সামান্য বৃষ্টি নামলেই যেন বদলে যায় লোহাগড়া বাজার সংলগ্ন জয়পুর সুইচ গেট এলাকার চিত্র। একসময় নিরিবিলি থাকা এই স্থান মুহূর্তেই পরিণত হয় উৎসবমুখর জনসমাগমে, আর সেই উৎসবের মূল আকর্ষণ- মাছ ধরা।
বর্ষা মৌসুমে ছাতড়ার খাল থেকে নেমে আসা পানির প্রবল স্রোত জয়পুর সুইচ গেটে এসে জমা হয়। এই পানির সঙ্গে ভেসে আসে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ। স্রোতের টানে মাছগুলো সুইচ গেট এলাকায় আটকে পড়লে অল্প সময়ের মধ্যেই জায়গাটি মাছের এক অস্থায়ী ভাণ্ডারে পরিণত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আকাশে মেঘ জমে বৃষ্টি শুরু হলেই আশপাশের গ্রাম থেকে মানুষ জাল কাঁধে নিয়ে ছুটে আসেন এখানে। কেউ ছোট জাল, কেউ বড় জাল ও নিজ নিজ কৌশলে নেমে পড়েন মাছ ধরায়। সবচেয়ে বেশি ধরা পড়ে পুঁটি, কই, টেংরা সহ নানা দেশীয় প্রজাতির মাছ, যা স্থানীয়দের জন্য একদিকে যেমন আনন্দের, তেমনি বাড়তি আয়েরও সুযোগ তৈরি করে।
এই মাছ ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। এখানে কোনো ধরনের বিষ, বিদ্যুৎ বা ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার করা হয় না; শুধুমাত্র জালের মাধ্যমেই মাছ ধরা হয়। ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য অক্ষুণ্ণ থাকে এবং জলজ প্রাণবৈচিত্র্যের ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব পড়ে না।
তবে বিষয়টি কেবল মাছ ধরার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয়দের কাছে এটি এক ধরনের সামাজিক উৎসবে রূপ নিয়েছে। শিশু, তরুণ, বৃদ্ধ ও সব বয়সী মানুষ ভিড় করেন এখানে। কেউ মাছ ধরেন, কেউ দাঁড়িয়ে দেখেন, আবার কেউ গল্প-আড্ডায় মেতে ওঠেন। পুরো এলাকায় তৈরি হয় আনন্দঘন পরিবেশ, যা গ্রামীণ জীবনের সরল সৌন্দর্যকে নতুনভাবে তুলে ধরে।
প্রতিবছর বর্ষা এলেই জয়পুর সুইচ গেটে এমন দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটে। প্রাকৃতিক নিয়মে গড়ে ওঠা এই স্বতঃস্ফূর্ত আয়োজন ধীরে ধীরে স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। এটি শুধু বিনোদনের উৎস নয়, বরং গ্রামীণ মানুষের পারস্পরিক বন্ধন ও সম্প্রীতির এক জীবন্ত উদাহরণ।

শনিবার, ০৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬
সামান্য বৃষ্টি নামলেই যেন বদলে যায় লোহাগড়া বাজার সংলগ্ন জয়পুর সুইচ গেট এলাকার চিত্র। একসময় নিরিবিলি থাকা এই স্থান মুহূর্তেই পরিণত হয় উৎসবমুখর জনসমাগমে, আর সেই উৎসবের মূল আকর্ষণ- মাছ ধরা।
বর্ষা মৌসুমে ছাতড়ার খাল থেকে নেমে আসা পানির প্রবল স্রোত জয়পুর সুইচ গেটে এসে জমা হয়। এই পানির সঙ্গে ভেসে আসে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছ। স্রোতের টানে মাছগুলো সুইচ গেট এলাকায় আটকে পড়লে অল্প সময়ের মধ্যেই জায়গাটি মাছের এক অস্থায়ী ভাণ্ডারে পরিণত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আকাশে মেঘ জমে বৃষ্টি শুরু হলেই আশপাশের গ্রাম থেকে মানুষ জাল কাঁধে নিয়ে ছুটে আসেন এখানে। কেউ ছোট জাল, কেউ বড় জাল ও নিজ নিজ কৌশলে নেমে পড়েন মাছ ধরায়। সবচেয়ে বেশি ধরা পড়ে পুঁটি, কই, টেংরা সহ নানা দেশীয় প্রজাতির মাছ, যা স্থানীয়দের জন্য একদিকে যেমন আনন্দের, তেমনি বাড়তি আয়েরও সুযোগ তৈরি করে।
এই মাছ ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। এখানে কোনো ধরনের বিষ, বিদ্যুৎ বা ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার করা হয় না; শুধুমাত্র জালের মাধ্যমেই মাছ ধরা হয়। ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য অক্ষুণ্ণ থাকে এবং জলজ প্রাণবৈচিত্র্যের ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব পড়ে না।
তবে বিষয়টি কেবল মাছ ধরার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। স্থানীয়দের কাছে এটি এক ধরনের সামাজিক উৎসবে রূপ নিয়েছে। শিশু, তরুণ, বৃদ্ধ ও সব বয়সী মানুষ ভিড় করেন এখানে। কেউ মাছ ধরেন, কেউ দাঁড়িয়ে দেখেন, আবার কেউ গল্প-আড্ডায় মেতে ওঠেন। পুরো এলাকায় তৈরি হয় আনন্দঘন পরিবেশ, যা গ্রামীণ জীবনের সরল সৌন্দর্যকে নতুনভাবে তুলে ধরে।
প্রতিবছর বর্ষা এলেই জয়পুর সুইচ গেটে এমন দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটে। প্রাকৃতিক নিয়মে গড়ে ওঠা এই স্বতঃস্ফূর্ত আয়োজন ধীরে ধীরে স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। এটি শুধু বিনোদনের উৎস নয়, বরং গ্রামীণ মানুষের পারস্পরিক বন্ধন ও সম্প্রীতির এক জীবন্ত উদাহরণ।

আপনার মতামত লিখুন