বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৯০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব পালন করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয় এবং সেই বরাদ্দ থেকেই নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করা হচ্ছে।
সংসদে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসাব ধরে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ৬৭ দশমিক ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ। অর্থমন্ত্রী জানান, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, জ্বালানি, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে থাকে।
তিনি বলেন, বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় সরকার একটি পরিকল্পিত নীতি অনুসরণ করছে। প্রতি অর্থবছরের শুরুতে ঋণের কিস্তি, সুদ ও অন্যান্য দায় পরিশোধে কত অর্থ প্রয়োজন হতে পারে, তার একটি প্রক্ষেপণ তৈরি করা হয়। পরে জাতীয় বাজেটে সেই পরিমাণ অর্থ সংস্থান রাখা হয়। ফলে ঋণ পরিশোধে কোনো অনিশ্চয়তা তৈরি হয় না।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের আর্থিক সক্ষমতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার গুরুত্বপূর্ণ সূচক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে পারলে ভবিষ্যতে কম সুদে নতুন অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ বাড়ে এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে দেশের অবস্থান শক্তিশালী হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য বৈদেশিক ঋণ অস্বাভাবিক নয়। তবে ঋণের ব্যবহার কতটা উৎপাদনশীল খাতে হচ্ছে এবং ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা কতটা বাড়ছে, সেটিই মূল বিবেচ্য বিষয়। যদি ঋণের অর্থ অবকাঠামো, শিল্প, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপের প্রেক্ষাপটে ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারকে নতুন ঋণ গ্রহণ ও পুরোনো ঋণ পরিশোধ—দুই ক্ষেত্রেই সতর্ক থাকতে হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
সংসদে অর্থমন্ত্রী এও ইঙ্গিত দেন যে, সরকার ঋণ নির্ভরতা কমিয়ে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই রাখার দিকেও জোর দিচ্ছে। কারণ অভ্যন্তরীণ আয় বাড়াতে না পারলে ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের চাপ আরও বাড়তে পারে।
বর্তমান বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা রয়েছে। বিরোধী দল ও বিভিন্ন মহল ঋণের পরিমাণ, প্রকল্প ব্যয় এবং অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে প্রশ্ন তুললেও সরকার বলছে, ঋণের বড় অংশই উন্নয়নমূলক খাতে ব্যবহৃত হয়েছে এবং তা দেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।
অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামী দিনেও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ অব্যাহত থাকবে।
#আর
বিষয় : এস আলম

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬
বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৯০ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের পক্ষে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব পালন করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয় এবং সেই বরাদ্দ থেকেই নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করা হচ্ছে।
সংসদে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসাব ধরে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৭৮ হাজার ৬৭ দশমিক ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ। অর্থমন্ত্রী জানান, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, জ্বালানি, যোগাযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে থাকে।
তিনি বলেন, বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় সরকার একটি পরিকল্পিত নীতি অনুসরণ করছে। প্রতি অর্থবছরের শুরুতে ঋণের কিস্তি, সুদ ও অন্যান্য দায় পরিশোধে কত অর্থ প্রয়োজন হতে পারে, তার একটি প্রক্ষেপণ তৈরি করা হয়। পরে জাতীয় বাজেটে সেই পরিমাণ অর্থ সংস্থান রাখা হয়। ফলে ঋণ পরিশোধে কোনো অনিশ্চয়তা তৈরি হয় না।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের আর্থিক সক্ষমতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার গুরুত্বপূর্ণ সূচক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে পারলে ভবিষ্যতে কম সুদে নতুন অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ বাড়ে এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে দেশের অবস্থান শক্তিশালী হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য বৈদেশিক ঋণ অস্বাভাবিক নয়। তবে ঋণের ব্যবহার কতটা উৎপাদনশীল খাতে হচ্ছে এবং ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা কতটা বাড়ছে, সেটিই মূল বিবেচ্য বিষয়। যদি ঋণের অর্থ অবকাঠামো, শিল্প, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়াতে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপের প্রেক্ষাপটে ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারকে নতুন ঋণ গ্রহণ ও পুরোনো ঋণ পরিশোধ—দুই ক্ষেত্রেই সতর্ক থাকতে হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
সংসদে অর্থমন্ত্রী এও ইঙ্গিত দেন যে, সরকার ঋণ নির্ভরতা কমিয়ে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি টেকসই রাখার দিকেও জোর দিচ্ছে। কারণ অভ্যন্তরীণ আয় বাড়াতে না পারলে ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের চাপ আরও বাড়তে পারে।
বর্তমান বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা রয়েছে। বিরোধী দল ও বিভিন্ন মহল ঋণের পরিমাণ, প্রকল্প ব্যয় এবং অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে প্রশ্ন তুললেও সরকার বলছে, ঋণের বড় অংশই উন্নয়নমূলক খাতে ব্যবহৃত হয়েছে এবং তা দেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।
অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা রক্ষায় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামী দিনেও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ অব্যাহত থাকবে।
#আর

আপনার মতামত লিখুন