ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

আলীকদম সীমান্তে রাতের আঁধারে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের অভিযোগ, সক্রিয় মানবপাচারকারী চক্র



আলীকদম সীমান্তে রাতের আঁধারে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের অভিযোগ, সক্রিয় মানবপাচারকারী চক্র

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম সীমান্ত দিয়ে রাতের অন্ধকারে সংঘবদ্ধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে রোহিঙ্গারা—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। তাদের দাবি, সীমান্তের আনুষ্ঠানিক চৌকি এড়িয়ে ঝিরি, পাহাড়ি পথ ও বনাঞ্চল ব্যবহার করে মানবপাচারকারী একটি চক্র মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের সীমান্ত পার করে দেশের অভ্যন্তরে নিয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলীকদম উপজেলার ফাত্রা পাড়া, দোরিমুখ পাড়া ও সীমান্তসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকেই নেমে আসে নীরবতা। গভীর রাতে ঝিরিপথ ধরে ছোট ছোট দলে নারী-পুরুষের চলাচল লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয় ম্রো সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের দাবি, তারা মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা, যারা পাহাড়ি পথ ধরে ভেতরের দিকে চলে যায়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের ভাষ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত, খাদ্যসংকট ও কর্মসংস্থানের অভাবের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে অনুপ্রবেশ বেড়েছে। পাচারকারীরা বর্তমানে ফাত্রা পাড়া–দোরিমুখ–আলীকদম করিডর ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সীমান্ত থেকে আলীকদম বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫৪ কিলোমিটার দুর্গম পথ অতিক্রম করতে তাদের প্রায় দুই দিন সময় লাগে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গভীর রাতে সীমান্ত পার হওয়ার পর রোহিঙ্গাদের পাহাড়ি জঙ্গলে আশ্রয় দেওয়া হয়। পরে মোটরসাইকেলের মাধ্যমে ধাপে ধাপে আলীকদম বাজারের দিকে নেওয়া হয়। নিরাপত্তা চৌকি এড়াতে চেকপোস্টের আগে তাদের নামিয়ে বিকল্প পাহাড়ি পথ দিয়ে হাঁটিয়ে অপর পাশে আবার মোটরসাইকেলে তোলা হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সীমান্ত পারাপার ও যাতায়াতের জন্য প্রতিজনের কাছ থেকে কয়েক হাজার টাকা আদায় করা হয়। পুরো যাত্রাপথ মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণেই সম্পন্ন হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

স্থানীয়দের আরও দাবি, সীমান্ত পার হওয়ার আগে কয়েকজন রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে এসে পথ পর্যবেক্ষণ, মোটরসাইকেল ঠিক করা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর টহল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। এ কাজে কিছু স্থানীয় ব্যক্তিকেও অর্থের বিনিময়ে ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সীমান্ত পেরিয়ে আসা সবাই শরণার্থী শিবিরে না গিয়ে আলীকদম বাজার ও আশপাশের এলাকায় হোটেল, চায়ের দোকান, নির্মাণকাজ, কৃষি ও বনভিত্তিক বিভিন্ন শ্রমে কম মজুরিতে কাজ করছেন।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু রোহিঙ্গা ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশি পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করারও চেষ্টা করছে। এমন অভিযোগে সম্প্রতি আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও তিন ইউপি সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ম্রো সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা বলছেন, রাতের বেলায় রোহিঙ্গাদের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় পাহাড়ি গ্রামগুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দুর্গম সীমান্তে শতভাগ নজরদারি নিশ্চিত করা কঠিন হওয়ায় অনুপ্রবেশ রোধ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে রোহিঙ্গাদের প্রবেশ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


আলীকদম সীমান্তে রাতের আঁধারে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের অভিযোগ, সক্রিয় মানবপাচারকারী চক্র

প্রকাশের তারিখ : ১৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম সীমান্ত দিয়ে রাতের অন্ধকারে সংঘবদ্ধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে রোহিঙ্গারা—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। তাদের দাবি, সীমান্তের আনুষ্ঠানিক চৌকি এড়িয়ে ঝিরি, পাহাড়ি পথ ও বনাঞ্চল ব্যবহার করে মানবপাচারকারী একটি চক্র মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের সীমান্ত পার করে দেশের অভ্যন্তরে নিয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলীকদম উপজেলার ফাত্রা পাড়া, দোরিমুখ পাড়া ও সীমান্তসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকেই নেমে আসে নীরবতা। গভীর রাতে ঝিরিপথ ধরে ছোট ছোট দলে নারী-পুরুষের চলাচল লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয় ম্রো সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের দাবি, তারা মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা, যারা পাহাড়ি পথ ধরে ভেতরের দিকে চলে যায়।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের ভাষ্য, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাত, খাদ্যসংকট ও কর্মসংস্থানের অভাবের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে অনুপ্রবেশ বেড়েছে। পাচারকারীরা বর্তমানে ফাত্রা পাড়া–দোরিমুখ–আলীকদম করিডর ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সীমান্ত থেকে আলীকদম বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫৪ কিলোমিটার দুর্গম পথ অতিক্রম করতে তাদের প্রায় দুই দিন সময় লাগে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, গভীর রাতে সীমান্ত পার হওয়ার পর রোহিঙ্গাদের পাহাড়ি জঙ্গলে আশ্রয় দেওয়া হয়। পরে মোটরসাইকেলের মাধ্যমে ধাপে ধাপে আলীকদম বাজারের দিকে নেওয়া হয়। নিরাপত্তা চৌকি এড়াতে চেকপোস্টের আগে তাদের নামিয়ে বিকল্প পাহাড়ি পথ দিয়ে হাঁটিয়ে অপর পাশে আবার মোটরসাইকেলে তোলা হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সীমান্ত পারাপার ও যাতায়াতের জন্য প্রতিজনের কাছ থেকে কয়েক হাজার টাকা আদায় করা হয়। পুরো যাত্রাপথ মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণেই সম্পন্ন হয় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

স্থানীয়দের আরও দাবি, সীমান্ত পার হওয়ার আগে কয়েকজন রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে এসে পথ পর্যবেক্ষণ, মোটরসাইকেল ঠিক করা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর টহল সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। এ কাজে কিছু স্থানীয় ব্যক্তিকেও অর্থের বিনিময়ে ব্যবহার করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, সীমান্ত পেরিয়ে আসা সবাই শরণার্থী শিবিরে না গিয়ে আলীকদম বাজার ও আশপাশের এলাকায় হোটেল, চায়ের দোকান, নির্মাণকাজ, কৃষি ও বনভিত্তিক বিভিন্ন শ্রমে কম মজুরিতে কাজ করছেন।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু রোহিঙ্গা ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশি পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করারও চেষ্টা করছে। এমন অভিযোগে সম্প্রতি আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও তিন ইউপি সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ম্রো সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা বলছেন, রাতের বেলায় রোহিঙ্গাদের চলাচল বেড়ে যাওয়ায় পাহাড়ি গ্রামগুলোতে আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দুর্গম সীমান্তে শতভাগ নজরদারি নিশ্চিত করা কঠিন হওয়ায় অনুপ্রবেশ রোধ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে রোহিঙ্গাদের প্রবেশ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ