ঢাকা    মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অতীতে আটকে থাকার সুযোগ নেই: দীনেশ ত্রিবেদী


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অতীতে আটকে থাকার সুযোগ নেই: দীনেশ ত্রিবেদী


বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে অতীতের ঘটনাপ্রবাহে আটকে রাখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকলেও সেগুলো বিবেচনায় নিয়েই ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, অতীতকে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে অতীতের মধ্যেই আটকে থাকলে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না। বাংলাদেশ ও ভারত—দুই দেশেরই নিজস্ব চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং পারস্পরিক বাস্তবতা বুঝে সামনে এগিয়ে যাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, সরকারগুলোর নেওয়া সিদ্ধান্তের প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। তাই জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার দায়িত্বও দুই দেশের রয়েছে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্ক প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত শুধু সীমান্তই ভাগাভাগি করে না, দুই দেশের মানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার মধ্যেও যোগসূত্র রয়েছে। প্রতিবেশী হিসেবে তাই উভয় দেশের দায়িত্ব আরও বেশি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশ সমান—এখানে কেউ বড় বা ছোট নয়।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, এ বিষয়ে মন্তব্য করা তার উচিত নয়। বাংলাদেশের জনগণ এবং তাদের নির্বাচিত সরকারই দেশের জন্য কোনটি ভালো, সেটি সবচেয়ে ভালোভাবে বুঝবে।

এদিন বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছাও জানান ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরও বাড়াতে চায় ভারত।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে দুই দেশ কীভাবে মুক্ত বাণিজ্যের দিকে এগিয়ে যেতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান দীনেশ ত্রিবেদী। তার মতে, চ্যালেঞ্জ থাকলেও সেগুলো অতিক্রম করেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নিতে হবে।

এদিকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও অভিজ্ঞতা বিনিময় হয়েছে। সরকারের কাছে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল—অতীতের অভিজ্ঞতা মনে রেখেই পারস্পরিক স্বার্থ, জনগণের কল্যাণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সামনে রেখে দুই প্রতিবেশী দেশকে এগিয়ে যেতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অতীতে আটকে থাকার সুযোগ নেই: দীনেশ ত্রিবেদী

প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image


বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ককে অতীতের ঘটনাপ্রবাহে আটকে রাখার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ থাকলেও সেগুলো বিবেচনায় নিয়েই ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, অতীতকে ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে অতীতের মধ্যেই আটকে থাকলে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না। বাংলাদেশ ও ভারত—দুই দেশেরই নিজস্ব চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং পারস্পরিক বাস্তবতা বুঝে সামনে এগিয়ে যাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।

দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, সরকারগুলোর নেওয়া সিদ্ধান্তের প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। তাই জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার দায়িত্বও দুই দেশের রয়েছে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্পর্ক প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত শুধু সীমান্তই ভাগাভাগি করে না, দুই দেশের মানুষের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার মধ্যেও যোগসূত্র রয়েছে। প্রতিবেশী হিসেবে তাই উভয় দেশের দায়িত্ব আরও বেশি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশ সমান—এখানে কেউ বড় বা ছোট নয়।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, এ বিষয়ে মন্তব্য করা তার উচিত নয়। বাংলাদেশের জনগণ এবং তাদের নির্বাচিত সরকারই দেশের জন্য কোনটি ভালো, সেটি সবচেয়ে ভালোভাবে বুঝবে।

এদিন বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দলের নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছাও জানান ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক আরও বাড়াতে চায় ভারত।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে দুই দেশ কীভাবে মুক্ত বাণিজ্যের দিকে এগিয়ে যেতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান দীনেশ ত্রিবেদী। তার মতে, চ্যালেঞ্জ থাকলেও সেগুলো অতিক্রম করেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে সামনে এগিয়ে নিতে হবে।

এদিকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও অভিজ্ঞতা বিনিময় হয়েছে। সরকারের কাছে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনগুলো গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে দীনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল—অতীতের অভিজ্ঞতা মনে রেখেই পারস্পরিক স্বার্থ, জনগণের কল্যাণ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে সামনে রেখে দুই প্রতিবেশী দেশকে এগিয়ে যেতে হবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ