পাইলস প্রধানত দুই ধরনের—অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক। অভ্যন্তরীণ পাইলস মলদ্বারের ভেতরে তৈরি হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যথা না থাকলেও মলত্যাগের সময় উজ্জ্বল লাল রক্ত দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে বাহ্যিক পাইলস মলদ্বারের বাইরের দিকে হয়। এতে ব্যথা, চুলকানি, ফোলা বা শক্ত গুটির মতো অনুভূতি হতে পারে।
দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগা এবং মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া পাইলসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ। দীর্ঘ সময় টয়লেটে বসে থাকা, খাবারে পর্যাপ্ত আঁশ না থাকা, অতিরিক্ত ওজন, গর্ভাবস্থা এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে মলদ্বারের আশপাশের সহায়ক টিস্যু দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণেও পাইলসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়াও কিছু ক্ষেত্রে সমস্যাটি বাড়াতে পারে। পরিবারের অন্য সদস্যদের পাইলস থাকার ইতিহাস থাকলেও কারও কারও ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
পাইলসের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো মলত্যাগের সময় রক্তপাত। সাধারণত উজ্জ্বল লাল রক্ত দেখা যায়। এ ছাড়া মলদ্বারে চুলকানি বা জ্বালাপোড়া, ব্যথা, ফোলা, অস্বস্তি এবং মলদ্বারের বাইরে গুটির মতো অংশ বেরিয়ে আসতে পারে।
তবে মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত হলেই সেটিকে পাইলস ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এনাল ফিশার, অন্ত্রের প্রদাহ, পলিপসহ আরও বিভিন্ন রোগে রক্তপাত হতে পারে। কখনো এটি কোলোরেক্টাল ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগের লক্ষণও হতে পারে। তাই রক্তপাত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কারণ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাথমিক পর্যায়ে জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে অনেকের পাইলসের উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। প্রতিদিন পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার—যেমন শাকসবজি, ফলমূল ও পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার খাওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি পান করলে মল নরম রাখতে সহায়তা করে।
মলত্যাগের চাপ এলে দীর্ঘ সময় আটকে না রাখা এবং টয়লেটে অপ্রয়োজনীয় সময় না কাটানো উচিত। মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়াও এড়িয়ে চলতে হবে। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখাও কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক।
ব্যথা বা অস্বস্তি থাকলে কুসুম গরম পানিতে কিছুক্ষণ বসে থাকা বা ‘সিটজ বাথ’ সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে মল নরম করার ওষুধ, ফাইবার সাপ্লিমেন্ট বা স্থানীয়ভাবে ব্যবহারের কিছু ওষুধ দেওয়া হতে পারে।
রক্তপাত বারবার হলে, প্রচুর রক্ত গেলে, তীব্র ব্যথা হলে, মল কালো বা আলকাতরার মতো হলে, মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা দেখা দিলে কিংবা কয়েক দিনের ঘরোয়া ব্যবস্থাপনার পরও সমস্যা না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
পাইলসের মাত্রা বেশি হলে বা সাধারণ চিকিৎসায় না কমলে চিকিৎসক রাবার ব্যান্ড লাইগেশন, স্ক্লেরোথেরাপি, ইনফ্রারেড কোয়াগুলেশনসহ বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি বিবেচনা করতে পারেন। গুরুতর বা জটিল ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারেরও প্রয়োজন হতে পারে।
পাইলস অস্বস্তিকর হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যথাযথ খাদ্যাভ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনমতো চিকিৎসার মাধ্যমে সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে মলদ্বার দিয়ে রক্তপাতকে অবহেলা না করে সঠিক কারণ নির্ণয় করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
পাইলস প্রধানত দুই ধরনের—অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক। অভ্যন্তরীণ পাইলস মলদ্বারের ভেতরে তৈরি হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যথা না থাকলেও মলত্যাগের সময় উজ্জ্বল লাল রক্ত দেখা যেতে পারে। অন্যদিকে বাহ্যিক পাইলস মলদ্বারের বাইরের দিকে হয়। এতে ব্যথা, চুলকানি, ফোলা বা শক্ত গুটির মতো অনুভূতি হতে পারে।
দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগা এবং মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়া পাইলসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ। দীর্ঘ সময় টয়লেটে বসে থাকা, খাবারে পর্যাপ্ত আঁশ না থাকা, অতিরিক্ত ওজন, গর্ভাবস্থা এবং বয়স বাড়ার সঙ্গে মলদ্বারের আশপাশের সহায়ক টিস্যু দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণেও পাইলসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়াও কিছু ক্ষেত্রে সমস্যাটি বাড়াতে পারে। পরিবারের অন্য সদস্যদের পাইলস থাকার ইতিহাস থাকলেও কারও কারও ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
পাইলসের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো মলত্যাগের সময় রক্তপাত। সাধারণত উজ্জ্বল লাল রক্ত দেখা যায়। এ ছাড়া মলদ্বারে চুলকানি বা জ্বালাপোড়া, ব্যথা, ফোলা, অস্বস্তি এবং মলদ্বারের বাইরে গুটির মতো অংশ বেরিয়ে আসতে পারে।
তবে মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত হলেই সেটিকে পাইলস ধরে নেওয়া ঠিক নয়। এনাল ফিশার, অন্ত্রের প্রদাহ, পলিপসহ আরও বিভিন্ন রোগে রক্তপাত হতে পারে। কখনো এটি কোলোরেক্টাল ক্যানসারের মতো গুরুতর রোগের লক্ষণও হতে পারে। তাই রক্তপাত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে কারণ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাথমিক পর্যায়ে জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এনে অনেকের পাইলসের উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। প্রতিদিন পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার—যেমন শাকসবজি, ফলমূল ও পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার খাওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি পান করলে মল নরম রাখতে সহায়তা করে।
মলত্যাগের চাপ এলে দীর্ঘ সময় আটকে না রাখা এবং টয়লেটে অপ্রয়োজনীয় সময় না কাটানো উচিত। মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ দেওয়াও এড়িয়ে চলতে হবে। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখাও কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সহায়ক।
ব্যথা বা অস্বস্তি থাকলে কুসুম গরম পানিতে কিছুক্ষণ বসে থাকা বা ‘সিটজ বাথ’ সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে মল নরম করার ওষুধ, ফাইবার সাপ্লিমেন্ট বা স্থানীয়ভাবে ব্যবহারের কিছু ওষুধ দেওয়া হতে পারে।
রক্তপাত বারবার হলে, প্রচুর রক্ত গেলে, তীব্র ব্যথা হলে, মল কালো বা আলকাতরার মতো হলে, মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা দেখা দিলে কিংবা কয়েক দিনের ঘরোয়া ব্যবস্থাপনার পরও সমস্যা না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
পাইলসের মাত্রা বেশি হলে বা সাধারণ চিকিৎসায় না কমলে চিকিৎসক রাবার ব্যান্ড লাইগেশন, স্ক্লেরোথেরাপি, ইনফ্রারেড কোয়াগুলেশনসহ বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি বিবেচনা করতে পারেন। গুরুতর বা জটিল ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারেরও প্রয়োজন হতে পারে।
পাইলস অস্বস্তিকর হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যথাযথ খাদ্যাভ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনমতো চিকিৎসার মাধ্যমে সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে মলদ্বার দিয়ে রক্তপাতকে অবহেলা না করে সঠিক কারণ নির্ণয় করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার মতামত লিখুন