ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

কৃষিতে বাড়তি বরাদ্দ না হলে লক্ষ্য অর্জন কঠিন: রিজভী


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬

কৃষিতে বাড়তি বরাদ্দ না হলে লক্ষ্য অর্জন কঠিন: রিজভী
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কৃষি খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় আগামী দিনে এ খাতে আরও বেশি বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন।

সোমবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: কৃষি উন্নয়নের রূপরেখা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটে ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষকের মধ্যে কৃষি কার্ড বিতরণের লক্ষ্য একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তাঁর মতে, গ্রামীণ অর্থায়ন সহজ হলে কৃষির উৎপাদনশীলতা ও কৃষকের সক্ষমতা আরও বাড়বে।

নিজের কৃষি ব্যাংক ও রাকাবের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে কৃষিঋণ কর্মসূচি, যান্ত্রিকীকরণ, খাল খনন, পাওয়ার টিলারের ব্যবহার এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মতো উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

তিনি বলেন, চলতি বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দ গত বছরের তুলনায় কিছুটা বাড়লেও মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় সেই বৃদ্ধি পর্যাপ্ত নয়। দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৪০ শতাংশ কৃষির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এ খাতে আরও বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভীর ভাষ্য, জাতীয় বাজেটের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও কৃষি খাতে বরাদ্দ সেই অনুপাতে বাড়েনি। সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে কৃষিতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় কৃষি খাতের কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর ব্যাহত হতে পারে।

সম্প্রতি ভিয়েতনাম সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, দেশটি বাংলাদেশ থেকে এক লাখ মেট্রিক টন আলু আমদানিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছর ৩০ হাজার মেট্রিক টন আলু নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাজার আরও সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং অতিরিক্ত উৎপাদিত পণ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমবে।

কৃষি গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে রিজভী বলেন, দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক দক্ষ কৃষিবিদ বের হচ্ছেন। তাঁদের গবেষণা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারলে কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

তিনি কৃষিপণ্য সংরক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোরও আহ্বান জানান। তাঁর মতে, আলুর পাশাপাশি ফল ও সবজি দীর্ঘদিন সংরক্ষণের প্রযুক্তি দেশে বিস্তৃত করা গেলে মৌসুমি অতিরিক্ত উৎপাদনের অপচয় অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

এছাড়া পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের মতো কৃষিপণ্যের দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ লক্ষ্যে গবেষণা ও কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরামর্শ দেন।

রিজভী বলেন, ভারী শিল্পের কাঁচামালে সীমাবদ্ধতা থাকলেও কৃষিভিত্তিক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি হতে পারে। নিউজিল্যান্ড ও ডেনমার্কের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, কৃষিকে কেন্দ্র করে শিল্পায়নের মাধ্যমে এসব দেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশেও সেই সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষি খাত দুর্বল হলে খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই কৃষিতে আরও বিনিয়োগ, গবেষণা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষ জনবল তৈরিতে সরকারের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

সেমিনারে এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সারের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব কৃষিবিদ শাহাদত হোসেন বিপ্লবের সঞ্চালনায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহাম্মদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থসংস্থান ও ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আক্তারুজ্জামান খান, দীপ্ত টেলিভিশনের হেড অব নিউজ এস. এম. আকাশ, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ বিভিন্ন খাতের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


কৃষিতে বাড়তি বরাদ্দ না হলে লক্ষ্য অর্জন কঠিন: রিজভী

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

featured Image

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কৃষি খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় আগামী দিনে এ খাতে আরও বেশি বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন।

সোমবার রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (অ্যাব) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: কৃষি উন্নয়নের রূপরেখা ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটে ৪২ লাখ ৫০ হাজার কৃষকের মধ্যে কৃষি কার্ড বিতরণের লক্ষ্য একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তাঁর মতে, গ্রামীণ অর্থায়ন সহজ হলে কৃষির উৎপাদনশীলতা ও কৃষকের সক্ষমতা আরও বাড়বে।

নিজের কৃষি ব্যাংক ও রাকাবের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের পর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে কৃষিঋণ কর্মসূচি, যান্ত্রিকীকরণ, খাল খনন, পাওয়ার টিলারের ব্যবহার এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মতো উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

তিনি বলেন, চলতি বাজেটে কৃষি খাতে বরাদ্দ গত বছরের তুলনায় কিছুটা বাড়লেও মূল্যস্ফীতির বাস্তবতায় সেই বৃদ্ধি পর্যাপ্ত নয়। দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৪০ শতাংশ কৃষির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এ খাতে আরও বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রিজভীর ভাষ্য, জাতীয় বাজেটের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও কৃষি খাতে বরাদ্দ সেই অনুপাতে বাড়েনি। সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে হলে কৃষিতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় কৃষি খাতের কাঙ্ক্ষিত রূপান্তর ব্যাহত হতে পারে।

সম্প্রতি ভিয়েতনাম সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, দেশটি বাংলাদেশ থেকে এক লাখ মেট্রিক টন আলু আমদানিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছর ৩০ হাজার মেট্রিক টন আলু নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাজার আরও সম্প্রসারণ করা গেলে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং অতিরিক্ত উৎপাদিত পণ্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমবে।

কৃষি গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে রিজভী বলেন, দেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ থেকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক দক্ষ কৃষিবিদ বের হচ্ছেন। তাঁদের গবেষণা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারলে কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।

তিনি কৃষিপণ্য সংরক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোরও আহ্বান জানান। তাঁর মতে, আলুর পাশাপাশি ফল ও সবজি দীর্ঘদিন সংরক্ষণের প্রযুক্তি দেশে বিস্তৃত করা গেলে মৌসুমি অতিরিক্ত উৎপাদনের অপচয় অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে।

এছাড়া পেঁয়াজ, আদা ও রসুনের মতো কৃষিপণ্যের দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ লক্ষ্যে গবেষণা ও কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রম আরও জোরদার করার পরামর্শ দেন।

রিজভী বলেন, ভারী শিল্পের কাঁচামালে সীমাবদ্ধতা থাকলেও কৃষিভিত্তিক শিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি হতে পারে। নিউজিল্যান্ড ও ডেনমার্কের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, কৃষিকে কেন্দ্র করে শিল্পায়নের মাধ্যমে এসব দেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হয়েছে। বাংলাদেশেও সেই সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষি খাত দুর্বল হলে খাদ্যনিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও মূল্যস্ফীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই কৃষিতে আরও বিনিয়োগ, গবেষণা, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষ জনবল তৈরিতে সরকারের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

সেমিনারে এগ্রিকালচারিস্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক কৃষিবিদ ড. কামরুজ্জামান কায়সারের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব কৃষিবিদ শাহাদত হোসেন বিপ্লবের সঞ্চালনায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহাম্মদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থসংস্থান ও ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আক্তারুজ্জামান খান, দীপ্ত টেলিভিশনের হেড অব নিউজ এস. এম. আকাশ, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ বিভিন্ন খাতের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ