কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল, নগদ দেড় লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ এক নারীকে আটকের পর উদ্ধারকৃত মালামাল রহস্যজনকভাবে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেওয়ার এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর টানা তিন দিন পার হয়ে গেলেও কোনো ধরনের মামলা, জব্দ তালিকা (সিজার লিস্ট) বা আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা ও তোলপাড় চলছে।
স্থানীয় একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ আগস্ট বুধবার সন্ধ্যায় কুলিয়ারচর উপজেলার ঢাকা-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন দ্বারিয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে সন্দেহভাজন এক নারীকে স্থানীয়রা আটক করেন। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, অভিযুক্ত নারী পার্শ্ববর্তী ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটিতে ছদ্মবেশে মাদক চোরাচালান ও অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত বলে স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন রয়েছে। তবে রহস্যজনক কারণে তার সুনির্দিষ্ট নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ্যে আনা হয়নি। আটকের পরপরই ওই নারীর সঙ্গে থাকা ট্রাভেল ব্যাগ ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল, নগদ আনুমানিক দেড় লাখ টাকা এবং মূল্যবান স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। মাদকদ্রব্যের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নিয়ে নানা ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হলেও স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি—উদ্ধারকৃত ফেনসিডিলের সংখ্যা আনুমানিক ১৮০ থেকে ৬০০ বোতল পর্যন্ত হতে পারে।
ঘটনার সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিক হলো—টাকা ও মাদকসহ ওই নারীকে আটকের পর আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে না দিয়ে একশ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে হাজির হয় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। তারা ভয়ভীতি প্রদর্শন ও কৌশলে উদ্ধারকৃত ফেনসিডিলের বড় একটি অংশ, সোনা ও নগদ টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে অভিযুক্ত নারীকেও অলিখিত বোঝাপড়ার মাধ্যমে সটকে পড়ার সুযোগ করে দেওয়া হয় বলে গুঞ্জন উঠে।
ঘটনার পর থেকে পুরো কুলিয়ারচর ও ভৈরব অঞ্চলজুড়ে একটিই আলোচনা—সোনার হরিণখ্যাত এই বিপুল পরিমাণ মালামাল শেষ পর্যন্ত গেল কোথায়? সচেতন মহল প্রশ্ন তুলছেন, সত্যিই যদি এত বিপুল পরিমাণ অবৈধ মালামাল ও মাদক উদ্ধার হয়ে থাকে, তবে কেন তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশি জব্দ তালিকা (সিজার লিস্ট) তৈরি করা হলো না? তাছাড়া অভিযুক্ত নারী ও উদ্ধারকৃত অবৈধ মালামালের কোনো হদিস না দিয়ে তাকে কীভাবে ছেড়ে দেওয়া হলো?অপরাধীদের আড়াল করতে এবং উদ্ধারকৃত সম্পদ আত্মসাৎ করতে নেপথ্যে কারা কলকাঠি নাড়লো? নেটিজেনরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলছেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি যখন চলমান, তখন প্রকাশ্যে মাদক ও বিপুল অঙ্কের টাকা ভাগ-বাটোয়ারার ঘটনা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবক্ষয়কেই নির্দেশ করে।
এসব অভিযোগ ও ধোঁয়াশার বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ খবর পাওয়ার পরপরই তৎপরতা চালিয়েছে। তিনি বলেন, "সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে একাধিকবার পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে। তবে পুলিশ গিয়ে স্থানীয় কাউকে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য দিতে দেখেনি। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগও জমা পড়েনি। তবে বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি। তদন্তে ঘটনার সত্যতা ও মালামাল ভাগ-বাটোয়ারার প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িত প্রত্যেকে—তা সে যতই প্রভাবশালী হোক না কেন—তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সাথে জড়িত প্রভাবশালী চক্রটি বিষয়টি সম্পূর্ণ চেপে যাওয়ার জন্য নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, দ্রুত এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। উদ্ধারকৃত মালামাল উদ্ধারসহ সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় না আনলে এলাকায় মাদকের দৌরাত্ম্য আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। পুরো বিষয়টি নিয়ে এখন পুরো কিশোরগঞ্জ জেলাজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি ও তীব্র আইনি পদক্ষেপের প্রতীক্ষা বিরাজ করছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ আগস্ট ২০২৬
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল, নগদ দেড় লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ এক নারীকে আটকের পর উদ্ধারকৃত মালামাল রহস্যজনকভাবে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেওয়ার এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পর টানা তিন দিন পার হয়ে গেলেও কোনো ধরনের মামলা, জব্দ তালিকা (সিজার লিস্ট) বা আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা ও তোলপাড় চলছে।
স্থানীয় একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ আগস্ট বুধবার সন্ধ্যায় কুলিয়ারচর উপজেলার ঢাকা-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়ক সংলগ্ন দ্বারিয়াকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে সন্দেহভাজন এক নারীকে স্থানীয়রা আটক করেন। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, অভিযুক্ত নারী পার্শ্ববর্তী ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটিতে ছদ্মবেশে মাদক চোরাচালান ও অবৈধ ব্যবসার সাথে জড়িত বলে স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন রয়েছে। তবে রহস্যজনক কারণে তার সুনির্দিষ্ট নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ্যে আনা হয়নি। আটকের পরপরই ওই নারীর সঙ্গে থাকা ট্রাভেল ব্যাগ ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী তল্লাশি করে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিল, নগদ আনুমানিক দেড় লাখ টাকা এবং মূল্যবান স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। মাদকদ্রব্যের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নিয়ে নানা ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হলেও স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি—উদ্ধারকৃত ফেনসিডিলের সংখ্যা আনুমানিক ১৮০ থেকে ৬০০ বোতল পর্যন্ত হতে পারে।
ঘটনার সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিক হলো—টাকা ও মাদকসহ ওই নারীকে আটকের পর আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে না দিয়ে একশ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে হাজির হয় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র। তারা ভয়ভীতি প্রদর্শন ও কৌশলে উদ্ধারকৃত ফেনসিডিলের বড় একটি অংশ, সোনা ও নগদ টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেয়। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে অভিযুক্ত নারীকেও অলিখিত বোঝাপড়ার মাধ্যমে সটকে পড়ার সুযোগ করে দেওয়া হয় বলে গুঞ্জন উঠে।
ঘটনার পর থেকে পুরো কুলিয়ারচর ও ভৈরব অঞ্চলজুড়ে একটিই আলোচনা—সোনার হরিণখ্যাত এই বিপুল পরিমাণ মালামাল শেষ পর্যন্ত গেল কোথায়? সচেতন মহল প্রশ্ন তুলছেন, সত্যিই যদি এত বিপুল পরিমাণ অবৈধ মালামাল ও মাদক উদ্ধার হয়ে থাকে, তবে কেন তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশি জব্দ তালিকা (সিজার লিস্ট) তৈরি করা হলো না? তাছাড়া অভিযুক্ত নারী ও উদ্ধারকৃত অবৈধ মালামালের কোনো হদিস না দিয়ে তাকে কীভাবে ছেড়ে দেওয়া হলো?অপরাধীদের আড়াল করতে এবং উদ্ধারকৃত সম্পদ আত্মসাৎ করতে নেপথ্যে কারা কলকাঠি নাড়লো? নেটিজেনরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলছেন, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি যখন চলমান, তখন প্রকাশ্যে মাদক ও বিপুল অঙ্কের টাকা ভাগ-বাটোয়ারার ঘটনা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবক্ষয়কেই নির্দেশ করে।
এসব অভিযোগ ও ধোঁয়াশার বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ খবর পাওয়ার পরপরই তৎপরতা চালিয়েছে। তিনি বলেন, "সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থলে একাধিকবার পুলিশ ফোর্স পাঠানো হয়েছে। তবে পুলিশ গিয়ে স্থানীয় কাউকে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য দিতে দেখেনি। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগও জমা পড়েনি। তবে বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি। তদন্তে ঘটনার সত্যতা ও মালামাল ভাগ-বাটোয়ারার প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িত প্রত্যেকে—তা সে যতই প্রভাবশালী হোক না কেন—তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
একটি দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সাথে জড়িত প্রভাবশালী চক্রটি বিষয়টি সম্পূর্ণ চেপে যাওয়ার জন্য নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, দ্রুত এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। উদ্ধারকৃত মালামাল উদ্ধারসহ সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় না আনলে এলাকায় মাদকের দৌরাত্ম্য আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। পুরো বিষয়টি নিয়ে এখন পুরো কিশোরগঞ্জ জেলাজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি ও তীব্র আইনি পদক্ষেপের প্রতীক্ষা বিরাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন