বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি আবারও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করেছে ইরান। ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, লেবাননকে ঘিরে চলমান যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে। তবে জাহাজগুলোকে ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সমন্বিত রুট ব্যবহার করতে হবে।
ইরানের এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তেলের দাম ১১ শতাংশের বেশি কমে যায় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা কমায় বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কাও হ্রাস পেয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান এবং ইরানকে ধন্যবাদ জানান। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এ ধরনের বার্তা কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ৩টা থেকে ইসরায়েল ও লেবানন ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছিল। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনাতেও প্রভাব ফেলছিল।
গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেও দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। ওই সমঝোতার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দেয় ইরান। তবে পরে চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ অভিযোগ করেন, লেবাননে ইসরায়েলের অভিযান চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়ে ওয়াশিংটন যুদ্ধবিরতি চুক্তির চেতনা লঙ্ঘন করেছে। এই অভিযোগের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়।
চুক্তি নিয়ে মতবিরোধের কারণে গত কয়েকদিন ধরে হরমুজ প্রণালিতে কার্যত সীমিত চলাচল চলছিল। প্রতিদিন মাত্র কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ ওই জলপথ ব্যবহার করতে পারছিল। এতে তেল পরিবহন, পণ্য সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে চাপ সৃষ্টি হয়।
বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে তেল পরিবহনের বড় একটি অংশ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই প্রণালিতে সামান্য অস্থিরতাও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে তেলের দাম, জাহাজ ভাড়া, বীমা ব্যয় এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে এর প্রভাব পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের নতুন ঘোষণায় অন্তত সাময়িকভাবে উত্তেজনা কমবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করবে। তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
#আর
বিষয় : হরমুজ প্রণালী

শনিবার, ০২ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি আবারও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করেছে ইরান। ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, লেবাননকে ঘিরে চলমান যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে। তবে জাহাজগুলোকে ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত সমন্বিত রুট ব্যবহার করতে হবে।
ইরানের এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তাৎক্ষণিক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তেলের দাম ১১ শতাংশের বেশি কমে যায় বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা কমায় বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কাও হ্রাস পেয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান এবং ইরানকে ধন্যবাদ জানান। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এ ধরনের বার্তা কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ৩টা থেকে ইসরায়েল ও লেবানন ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মধ্যে হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছিল। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনাতেও প্রভাব ফেলছিল।
গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেও দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। ওই সমঝোতার অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দেয় ইরান। তবে পরে চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ অভিযোগ করেন, লেবাননে ইসরায়েলের অভিযান চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়ে ওয়াশিংটন যুদ্ধবিরতি চুক্তির চেতনা লঙ্ঘন করেছে। এই অভিযোগের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়।
চুক্তি নিয়ে মতবিরোধের কারণে গত কয়েকদিন ধরে হরমুজ প্রণালিতে কার্যত সীমিত চলাচল চলছিল। প্রতিদিন মাত্র কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ ওই জলপথ ব্যবহার করতে পারছিল। এতে তেল পরিবহন, পণ্য সরবরাহ ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে চাপ সৃষ্টি হয়।
বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে তেল পরিবহনের বড় একটি অংশ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। ফলে এই প্রণালিতে সামান্য অস্থিরতাও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে তেলের দাম, জাহাজ ভাড়া, বীমা ব্যয় এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে এর প্রভাব পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের নতুন ঘোষণায় অন্তত সাময়িকভাবে উত্তেজনা কমবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করবে। তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
#আর

আপনার মতামত লিখুন