তামিল সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয়ের আসন্ন সিনেমা ‘জন নায়গন’ মুক্তির আগেই পাইরেসি ঝড়ের মুখে পড়েছে। প্রথমে সিনেমাটির কিছু দৃশ্য ও গান অনলাইনে ফাঁস হওয়ার পর এবার সম্পূর্ণ সিনেমার এইচডি সংস্করণ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে দক্ষিণী চলচ্চিত্র অঙ্গনে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করার পর দ্রুত তদন্তে নামে সাইবার ক্রাইম উইং। তদন্তের প্রাথমিক ধাপে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে আটক করা হলে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়ায় নয়জনে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সিনেমার অবৈধ কপি সংগ্রহ ও অনলাইনে বিতরণের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুরো ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী একজন ফ্রিল্যান্স অ্যাসিস্ট্যান্ট এডিটর। তিনি একটি পোস্ট-প্রোডাকশন স্টুডিওতে অন্য একটি প্রকল্পে কাজ করছিলেন। সেই সুযোগে তিনি অনৈতিকভাবে ‘জন নায়গন’-এর এডিটিং রিলস অ্যাক্সেস করেন এবং সেখান থেকে ফুটেজ চুরি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে সেই চুরি করা উপকরণ ব্যবহার করে সিনেমাটির পূর্ণাঙ্গ পাইরেটেড সংস্করণ তৈরি করা হয়।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, ওই ফুটেজ পরে সহ-অভিযুক্তদের মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, ফেসবুক এবং ইউটিউবসহ একাধিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সিনেমাটির অবৈধ কপি। স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় প্রযোজনা সংস্থার বড় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করার পর জুডিশিয়াল কাস্টডিতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছে, এই পাইরেসি চক্রে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে ছড়িয়ে পড়া কনটেন্ট অপসারণের জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত ‘জন নায়গন’ সিনেমাটি মুক্তির আগেই ব্যাপক আলোচনায় ছিল। এটি থালাপতি বিজয়ের ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সিনেমাটি তার অভিনয় জীবনের শেষ কাজগুলোর একটি বলেও জানা গেছে। এরপর তিনি সম্পূর্ণভাবে রাজনীতিতে মনোনিবেশ করতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
পাইরেসি ঘটনার পর দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ডিজিটাল কনটেন্ট সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পোস্ট-প্রোডাকশন পর্যায়ে নিরাপত্তা দুর্বলতা এবং অ্যাক্সেস কন্ট্রোলের ঘাটতির কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।
#আর
বিষয় : বিজয় থালাপতি

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
তামিল সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয়ের আসন্ন সিনেমা ‘জন নায়গন’ মুক্তির আগেই পাইরেসি ঝড়ের মুখে পড়েছে। প্রথমে সিনেমাটির কিছু দৃশ্য ও গান অনলাইনে ফাঁস হওয়ার পর এবার সম্পূর্ণ সিনেমার এইচডি সংস্করণ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে দক্ষিণী চলচ্চিত্র অঙ্গনে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করার পর দ্রুত তদন্তে নামে সাইবার ক্রাইম উইং। তদন্তের প্রাথমিক ধাপে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে আরও তিনজনকে আটক করা হলে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়ায় নয়জনে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সিনেমার অবৈধ কপি সংগ্রহ ও অনলাইনে বিতরণের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুরো ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী একজন ফ্রিল্যান্স অ্যাসিস্ট্যান্ট এডিটর। তিনি একটি পোস্ট-প্রোডাকশন স্টুডিওতে অন্য একটি প্রকল্পে কাজ করছিলেন। সেই সুযোগে তিনি অনৈতিকভাবে ‘জন নায়গন’-এর এডিটিং রিলস অ্যাক্সেস করেন এবং সেখান থেকে ফুটেজ চুরি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে সেই চুরি করা উপকরণ ব্যবহার করে সিনেমাটির পূর্ণাঙ্গ পাইরেটেড সংস্করণ তৈরি করা হয়।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, ওই ফুটেজ পরে সহ-অভিযুক্তদের মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম, ফেসবুক এবং ইউটিউবসহ একাধিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সিনেমাটির অবৈধ কপি। স্বল্প সময়ের মধ্যেই বিষয়টি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় প্রযোজনা সংস্থার বড় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করার পর জুডিশিয়াল কাস্টডিতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছে, এই পাইরেসি চক্রে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে ছড়িয়ে পড়া কনটেন্ট অপসারণের জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত ‘জন নায়গন’ সিনেমাটি মুক্তির আগেই ব্যাপক আলোচনায় ছিল। এটি থালাপতি বিজয়ের ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সিনেমাটি তার অভিনয় জীবনের শেষ কাজগুলোর একটি বলেও জানা গেছে। এরপর তিনি সম্পূর্ণভাবে রাজনীতিতে মনোনিবেশ করতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
পাইরেসি ঘটনার পর দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ডিজিটাল কনটেন্ট সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পোস্ট-প্রোডাকশন পর্যায়ে নিরাপত্তা দুর্বলতা এবং অ্যাক্সেস কন্ট্রোলের ঘাটতির কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।
#আর

আপনার মতামত লিখুন