ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সরকারি হাসপাতালের দালালচক্র স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬

সরকারি হাসপাতালের দালালচক্র স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের প্রলোভন দেখিয়ে বা বিভ্রান্ত করে বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালে টেস্ট বাণিজ্য, কমিশনভিত্তিক চিকিৎসা, টেন্ডার অনিয়ম ও অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারির কথাও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতি নিরসন: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার উপযোগী সেবা নিশ্চিত করতে ব্যয় দক্ষতার একটি দ্রুত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গবেষণাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেন্ট রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট।

গবেষণায় দেশের আটটি বিভাগের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও তৃতীয় পর্যায়ের ২২টি সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের বাজেট বাস্তবায়ন, ক্রয় প্রক্রিয়া এবং সেবার কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়। এতে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানগুলোর গড় বাজেট বাস্তবায়নের হার ছিল ৮৫ শতাংশ। তবে মাধ্যমিক পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে এ হার ছিল সবচেয়ে কম, ৭৮ শতাংশ।


স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেও পাশের ক্লিনিকে রোগী পাঠানো, কমিশনের বিনিময়ে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করানো কিংবা বাইরে অস্ত্রোপচার করে লাভবান হওয়ার সংস্কৃতি চলতে দেওয়া হবে না। এসব অনিয়ম কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে এমন সব অযৌক্তিক শর্ত যুক্ত করা হয়, যাতে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কেউ অংশ নিতে না পারে। এতে প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হয় এবং সরকারি অর্থের অপচয় ঘটে।

অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ছাড়াই উচ্চমূল্যে রেডিওথেরাপি মেশিন কেনা হয়েছিল। একইভাবে জনবল ও কারিগরি সক্ষমতা নিশ্চিত না করেই বিভিন্ন স্থানে এক্স-রে ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়, যার অনেকগুলোই ব্যবহার না হয়ে পড়ে রয়েছে।

ডায়ালাইসিস সেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি বিদেশি কোম্পানি ঢাকাসহ কয়েকটি অঞ্চলে এ খাত নিয়ন্ত্রণ করেছে। তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তা আর নবায়ন করা হবে না। সরকার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডায়ালাইসিস মেশিন সংগ্রহ করবে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি কম খরচে সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসেবা পাবেন। পাশাপাশি প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যা এবং প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

হামের টিকাদান কর্মসূচির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, অতীতে নিয়মিত টিকা সংগ্রহ ও ক্যাম্পেইন না হওয়ায় অনেক শিশু টিকাবঞ্চিত ছিল। বর্তমানে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৯৯ শতাংশই টিকা না পাওয়া। তাই টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে এবং নতুন করে এক লাখের বেশি শিশুকে এর আওতায় আনা হয়েছে।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে পরীক্ষামূলকভাবে ১০টি উপজেলা ও ৯০টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যকর্মীদের হাতে সাইকেল, স্মার্টফোন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) কিট বক্স দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এসব কিটের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর্মীরা মানুষের বাড়িতে গিয়ে ডায়াবেটিস, রক্তচাপ, লিপিড প্রোফাইল, উচ্চতা, ওজনসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে পারবেন।

অডিটের নামে কোনো ধরনের ঘুষ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। কেউ অনৈতিকভাবে অর্থ দাবি করলে সংশ্লিষ্টদের সরাসরি তার কাছে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়া অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধে সারা দেশে বেসরকারি ক্লিনিকে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সিভিল সার্জন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি ছাড়া পরিচালিত একাধিক ক্লিনিক ইতোমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে। এ অভিযান আরও বিস্তৃত হবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুল হক। এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজাসহ স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


সরকারি হাসপাতালের দালালচক্র স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের প্রলোভন দেখিয়ে বা বিভ্রান্ত করে বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার দালাল চক্রের অপতৎপরতা স্থায়ীভাবে বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালে টেস্ট বাণিজ্য, কমিশনভিত্তিক চিকিৎসা, টেন্ডার অনিয়ম ও অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশনের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারির কথাও জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ঘাটতি নিরসন: সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার উপযোগী সেবা নিশ্চিত করতে ব্যয় দক্ষতার একটি দ্রুত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গবেষণাটি যৌথভাবে পরিচালনা করেছে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেন্ট রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট।

গবেষণায় দেশের আটটি বিভাগের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও তৃতীয় পর্যায়ের ২২টি সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের বাজেট বাস্তবায়ন, ক্রয় প্রক্রিয়া এবং সেবার কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়। এতে দেখা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানগুলোর গড় বাজেট বাস্তবায়নের হার ছিল ৮৫ শতাংশ। তবে মাধ্যমিক পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে এ হার ছিল সবচেয়ে কম, ৭৮ শতাংশ।


স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করেও পাশের ক্লিনিকে রোগী পাঠানো, কমিশনের বিনিময়ে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করানো কিংবা বাইরে অস্ত্রোপচার করে লাভবান হওয়ার সংস্কৃতি চলতে দেওয়া হবে না। এসব অনিয়ম কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে এমন সব অযৌক্তিক শর্ত যুক্ত করা হয়, যাতে নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য কেউ অংশ নিতে না পারে। এতে প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হয় এবং সরকারি অর্থের অপচয় ঘটে।

অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটার উদাহরণ তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ছাড়াই উচ্চমূল্যে রেডিওথেরাপি মেশিন কেনা হয়েছিল। একইভাবে জনবল ও কারিগরি সক্ষমতা নিশ্চিত না করেই বিভিন্ন স্থানে এক্স-রে ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা হয়, যার অনেকগুলোই ব্যবহার না হয়ে পড়ে রয়েছে।

ডায়ালাইসিস সেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি বিদেশি কোম্পানি ঢাকাসহ কয়েকটি অঞ্চলে এ খাত নিয়ন্ত্রণ করেছে। তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তা আর নবায়ন করা হবে না। সরকার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডায়ালাইসিস মেশিন সংগ্রহ করবে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি কম খরচে সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসেবা পাবেন। পাশাপাশি প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যা এবং প্রতিটি জেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস কেন্দ্র চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

হামের টিকাদান কর্মসূচির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, অতীতে নিয়মিত টিকা সংগ্রহ ও ক্যাম্পেইন না হওয়ায় অনেক শিশু টিকাবঞ্চিত ছিল। বর্তমানে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৯৯ শতাংশই টিকা না পাওয়া। তাই টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে এবং নতুন করে এক লাখের বেশি শিশুকে এর আওতায় আনা হয়েছে।

প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে পরীক্ষামূলকভাবে ১০টি উপজেলা ও ৯০টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্যকর্মীদের হাতে সাইকেল, স্মার্টফোন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) কিট বক্স দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এসব কিটের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর্মীরা মানুষের বাড়িতে গিয়ে ডায়াবেটিস, রক্তচাপ, লিপিড প্রোফাইল, উচ্চতা, ওজনসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে পারবেন।

অডিটের নামে কোনো ধরনের ঘুষ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। কেউ অনৈতিকভাবে অর্থ দাবি করলে সংশ্লিষ্টদের সরাসরি তার কাছে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

এছাড়া অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধে সারা দেশে বেসরকারি ক্লিনিকে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানান তিনি। সিভিল সার্জন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও যন্ত্রপাতি ছাড়া পরিচালিত একাধিক ক্লিনিক ইতোমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে। এ অভিযান আরও বিস্তৃত হবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক ড. মো. এনামুল হক। এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজাসহ স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ