ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

একটি টিকাও বাদ নয়: শিশুর টিকাদানের পূর্ণ সময়সূচি


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

একটি টিকাও বাদ নয়: শিশুর টিকাদানের পূর্ণ সময়সূচি
ছবি: সংগৃহীত

শিশুর জন্মের পর থেকেই তার রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলার অন্যতম কার্যকর উপায় হলো সময়মতো টিকা দেওয়া। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এক বছর বয়স পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সব টিকা সম্পন্ন করলে যক্ষ্মা, পোলিও, হাম, রুবেলা, নিউমোনিয়াসহ নানা প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তাই প্রতিটি অভিভাবকের উচিত টিকার নির্ধারিত তারিখ মেনে শিশুকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া।

জন্মের সময় যেসব টিকা দেওয়া হয়

শিশুর জন্মের পর যত দ্রুত সম্ভব নিচের টিকাগুলো দেওয়া প্রয়োজন।

বিসিজি (BCG): যক্ষ্মা (টিবি) থেকে সুরক্ষা দেয়।

ওপিভি-০ (মুখে খাওয়ার পোলিও টিকা): পোলিও প্রতিরোধে কার্যকর।

হেপাটাইটিস বি: অনেক ক্ষেত্রে জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই টিকা দেওয়া হয়, যা সবচেয়ে কার্যকর বলে বিবেচিত।

৬ সপ্তাহ বয়সে

এই সময়ে শিশুকে দেওয়া হয়:

  • পেন্টাভ্যালেন্ট (ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, টিটেনাস, হেপাটাইটিস বি ও হিব)

  • পোলিও টিকা (ওপিভি/আইপিভি)

  • নিউমোকক্কাল (PCV)

  • রোটাভাইরাস টিকা (যেখানে কর্মসূচিতে রয়েছে)

১০ সপ্তাহ বয়সে

দেওয়া হয় দ্বিতীয় ডোজ:

  • পেন্টাভ্যালেন্ট

  • পোলিও

  • নিউমোকক্কাল

  • রোটাভাইরাস (টিকার ধরন অনুযায়ী)

১৪ সপ্তাহ বয়সে

এই বয়সে প্রয়োজন:

  • তৃতীয় ডোজ পেন্টাভ্যালেন্ট

  • তৃতীয় ডোজ পোলিও

  • তৃতীয় ডোজ নিউমোকক্কাল (সূচি অনুযায়ী)

  • আইপিভি (যদি নির্ধারিত থাকে)

৯ মাস বয়সে

এই সময়ে দেওয়া হয়:

  • হাম ও রুবেলা (এমআর) টিকা

  • জাতীয় কর্মসূচি অনুযায়ী অনেক ক্ষেত্রে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল

টিকা দেওয়ার পর যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখবেন

  • টিকার কার্ড নিরাপদে সংরক্ষণ করুন।

  • পরবর্তী ডোজের নির্ধারিত তারিখ মনে রাখুন এবং সময়মতো টিকা দিন।

  • টিকা নেওয়ার পর হালকা জ্বর, ইনজেকশনের স্থানে ব্যথা বা সামান্য ফোলাভাব দেখা দিতে পারে, যা সাধারণত স্বাভাবিক।

  • তবে শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, অস্বাভাবিক কান্না বা তীব্র অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কেন সময়মতো টিকা দেওয়া জরুরি?

টিকা শুধু একটি শিশুকেই সুরক্ষা দেয় না, বরং পুরো সমাজে সংক্রামক রোগের বিস্তার কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নির্ধারিত সময়ের টিকা নির্ধারিত সময়েই দিলে শরীরে সর্বোচ্চ রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়। তাই কোনো ডোজ বাদ না দিয়ে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির সময়সূচি অনুযায়ী সব টিকা সম্পন্ন করা প্রতিটি অভিভাবকের দায়িত্ব।

শিশুর সুস্থ, নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে জন্মের পর থেকেই টিকাদানে সচেতন হোন এবং নির্ধারিত সময়সূচি মেনে প্রতিটি ডোজ সম্পন্ন করুন।


আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


একটি টিকাও বাদ নয়: শিশুর টিকাদানের পূর্ণ সময়সূচি

প্রকাশের তারিখ : ০৩ আগস্ট ২০২৬

featured Image

শিশুর জন্মের পর থেকেই তার রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলার অন্যতম কার্যকর উপায় হলো সময়মতো টিকা দেওয়া। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী এক বছর বয়স পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সব টিকা সম্পন্ন করলে যক্ষ্মা, পোলিও, হাম, রুবেলা, নিউমোনিয়াসহ নানা প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তাই প্রতিটি অভিভাবকের উচিত টিকার নির্ধারিত তারিখ মেনে শিশুকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া।

জন্মের সময় যেসব টিকা দেওয়া হয়

শিশুর জন্মের পর যত দ্রুত সম্ভব নিচের টিকাগুলো দেওয়া প্রয়োজন।

বিসিজি (BCG): যক্ষ্মা (টিবি) থেকে সুরক্ষা দেয়।

ওপিভি-০ (মুখে খাওয়ার পোলিও টিকা): পোলিও প্রতিরোধে কার্যকর।

হেপাটাইটিস বি: অনেক ক্ষেত্রে জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই টিকা দেওয়া হয়, যা সবচেয়ে কার্যকর বলে বিবেচিত।

৬ সপ্তাহ বয়সে

এই সময়ে শিশুকে দেওয়া হয়:

  • পেন্টাভ্যালেন্ট (ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, টিটেনাস, হেপাটাইটিস বি ও হিব)

  • পোলিও টিকা (ওপিভি/আইপিভি)

  • নিউমোকক্কাল (PCV)

  • রোটাভাইরাস টিকা (যেখানে কর্মসূচিতে রয়েছে)

১০ সপ্তাহ বয়সে

দেওয়া হয় দ্বিতীয় ডোজ:

  • পেন্টাভ্যালেন্ট

  • পোলিও

  • নিউমোকক্কাল

  • রোটাভাইরাস (টিকার ধরন অনুযায়ী)

১৪ সপ্তাহ বয়সে

এই বয়সে প্রয়োজন:

  • তৃতীয় ডোজ পেন্টাভ্যালেন্ট

  • তৃতীয় ডোজ পোলিও

  • তৃতীয় ডোজ নিউমোকক্কাল (সূচি অনুযায়ী)

  • আইপিভি (যদি নির্ধারিত থাকে)

৯ মাস বয়সে

এই সময়ে দেওয়া হয়:

  • হাম ও রুবেলা (এমআর) টিকা

  • জাতীয় কর্মসূচি অনুযায়ী অনেক ক্ষেত্রে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল

টিকা দেওয়ার পর যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখবেন

  • টিকার কার্ড নিরাপদে সংরক্ষণ করুন।

  • পরবর্তী ডোজের নির্ধারিত তারিখ মনে রাখুন এবং সময়মতো টিকা দিন।

  • টিকা নেওয়ার পর হালকা জ্বর, ইনজেকশনের স্থানে ব্যথা বা সামান্য ফোলাভাব দেখা দিতে পারে, যা সাধারণত স্বাভাবিক।

  • তবে শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, অস্বাভাবিক কান্না বা তীব্র অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

কেন সময়মতো টিকা দেওয়া জরুরি?

টিকা শুধু একটি শিশুকেই সুরক্ষা দেয় না, বরং পুরো সমাজে সংক্রামক রোগের বিস্তার কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নির্ধারিত সময়ের টিকা নির্ধারিত সময়েই দিলে শরীরে সর্বোচ্চ রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়। তাই কোনো ডোজ বাদ না দিয়ে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির সময়সূচি অনুযায়ী সব টিকা সম্পন্ন করা প্রতিটি অভিভাবকের দায়িত্ব।

শিশুর সুস্থ, নিরাপদ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে জন্মের পর থেকেই টিকাদানে সচেতন হোন এবং নির্ধারিত সময়সূচি মেনে প্রতিটি ডোজ সম্পন্ন করুন।



দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ