ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে সহযোগিতা না করতে বিশ্বের সব দেশের প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান।

এবার বিশ্বের সব দেশকে সতর্ক করল ইরান


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৬

এবার বিশ্বের সব দেশকে সতর্ক করল ইরান


যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে সহযোগিতা না করতে বিশ্বের সব দেশের প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। তেহরানের বক্তব্য, কোনো দেশ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অংশ নিলে সেটিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বেআইনি অর্থনৈতিক চাপের সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ অবস্থান জানায়। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপকে বেআইনি আখ্যা দিয়ে একে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ এবং ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ বলে অভিহিত করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অন্য কোনো দেশের অংশগ্রহণ একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ওপর আরেকটি রাষ্ট্রের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার সহযোগিতা হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে এটি বৈধ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাধাগ্রস্ত করবে বলে দাবি করেছে তেহরান।

তেহরানের দাবি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জাতিসংঘ সনদ, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং মানবাধিকারের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ কারণে বিশ্বের দেশগুলোর এসব নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা থেকে বিরত থাকা উচিত বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করেছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট গত ২৪ আগস্ট এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এর আওতায় ইরানের আন্তর্জাতিক আর্থিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের ওপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি তেহরানের সঙ্গে ব্যবসায় যুক্ত দেশ ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

এর আগেও ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মহসেন রেজাই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অভিযানে অন্য দেশগুলোকে যোগ না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ আরোপে অংশ নেওয়া দেশকে তেহরান শত্রু হিসেবে বিবেচনা করবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় নিজেদের হাতে থাকা সব সক্ষমতা ব্যবহার করবে তেহরান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আইনের শাসন ও জাতিসংঘ সনদের নীতি রক্ষায় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক ও অর্থনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে তেহরানের এই সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কেও নতুন চাপ তৈরির আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে যেসব দেশের সঙ্গে ইরানের উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা তাদের সামনে নতুন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক হিসাব তৈরি করতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


এবার বিশ্বের সব দেশকে সতর্ক করল ইরান

প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image


যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে সহযোগিতা না করতে বিশ্বের সব দেশের প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। তেহরানের বক্তব্য, কোনো দেশ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অংশ নিলে সেটিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বেআইনি অর্থনৈতিক চাপের সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ অবস্থান জানায়। তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপকে বেআইনি আখ্যা দিয়ে একে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ এবং ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ বলে অভিহিত করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অন্য কোনো দেশের অংশগ্রহণ একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের ওপর আরেকটি রাষ্ট্রের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার সহযোগিতা হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে এটি বৈধ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাধাগ্রস্ত করবে বলে দাবি করেছে তেহরান।

তেহরানের দাবি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জাতিসংঘ সনদ, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং মানবাধিকারের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ কারণে বিশ্বের দেশগুলোর এসব নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা থেকে বিরত থাকা উচিত বলে জানিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়াতে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে নতুন উদ্যোগ ঘোষণা করেছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট গত ২৪ আগস্ট এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। এর আওতায় ইরানের আন্তর্জাতিক আর্থিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগের ওপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি তেহরানের সঙ্গে ব্যবসায় যুক্ত দেশ ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

এর আগেও ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মহসেন রেজাই যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অভিযানে অন্য দেশগুলোকে যোগ না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ আরোপে অংশ নেওয়া দেশকে তেহরান শত্রু হিসেবে বিবেচনা করবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় নিজেদের হাতে থাকা সব সক্ষমতা ব্যবহার করবে তেহরান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আইনের শাসন ও জাতিসংঘ সনদের নীতি রক্ষায় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

ইরানকে ঘিরে চলমান সামরিক ও অর্থনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে তেহরানের এই সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্কেও নতুন চাপ তৈরির আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে যেসব দেশের সঙ্গে ইরানের উল্লেখযোগ্য বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা তাদের সামনে নতুন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক হিসাব তৈরি করতে পারে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ