দেশের আর্থিক
লেনদেনে নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে ক্যাশলেস বা নগদবিহীন অর্থনীতি গড়ে তুলতে ‘বাংলা
কিউআর’ ব্যবহারে জোর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ১ জুলাই থেকে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহারে বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা
দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান। সরকার দেশ জুড়ে
নগদবিহীন লেনদেনকে জনপ্রিয় করতে ইতমধ্যেই বিভিন্ন উদ্যোগ
নিয়েছে। বিশেষ করে লেনদেনে বাংলা কিউআরসহ ডিজিটাল পেমেন্ট
ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করছে। ব্যবসায়ী ও গ্রাহককে ডিজিটাল
লেনদেনে অভ্যস্ত করতে নানা প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে কিছু
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব শর্ত ও অনীহার কারণে সরকারের সেই উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার টিপুরদীতে (ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে) অবস্থিত ফ্রেশ সুপার মার্ট এর একটি ঘটনায় এমন অভিযোগের চিত্রই সামনে এসেছে।
প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, ফ্রেশ সুপার মার্ট থেকে ৭২ টাকার পণ্য কেনার পর বিল পরিশোধের সময় বিকাশের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করতে গেলে ক্যাশ কাউন্টার থেকে তা গ্রহণে আপত্তি জানানো হয়। কাউন্টারম্যান স্পষ্টভাবে জানান, ১০০ টাকার কমের বিল বিকাশের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয় না।
এ বিষয়ে বিল গ্রহণ না করার কারণ জানতে চাইলে সুপার মার্কেটটির ম্যানেজার সাইদুর রহমান জানান, ১০০ টাকার কম কোনো বিল বিকাশের মাধ্যমে গ্রহণ না করতে ম্যানেজমেন্টের নির্দেশনা রয়েছে।
মাত্র ৭২ টাকার বিল পরিশোধ করতে গিয়ে একজন গ্রাহককে ডিজিটাল পেমেন্টের পরিবর্তে নগদ অর্থের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। এতে সরকারের ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণের উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজিটাল লেনদেনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ছোট‑বড় সব ধরনের দৈনন্দিন কেনাকাটায় নগদ লেনদেনের বিকল্প তৈরি করা। বিশেষ করে বাংলা কিউআর, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে সহজে বিল পরিশোধের সুযোগ তৈরি করা হলেও কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের নিচে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত গ্রাহকের জন্য যেমন বিড়ম্বনার, তেমনি ক্যাশলেস লেনদেনে সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও একটি অনাকাঙ্খিত প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে।
দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে জনপ্রিয় করতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই নানাভাবে ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলা কিউআর ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বহুজাতিক বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও নগদ অর্থ ছাড়াই লেনদেনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে বাস্তবে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতিমালা বা শর্তের কারণে সেই সুবিধা সীমিত হয়ে পড়ছে। ফলে ক্যাশলেস অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফ্রেশ সুপার মার্ট এর নিয়মিত গ্রাহক সোনারগাঁও পৌরসভার বাসিন্দা রেমিট্যান্স যোদ্ধা জাকির হোসেন বলেন, “আমি প্রায় একুশ বছর সৌদিতে ছিলাম। সেখানে কেনাকাটার প্রায় নব্বই শতাংশ লেনদেনই এখন অনলাইন পেমেন্টে হয়। স্বস্তির বিষয় হলো সেখানে, এক পয়সাও অনলাইনে পেমেন্ট করা যায়”।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ফ্রেশ এর মতো এতো বড় একটা কোম্পানী গ্রাহকদেরকে সামান্য এই সেবাটুকু দিতে নারাজ, এটা মোটেই কাম্য নয়”।
সচেতন গ্রাহকদের প্রশ্ন, যেখানে সরকার নগদবিহীন লেনদেনকে উৎসাহিত করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে এবং ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামো গড়ে তুলছে, সেখানে রাষ্ট্রের আদেশ অমান্য করে কোন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিজেদের মতো করে ন্যূনতম বিলের সীমা নির্ধারণ করে ডিজিটাল পেমেন্ট প্রত্যাখ্যান করতে পারে কি না—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট নির্দেশনাসহ মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষনিক নজরদারী থাকা প্রয়োজন।
তাদের মতে, ক্যাশলেস লেনদেন সফল করতে শুধু প্রযুক্তি বা প্রণোদনাই যথেষ্ট নয়; ব্যবসায়ী ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তরিক সহযোগিতাও জরুরি। একই সঙ্গে গ্রাহকের ডিজিটাল পেমেন্টের অধিকার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নীতিমালার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাপক নজরদারি প্রয়োজন।
দেশের স্বনামধন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এর সহযোগি প্রতিষ্ঠান ফ্রেশ সুপার মার্ট ৭২ টাকার বিল বিকাশে পরিশোধ করতে না দেওয়ার ঘটনাটি শুধু একজন গ্রাহকের ব্যক্তিগত বিড়ম্বনার বিষয়ই নয়; বরং সরকারের ঘোষিত ক্যাশলেস লেনদেন বাস্তবায়নের উদ্যোগ মাঠপর্যায়ে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেই প্রশ্নও এখন জনমনে বিরাজিত।

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশের আর্থিক
লেনদেনে নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে ক্যাশলেস বা নগদবিহীন অর্থনীতি গড়ে তুলতে ‘বাংলা
কিউআর’ ব্যবহারে জোর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ১ জুলাই থেকে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহারে বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা
দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান। সরকার দেশ জুড়ে
নগদবিহীন লেনদেনকে জনপ্রিয় করতে ইতমধ্যেই বিভিন্ন উদ্যোগ
নিয়েছে। বিশেষ করে লেনদেনে বাংলা কিউআরসহ ডিজিটাল পেমেন্ট
ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করছে। ব্যবসায়ী ও গ্রাহককে ডিজিটাল
লেনদেনে অভ্যস্ত করতে নানা প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে কিছু
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব শর্ত ও অনীহার কারণে সরকারের সেই উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার টিপুরদীতে (ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে) অবস্থিত ফ্রেশ সুপার মার্ট এর একটি ঘটনায় এমন অভিযোগের চিত্রই সামনে এসেছে।
প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, ফ্রেশ সুপার মার্ট থেকে ৭২ টাকার পণ্য কেনার পর বিল পরিশোধের সময় বিকাশের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করতে গেলে ক্যাশ কাউন্টার থেকে তা গ্রহণে আপত্তি জানানো হয়। কাউন্টারম্যান স্পষ্টভাবে জানান, ১০০ টাকার কমের বিল বিকাশের মাধ্যমে গ্রহণ করা হয় না।
এ বিষয়ে বিল গ্রহণ না করার কারণ জানতে চাইলে সুপার মার্কেটটির ম্যানেজার সাইদুর রহমান জানান, ১০০ টাকার কম কোনো বিল বিকাশের মাধ্যমে গ্রহণ না করতে ম্যানেজমেন্টের নির্দেশনা রয়েছে।
মাত্র ৭২ টাকার বিল পরিশোধ করতে গিয়ে একজন গ্রাহককে ডিজিটাল পেমেন্টের পরিবর্তে নগদ অর্থের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। এতে সরকারের ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণের উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজিটাল লেনদেনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো ছোট‑বড় সব ধরনের দৈনন্দিন কেনাকাটায় নগদ লেনদেনের বিকল্প তৈরি করা। বিশেষ করে বাংলা কিউআর, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে সহজে বিল পরিশোধের সুযোগ তৈরি করা হলেও কোনো প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের নিচে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত গ্রাহকের জন্য যেমন বিড়ম্বনার, তেমনি ক্যাশলেস লেনদেনে সরকারের লক্ষ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও একটি অনাকাঙ্খিত প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে।
দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে জনপ্রিয় করতে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই নানাভাবে ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলা কিউআর ব্যবহারের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বহুজাতিক বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও নগদ অর্থ ছাড়াই লেনদেনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে বাস্তবে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতিমালা বা শর্তের কারণে সেই সুবিধা সীমিত হয়ে পড়ছে। ফলে ক্যাশলেস অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ফ্রেশ সুপার মার্ট এর নিয়মিত গ্রাহক সোনারগাঁও পৌরসভার বাসিন্দা রেমিট্যান্স যোদ্ধা জাকির হোসেন বলেন, “আমি প্রায় একুশ বছর সৌদিতে ছিলাম। সেখানে কেনাকাটার প্রায় নব্বই শতাংশ লেনদেনই এখন অনলাইন পেমেন্টে হয়। স্বস্তির বিষয় হলো সেখানে, এক পয়সাও অনলাইনে পেমেন্ট করা যায়”।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ফ্রেশ এর মতো এতো বড় একটা কোম্পানী গ্রাহকদেরকে সামান্য এই সেবাটুকু দিতে নারাজ, এটা মোটেই কাম্য নয়”।
সচেতন গ্রাহকদের প্রশ্ন, যেখানে সরকার নগদবিহীন লেনদেনকে উৎসাহিত করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে এবং ডিজিটাল পেমেন্ট অবকাঠামো গড়ে তুলছে, সেখানে রাষ্ট্রের আদেশ অমান্য করে কোন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিজেদের মতো করে ন্যূনতম বিলের সীমা নির্ধারণ করে ডিজিটাল পেমেন্ট প্রত্যাখ্যান করতে পারে কি না—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট নির্দেশনাসহ মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষনিক নজরদারী থাকা প্রয়োজন।
তাদের মতে, ক্যাশলেস লেনদেন সফল করতে শুধু প্রযুক্তি বা প্রণোদনাই যথেষ্ট নয়; ব্যবসায়ী ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর আন্তরিক সহযোগিতাও জরুরি। একই সঙ্গে গ্রাহকের ডিজিটাল পেমেন্টের অধিকার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নীতিমালার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাপক নজরদারি প্রয়োজন।
দেশের স্বনামধন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ এর সহযোগি প্রতিষ্ঠান ফ্রেশ সুপার মার্ট ৭২ টাকার বিল বিকাশে পরিশোধ করতে না দেওয়ার ঘটনাটি শুধু একজন গ্রাহকের ব্যক্তিগত বিড়ম্বনার বিষয়ই নয়; বরং সরকারের ঘোষিত ক্যাশলেস লেনদেন বাস্তবায়নের উদ্যোগ মাঠপর্যায়ে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেই প্রশ্নও এখন জনমনে বিরাজিত।

আপনার মতামত লিখুন