নারী ও শিশু

তাজমিন হত্যার ঘটনায় সিএনজি চালক গ্রেপ্তার, বড় অগ্রগতি

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা মামলায় বড় অগ্রগতি, চট্টগ্রাম থেকে চালক গ্রেপ্তার

⎙ প্রিন্ট
তাজমিন হত্যার ঘটনায় সিএনজি চালক গ্রেপ্তার, বড় অগ্রগতি
কুমিল্লার লালমাই এলাকায় একটি ধানক্ষেত থেকে স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুলিশ বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি অগ্রগতি অর্জন করেছে।
একই সঙ্গে হত্যা মামলার ঘটনায় সুমন নামের একজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালককে গ্রেপ্তার করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
গত শুক্রবার, অর্থাৎ ৯ অক্টোবর দুপুরের দিকে কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান এই তথ্যটি সাংবাদিকদের কাছে নিশ্চিত করেছেন পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই শুক্রবার সকালেই চট্টগ্রাম নগরীতে একটি অভিযান পরিচালনা করে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া এই ব্যক্তিই তাজমিনকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ছিলেন। তাকে এখন কুমিল্লার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পুলিশ সুপার জানান, এরপর একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে ১৫ বছর বয়সী তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাজমিন কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী ছিল। তার পরিবারের নিজস্ব বাড়ি যদিও যশোরে, তবু বাবার চাকরির কারণে তারা কুমিল্লার রেসকোর্স এলাকায় বসবাস করছিল। পরিবারের দেওয়া তথ্যমতে, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বেরিয়ে পড়েছিল তাজমিন। এরপর সে ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং কক্সবাজার গিয়েছিল বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত বুধবার, ৭ অক্টোবর রাত প্রায় পৌনে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা একটি বাসে করে সে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে পৌঁছায় সেখানে নূরজাহান হোটেলের সামনে বাস থেকে নামার পর তার চলাচলের কিছু দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ওই ফুটেজে তাকে কয়েকটি দোকানের দিকে এগিয়ে যেতে এবং একজন দোকানির সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। তবে সেখান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর সে আসলে কোথায় গিয়েছিল, কার সঙ্গে দেখা করেছিল এবং কীভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল—এমন নানা প্রশ্নের উত্তর তখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের স্থান থেকে কিছুটা দূরে একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা পাওয়া যায়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ঘটনাস্থলের আশপাশে ধস্তাধস্তির চিহ্নও পাওয়া গেছে। তবে এসব আলামতের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের পুরো ঘটনাপ্রবাহ এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাজমিনের বাবা আবদুল আলিম বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লালমাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। সিএনজিচালক সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ঠিকই, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ কিন্তু আদালতে কখনোই প্রমাণিত হয়নি। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ, ফরেনসিক আলামত এবং তদন্তের অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই ঠিক করা হবে ঘটনাটি আসলে কী কারণে ঘটেছে এবং এর সঙ্গে কোন কোন ব্যক্তি জড়িত ছিল, তাদের পরিচয় কী।

সম্পর্কিত সংবাদ