকী। বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ সাইবার ট্রাইব্যুনাল চট্টগ্রামের বিচারক কাজী মিজানুর রহমানের আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। রিদুয়ান সিদ্দিকী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন এবং গত জানুয়ারি মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্রদলে যোগদান করেন।
বাদীর আইনজীবী আরিফ উর রহমান চৌধুরী জানান যে আদালত সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বাদীর অভিযোগ গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় অভিযুক্ত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের সম্পাদক হোসাইন তৌফিক ইফতিখার, বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব মহসিন কাজী, সিইউজের সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ এবং চ্যানেল আইয়ের ব্যুরো প্রধান চৌধুরী ফরিদ। এছাড়া যুগান্তরের ব্যুরো প্রধান শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, সমকালের নাসির উদ্দিন হায়দার ও সিইউজের সাবেক নেতা রতন কান্তি দেবাশীষকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয় যে গত ৪ মার্চ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এলে বাদী তার কাছে কয়েকটি গণমাধ্যমে হামলা ও নারী আন্দোলনকারীদের লাঞ্ছনার বিষয়ে স্মারকলিপি দেন। অভিযোগ রয়েছে যে ওই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সাংবাদিকেরা তাদের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কদের নিয়ে বিদ্বেষমূলক পোস্ট করেন। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিক হোসাইন তৌফিক ইফতিখার জানান যে ৪ মার্চ সার্কিট হাউসে মন্ত্রীর বৈঠকের সময় রিদুয়ান সিদ্দিকীর নেতৃত্বেই পেশাদার সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল।
সাংবাদিক হোসাইন তৌফিক আরও দাবি করেন যে হামলার প্রতিবাদ করায় তাকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং এ ঘটনায় তিনি ইতিমধ্যে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এদিকে ছাত্রদল কর্মী রিদুয়ান সিদ্দিকী হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে সাংবাদিকেরাই তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার চালাচ্ছেন। উল্লেখ্য যে গত ১৫ জানুয়ারি বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের উপস্থিতিতে ফটিকছড়িতে ছাত্রদলে যোগ দিয়েছিলেন রিদুয়ান।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এই মামলার ঘটনায় গভীর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব এবং চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে বলেন যে নির্বাচিত সরকারের আমলেও একটি সুযোগসন্ধানী চক্র বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা অবিলম্বে এই হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং অভিযুক্ত রিদুয়ান সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ মার্চ ২০২৬
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে চট্টগ্রামের সাতজন পেশাদার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে মামলা করেছেন ফটিকছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের কর্মী রিদুয়ান সিদ্দিকী। বৃহস্পতিবার ১২ মার্চ সাইবার ট্রাইব্যুনাল চট্টগ্রামের বিচারক কাজী মিজানুর রহমানের আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। রিদুয়ান সিদ্দিকী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন এবং গত জানুয়ারি মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্রদলে যোগদান করেন।
বাদীর আইনজীবী আরিফ উর রহমান চৌধুরী জানান যে আদালত সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বাদীর অভিযোগ গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে বিষয়টি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন। মামলায় অভিযুক্ত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের সম্পাদক হোসাইন তৌফিক ইফতিখার, বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব মহসিন কাজী, সিইউজের সাধারণ সম্পাদক সবুর শুভ এবং চ্যানেল আইয়ের ব্যুরো প্রধান চৌধুরী ফরিদ। এছাড়া যুগান্তরের ব্যুরো প্রধান শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, সমকালের নাসির উদ্দিন হায়দার ও সিইউজের সাবেক নেতা রতন কান্তি দেবাশীষকেও আসামি করা হয়েছে।
মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয় যে গত ৪ মার্চ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এলে বাদী তার কাছে কয়েকটি গণমাধ্যমে হামলা ও নারী আন্দোলনকারীদের লাঞ্ছনার বিষয়ে স্মারকলিপি দেন। অভিযোগ রয়েছে যে ওই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সাংবাদিকেরা তাদের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়কদের নিয়ে বিদ্বেষমূলক পোস্ট করেন। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিক হোসাইন তৌফিক ইফতিখার জানান যে ৪ মার্চ সার্কিট হাউসে মন্ত্রীর বৈঠকের সময় রিদুয়ান সিদ্দিকীর নেতৃত্বেই পেশাদার সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল।
সাংবাদিক হোসাইন তৌফিক আরও দাবি করেন যে হামলার প্রতিবাদ করায় তাকে নিয়মিত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং এ ঘটনায় তিনি ইতিমধ্যে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এদিকে ছাত্রদল কর্মী রিদুয়ান সিদ্দিকী হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেছেন যে সাংবাদিকেরাই তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার চালাচ্ছেন। উল্লেখ্য যে গত ১৫ জানুয়ারি বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের উপস্থিতিতে ফটিকছড়িতে ছাত্রদলে যোগ দিয়েছিলেন রিদুয়ান।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এই মামলার ঘটনায় গভীর নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব এবং চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে)। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে বলেন যে নির্বাচিত সরকারের আমলেও একটি সুযোগসন্ধানী চক্র বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা অবিলম্বে এই হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং অভিযুক্ত রিদুয়ান সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

আপনার মতামত লিখুন