ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০টি পদের মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৪৯ জন প্রার্থীর নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য সম্বলিত গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ইসি সচিবের রুটিন দায়িত্বে থাকা কেএম আলী নেওয়াজ স্বাক্ষরিত গেজেটটি প্রকাশ করা হয়। বাকি একটি আসনের বিষয়ে এখনো জটিলতা থাকায় সেটির নিষ্পত্তি ইসির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান জানিয়েছেন, গেজেট প্রকাশের পর বিজয়ী ৪৯ জন সংসদ সদস্যের শপথ গ্রহণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য গেজেটের অনুলিপি সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হবে। এর মাধ্যমে নতুন সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার পথ সুগম হবে।
প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির ৩৬ জন প্রার্থী সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, বিলকিস ইসলাম, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, সানজিদা ইসলাম তুলি, শাম্মী আক্তারসহ আরও অনেকে।
এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে ৯ জন প্রার্থী সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন্নাহার মুন্নী, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা হান্নান, সাজেদা সামাদ, শামছুন্নাহার বেগম ও মারদিয়া মমতাজ। দলটির পক্ষ থেকে রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের পর সংসদে এই প্রথম বড় সংখ্যক নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হলো।
অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে একজন এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) থেকে একজন প্রার্থী সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র জোটের প্রার্থী হিসেবে সাবেক ছাত্রদল নেত্রী সুলতানা জেসমিন জুঁইও সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের একটি পদ নিয়ে এখনো আইনগত ও প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে। ওই আসনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য কমিশন প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের এ ধরনের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন রাজনৈতিক সমঝোতার একটি প্রতিফলন হলেও এতে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ বিস্তৃত হচ্ছে। তবে গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্নও থেকে যাচ্ছে।
নতুন সংসদ গঠনের প্রক্রিয়ায় এই গেজেট প্রকাশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।
বিষয় : জাতীয় সংসদ

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ মে ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০টি পদের মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৪৯ জন প্রার্থীর নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য সম্বলিত গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ইসি সচিবের রুটিন দায়িত্বে থাকা কেএম আলী নেওয়াজ স্বাক্ষরিত গেজেটটি প্রকাশ করা হয়। বাকি একটি আসনের বিষয়ে এখনো জটিলতা থাকায় সেটির নিষ্পত্তি ইসির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং ইসির যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান জানিয়েছেন, গেজেট প্রকাশের পর বিজয়ী ৪৯ জন সংসদ সদস্যের শপথ গ্রহণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য গেজেটের অনুলিপি সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হবে। এর মাধ্যমে নতুন সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার পথ সুগম হবে।
প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির ৩৬ জন প্রার্থী সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, বিলকিস ইসলাম, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, সানজিদা ইসলাম তুলি, শাম্মী আক্তারসহ আরও অনেকে।
এছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে ৯ জন প্রার্থী সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন্নাহার মুন্নী, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা হান্নান, সাজেদা সামাদ, শামছুন্নাহার বেগম ও মারদিয়া মমতাজ। দলটির পক্ষ থেকে রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের পর সংসদে এই প্রথম বড় সংখ্যক নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হলো।
অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে একজন এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) থেকে একজন প্রার্থী সংরক্ষিত আসনে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র জোটের প্রার্থী হিসেবে সাবেক ছাত্রদল নেত্রী সুলতানা জেসমিন জুঁইও সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের একটি পদ নিয়ে এখনো আইনগত ও প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে। ওই আসনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য কমিশন প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংরক্ষিত নারী আসনের এ ধরনের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন রাজনৈতিক সমঝোতার একটি প্রতিফলন হলেও এতে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ বিস্তৃত হচ্ছে। তবে গণতান্ত্রিক প্রতিযোগিতার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্নও থেকে যাচ্ছে।
নতুন সংসদ গঠনের প্রক্রিয়ায় এই গেজেট প্রকাশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।

আপনার মতামত লিখুন