জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজেকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোঃ আবু তাহের। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দেওয়া তার বক্তব্যকে ঘিরে সংসদে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়।
বক্তব্যে ডা. তাহের বলেন, বর্তমানে রাজাকার-আলবদর প্রসঙ্গকে রাজনৈতিকভাবে অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে এবং এটি এখন আর সমসাময়িক আলোচনার বিষয় নয়। তার মতে, আজকের সংসদে উপস্থিত কেউই সেই সময়ের রাজাকার বা আলবদর ছিল না।
তিনি নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে বলেন, তিনি জামায়াতে ইসলামীতে নেতৃত্ব পর্যায়ে আছেন এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিজেকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে দাবি করেন। তার এই বক্তব্য সংসদে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
ডা. তাহের বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তিনি সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাস করতেন। সেই সময় সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাতায়াতকারী মানুষদের সহায়তা করতেন এবং নিরাপদ আশ্রয় ও গাইড করার কাজে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্যে, তখন সেনা টহল চলাকালীন পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে তারা কিছু দায়িত্ব পালন করতেন।
তিনি আরও বলেন, ঐ সময়ের কর্মকাণ্ডকে সরাসরি মুক্তিযোদ্ধা বা অন্য কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে তুলনা করা ঠিক নয়। এ ধরনের ব্যাখ্যা ইতিহাসের বাস্তবতাকে বিকৃত করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংসদে দেওয়া তার বক্তব্যে তিনি অতীতের রাজনৈতিক বিতর্ক ও ইতিহাস টেনে এনে বর্তমান রাজনৈতিক আলোচনার প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী রাজনৈতিক বিভাজন নিয়ে তিনি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন।
তার এই বক্তব্য ঘিরে সংসদে উপস্থিত একাধিক সদস্য আপত্তি জানান। তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও তার সংজ্ঞা নিয়ে এমন মন্তব্য বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে এবং জাতীয় ঐক্যের জন্য সংবেদনশীল বিষয়কে বিতর্কিত করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংসদে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে ডা. তাহের নতুন ধরনের রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করার চেষ্টা করেছেন, যা ভবিষ্যতে আরও বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
এদিকে সংসদে মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস ও রাজনৈতিক পরিচয় সংক্রান্ত আলোচনায় উত্তেজনা বাড়ছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। বিভিন্ন দলের ভিন্ন অবস্থান এই বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলছে।
সংসদীয় সূত্র বলছে, এই বক্তব্যকে ঘিরে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত না এলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬
জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজেকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোঃ আবু তাহের। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দেওয়া তার বক্তব্যকে ঘিরে সংসদে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়।
বক্তব্যে ডা. তাহের বলেন, বর্তমানে রাজাকার-আলবদর প্রসঙ্গকে রাজনৈতিকভাবে অতিরঞ্জিত করা হচ্ছে এবং এটি এখন আর সমসাময়িক আলোচনার বিষয় নয়। তার মতে, আজকের সংসদে উপস্থিত কেউই সেই সময়ের রাজাকার বা আলবদর ছিল না।
তিনি নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে বলেন, তিনি জামায়াতে ইসলামীতে নেতৃত্ব পর্যায়ে আছেন এবং মুক্তিযুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিজেকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে দাবি করেন। তার এই বক্তব্য সংসদে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
ডা. তাহের বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে তিনি সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাস করতেন। সেই সময় সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাতায়াতকারী মানুষদের সহায়তা করতেন এবং নিরাপদ আশ্রয় ও গাইড করার কাজে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্যে, তখন সেনা টহল চলাকালীন পরিস্থিতিতে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে তারা কিছু দায়িত্ব পালন করতেন।
তিনি আরও বলেন, ঐ সময়ের কর্মকাণ্ডকে সরাসরি মুক্তিযোদ্ধা বা অন্য কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে তুলনা করা ঠিক নয়। এ ধরনের ব্যাখ্যা ইতিহাসের বাস্তবতাকে বিকৃত করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংসদে দেওয়া তার বক্তব্যে তিনি অতীতের রাজনৈতিক বিতর্ক ও ইতিহাস টেনে এনে বর্তমান রাজনৈতিক আলোচনার প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী রাজনৈতিক বিভাজন নিয়ে তিনি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করেন।
তার এই বক্তব্য ঘিরে সংসদে উপস্থিত একাধিক সদস্য আপত্তি জানান। তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও তার সংজ্ঞা নিয়ে এমন মন্তব্য বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে এবং জাতীয় ঐক্যের জন্য সংবেদনশীল বিষয়কে বিতর্কিত করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংসদে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে ডা. তাহের নতুন ধরনের রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করার চেষ্টা করেছেন, যা ভবিষ্যতে আরও বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
এদিকে সংসদে মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস ও রাজনৈতিক পরিচয় সংক্রান্ত আলোচনায় উত্তেজনা বাড়ছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। বিভিন্ন দলের ভিন্ন অবস্থান এই বিতর্ককে আরও জটিল করে তুলছে।
সংসদীয় সূত্র বলছে, এই বক্তব্যকে ঘিরে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত না এলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন