প্রায় দুই দশক পর নিজ জেলা বগুড়ায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটি তার প্রথম বগুড়া সফর হওয়ায় পুরো জেলাজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ‘ঘরের ছেলে’ দেশের সর্বোচ্চ পদে থেকে নিজ পৈতৃক এলাকায় ফিরছেন—এ খবরে স্থানীয়দের মধ্যে আবেগ, প্রত্যাশা ও উচ্ছ্বাস একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে।
সরকারি সফর অনুযায়ী আগামী সোমবার (২০ এপ্রিল) দিনব্যাপী কর্মসূচিতে বগুড়া সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ সফরে তিনি একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন, প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী সকাল ৬টায় রাজধানীর বাসভবন থেকে সড়কপথে বগুড়ার উদ্দেশে রওনা হবেন। সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি বগুড়া সার্কিট হাউসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এরপর সকাল ১১টায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নবনির্মিত আইনজীবী সমিতির ভবন উদ্বোধন এবং ‘ই-বেইলবন্ড’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি বগুড়া পৌরসভা কার্যালয়ে নবগঠিত ‘বগুড়া সিটি কর্পোরেশন’-এর ফলক উন্মোচন করবেন। এরপর গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীর উদ্দেশে রওনা হয়ে একাধিক উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সেখানে জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬-এর উদ্বোধন এবং শহিদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
দুপুরের দিকে নশিপুর এলাকায় চৌকিদহ খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী তার পৈতৃক বাড়ি ‘জিয়াবাড়ি’ পরিদর্শন করবেন। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর নিজের গ্রামের বাড়িতে তার আগমনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে বিশেষ আবেগ কাজ করছে।
বিকেলে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এই জনসভায় জেলার উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা ধারণা করছেন।
এরপর তিনি বগুড়া প্রেসক্লাবের নবনির্মিত ভবন এবং বাইতুর রহমান কেন্দ্রীয় মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন। সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ)-তে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির কথা রয়েছে।
প্রায় দুই দশক পর পৈতৃক এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে বগুড়ায় বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি শুধু রাজনৈতিক সফর নয়, বরং আবেগঘন এক প্রত্যাবর্তন।
গাবতলীর বাগবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা আবদুল করিম বলেন, ছোটবেলা থেকে তাকে দেখা। এখন তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে আমাদের গ্রামে আসছেন—এটি গর্বের বিষয়।
একই এলাকার গৃহিণী রহিমা খাতুন বলেন, অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করছি। কাছ থেকে দেখতে পারব—এটাই আনন্দ।
স্থানীয় যুবক রাশেদ হোসেন বলেন, এমন বড় কোনো নেতা আগে এভাবে আসেননি। নিজের বাড়িতে প্রধানমন্ত্রী আসা আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ঘটনা।
ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন বলেন, এই সফরের মাধ্যমে জেলার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আমরা আশা করছি। নতুন প্রকল্প এলে ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে রয়েছে এবং সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য বলেন, প্রায় ২০ বছর পর তিনি পৈতৃক এলাকায় আসছেন। এটি এলাকার মানুষের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ঘরের ছেলে আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে ফিরছেন—এটি আমাদের আবেগের বিষয়।
বিষয় : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রায় দুই দশক পর নিজ জেলা বগুড়ায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটি তার প্রথম বগুড়া সফর হওয়ায় পুরো জেলাজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ‘ঘরের ছেলে’ দেশের সর্বোচ্চ পদে থেকে নিজ পৈতৃক এলাকায় ফিরছেন—এ খবরে স্থানীয়দের মধ্যে আবেগ, প্রত্যাশা ও উচ্ছ্বাস একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে।
সরকারি সফর অনুযায়ী আগামী সোমবার (২০ এপ্রিল) দিনব্যাপী কর্মসূচিতে বগুড়া সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী। এ সফরে তিনি একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন, প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ এবং জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী সকাল ৬টায় রাজধানীর বাসভবন থেকে সড়কপথে বগুড়ার উদ্দেশে রওনা হবেন। সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি বগুড়া সার্কিট হাউসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এরপর সকাল ১১টায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে নবনির্মিত আইনজীবী সমিতির ভবন উদ্বোধন এবং ‘ই-বেইলবন্ড’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি বগুড়া পৌরসভা কার্যালয়ে নবগঠিত ‘বগুড়া সিটি কর্পোরেশন’-এর ফলক উন্মোচন করবেন। এরপর গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীর উদ্দেশে রওনা হয়ে একাধিক উন্নয়ন ও সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। সেখানে জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬-এর উদ্বোধন এবং শহিদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
দুপুরের দিকে নশিপুর এলাকায় চৌকিদহ খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী তার পৈতৃক বাড়ি ‘জিয়াবাড়ি’ পরিদর্শন করবেন। দীর্ঘ প্রায় ২০ বছর পর নিজের গ্রামের বাড়িতে তার আগমনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে বিশেষ আবেগ কাজ করছে।
বিকেলে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এই জনসভায় জেলার উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে বলে স্থানীয় নেতাকর্মীরা ধারণা করছেন।
এরপর তিনি বগুড়া প্রেসক্লাবের নবনির্মিত ভবন এবং বাইতুর রহমান কেন্দ্রীয় মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন। সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ)-তে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির কথা রয়েছে।
প্রায় দুই দশক পর পৈতৃক এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে বগুড়ায় বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি শুধু রাজনৈতিক সফর নয়, বরং আবেগঘন এক প্রত্যাবর্তন।
গাবতলীর বাগবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা আবদুল করিম বলেন, ছোটবেলা থেকে তাকে দেখা। এখন তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়ে আমাদের গ্রামে আসছেন—এটি গর্বের বিষয়।
একই এলাকার গৃহিণী রহিমা খাতুন বলেন, অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করছি। কাছ থেকে দেখতে পারব—এটাই আনন্দ।
স্থানীয় যুবক রাশেদ হোসেন বলেন, এমন বড় কোনো নেতা আগে এভাবে আসেননি। নিজের বাড়িতে প্রধানমন্ত্রী আসা আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ঘটনা।
ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেন বলেন, এই সফরের মাধ্যমে জেলার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আমরা আশা করছি। নতুন প্রকল্প এলে ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে রয়েছে এবং সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য বলেন, প্রায় ২০ বছর পর তিনি পৈতৃক এলাকায় আসছেন। এটি এলাকার মানুষের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ঘরের ছেলে আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে ফিরছেন—এটি আমাদের আবেগের বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন