ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

জুলাই অভ্যুত্থানকে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা অন্যায়: সংসদে ফজলুর রহমান


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

জুলাই অভ্যুত্থানকে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা অন্যায়: সংসদে ফজলুর রহমান

জাতীয় সংসদে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের তুলনা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান। তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাকে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করা অন্যায় এবং ইতিহাসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আগস্টে কোনো বিপ্লব হয়নি, বরং গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। যারা জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকে মুক্তিযুদ্ধের সমপর্যায়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন, তারা বাস্তবতা ও ইতিহাসকে বিকৃত করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফজলুর রহমান বলেন, “জুলাই-আগস্টে যারা শহিদ হয়েছেন, তাদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। আগস্ট মাসকে আমি ছোট করে দেখি না। তবে চব্বিশের আগস্ট মাসে কোনো বিপ্লব হয়নি। আগস্ট হয়েছে গণঅভ্যুত্থান। সেই গণঅভ্যুত্থানকে যারা মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করতে চায়, তাদের আমি বলব, এ কথাটা বলা অন্যায়।”

তিনি আরও বলেন, “হিমালয়ের সঙ্গে পিলার তুলনা করা যেমন, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ৫ আগস্টের তুলনা করা ঠিক তেমন।” তার এ বক্তব্যের পর সংসদে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান বলেন, তার বক্তব্যের পর কেউ কেউ দাবি করতে পারেন যে তারাও মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার বক্তব্যের পরে তারা বলবে আমরা কি মুক্তিযুদ্ধ করি নাই? বিরোধী দলে যারা বসে আছেন, অনেকেই আমাকে ফজা পাগলা বলে ডাকে, তারা নাকি সভ্য।”

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বিরোধী দলের নেতার সমালোচনাও করেন। তিনি বলেন, বিরোধী দলের নেতা নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য ও শহিদ পরিবারের লোক দাবি করেছেন, পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কথাও বলেছেন। এ প্রসঙ্গে ফজলুর রহমান মন্তব্য করেন, “এটা ডাবল অপরাধ।”

তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রশ্নে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সংসদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ঘিরে একাধিকবার উত্তপ্ত আলোচনা হয়েছে। এর আগে ‘জুলাই সনদ’ নিয়েও সংসদে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের ঐতিহাসিক অবস্থান এবং এর রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে দেশে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ এটিকে গণঅভ্যুত্থান হিসেবে দেখছেন, কেউবা বৃহত্তর গণজাগরণের অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। তবে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনার প্রশ্নে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভাজন স্পষ্ট হচ্ছে।

সংসদে ফজলুর রহমানের বক্তব্য সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের মতো জাতির সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের ইতিহাসের সঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনের তুলনা করা উচিত কি না, সে প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে।

জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, সব আন্দোলনের গুরুত্ব আছে, কিন্তু প্রতিটি ঘটনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আলাদা। সেই পার্থক্য অস্বীকার করলে জাতির ইতিহাস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিষয় : জাতীয় সংসদ

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


জুলাই অভ্যুত্থানকে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা অন্যায়: সংসদে ফজলুর রহমান

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

জাতীয় সংসদে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের তুলনা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান। তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাকে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করা অন্যায় এবং ইতিহাসের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, আগস্টে কোনো বিপ্লব হয়নি, বরং গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। যারা জুলাই-আগস্টের আন্দোলনকে মুক্তিযুদ্ধের সমপর্যায়ে দেখানোর চেষ্টা করছেন, তারা বাস্তবতা ও ইতিহাসকে বিকৃত করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফজলুর রহমান বলেন, “জুলাই-আগস্টে যারা শহিদ হয়েছেন, তাদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। আগস্ট মাসকে আমি ছোট করে দেখি না। তবে চব্বিশের আগস্ট মাসে কোনো বিপ্লব হয়নি। আগস্ট হয়েছে গণঅভ্যুত্থান। সেই গণঅভ্যুত্থানকে যারা মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনা করতে চায়, তাদের আমি বলব, এ কথাটা বলা অন্যায়।”

তিনি আরও বলেন, “হিমালয়ের সঙ্গে পিলার তুলনা করা যেমন, মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে ৫ আগস্টের তুলনা করা ঠিক তেমন।” তার এ বক্তব্যের পর সংসদে উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান বলেন, তার বক্তব্যের পর কেউ কেউ দাবি করতে পারেন যে তারাও মুক্তিযুদ্ধ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমার বক্তব্যের পরে তারা বলবে আমরা কি মুক্তিযুদ্ধ করি নাই? বিরোধী দলে যারা বসে আছেন, অনেকেই আমাকে ফজা পাগলা বলে ডাকে, তারা নাকি সভ্য।”

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বিরোধী দলের নেতার সমালোচনাও করেন। তিনি বলেন, বিরোধী দলের নেতা নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য ও শহিদ পরিবারের লোক দাবি করেছেন, পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কথাও বলেছেন। এ প্রসঙ্গে ফজলুর রহমান মন্তব্য করেন, “এটা ডাবল অপরাধ।”

তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রশ্নে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় সংসদে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ঘিরে একাধিকবার উত্তপ্ত আলোচনা হয়েছে। এর আগে ‘জুলাই সনদ’ নিয়েও সংসদে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের ঐতিহাসিক অবস্থান এবং এর রাজনৈতিক তাৎপর্য নিয়ে দেশে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ এটিকে গণঅভ্যুত্থান হিসেবে দেখছেন, কেউবা বৃহত্তর গণজাগরণের অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করছেন। তবে মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তুলনার প্রশ্নে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভাজন স্পষ্ট হচ্ছে।

সংসদে ফজলুর রহমানের বক্তব্য সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের মতো জাতির সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের ইতিহাসের সঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনের তুলনা করা উচিত কি না, সে প্রশ্ন আবারও সামনে এসেছে।

জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তার ভাষায়, সব আন্দোলনের গুরুত্ব আছে, কিন্তু প্রতিটি ঘটনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট আলাদা। সেই পার্থক্য অস্বীকার করলে জাতির ইতিহাস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ