চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয়দের হামলার ঘটনা আবারও ঘটেছে। ক্যাম্পাসে ফেরার পথে অতর্কিত এ হামলায় যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং গভীর রাতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন সময় টিভির বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও শহিদ ফরহাদ হোসেন হল সংসদ সদস্য জাহিন আবির, আলিমূল শামীম এবং আশিকুর রহমান। এর মধ্যে গুরুতর আহত জাহিন আবিরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহত আশিকুর রহমানকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সহপাঠীদের ভাষ্য অনুযায়ী, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাতজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ইসলামিয়া হোটেলে খাবার শেষে ৩ নম্বর বাসে করে ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন। বাসে ওঠার সময় তাদের মধ্যে কথাবার্তা ও কিছুটা চিৎকার-চেঁচামেচি হলে স্থানীয় এক ব্যক্তি এর কারণ জানতে চান। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় জাহিন আবির ঘটনার ভিডিও ধারণের জন্য ক্যামেরা বের করলে হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে কাঠ দিয়ে আঘাত করে। পরে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান বলেন, আমরা বাসে উঠছিলাম। তখন স্থানীয় একজন চিৎকারের কারণ জানতে চায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা হামলা শুরু করে। জাহিন ভাই ভিডিও করতে গেলে তাকে আঘাত করা হয়।
ঘটনার পর আহতদের দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আবুল কাশেম জানান, জাহিন আবিরের বাম হাতের উপরের অংশে গুরুতর আঘাত লেগেছে। তার এক্স-রে প্রয়োজন হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আশিকুর রহমানের ঘাড় ও হাতে আঘাত রয়েছে। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের একজন মোহাম্মদ ইমন, যিনি স্থানীয় ফকিরাহাট এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে আগেও থানায় অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এর আগেও এ ধরনের ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
হামলার প্রতিবাদে রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। এ সময় শিক্ষার্থীরা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে চাকসুর সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক হারেজুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। বারবার শিক্ষার্থীরা হামলার শিকার হচ্ছেন। প্রতিবার আশ্বাস দেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
শহিদ ফরহাদ হোসেন হলের ভিপি মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন, অপরাধীদের শাস্তি না হওয়ায় এমন হামলা বারবার ঘটছে। প্রতিটি ঘটনার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়, কিন্তু পরে তারা আবার এলাকায় ঘুরে বেড়ায়।
শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করা হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথ ও আশপাশের এলাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানানো হয়েছে।
#আর
বিষয় : চবি

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয়দের হামলার ঘটনা আবারও ঘটেছে। ক্যাম্পাসে ফেরার পথে অতর্কিত এ হামলায় যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং গভীর রাতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন সময় টিভির বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ও শহিদ ফরহাদ হোসেন হল সংসদ সদস্য জাহিন আবির, আলিমূল শামীম এবং আশিকুর রহমান। এর মধ্যে গুরুতর আহত জাহিন আবিরকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর আহত আশিকুর রহমানকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সহপাঠীদের ভাষ্য অনুযায়ী, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাতজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ইসলামিয়া হোটেলে খাবার শেষে ৩ নম্বর বাসে করে ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন। বাসে ওঠার সময় তাদের মধ্যে কথাবার্তা ও কিছুটা চিৎকার-চেঁচামেচি হলে স্থানীয় এক ব্যক্তি এর কারণ জানতে চান। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় জাহিন আবির ঘটনার ভিডিও ধারণের জন্য ক্যামেরা বের করলে হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে কাঠ দিয়ে আঘাত করে। পরে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান বলেন, আমরা বাসে উঠছিলাম। তখন স্থানীয় একজন চিৎকারের কারণ জানতে চায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা হামলা শুরু করে। জাহিন ভাই ভিডিও করতে গেলে তাকে আঘাত করা হয়।
ঘটনার পর আহতদের দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আবুল কাশেম জানান, জাহিন আবিরের বাম হাতের উপরের অংশে গুরুতর আঘাত লেগেছে। তার এক্স-রে প্রয়োজন হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আশিকুর রহমানের ঘাড় ও হাতে আঘাত রয়েছে। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের একজন মোহাম্মদ ইমন, যিনি স্থানীয় ফকিরাহাট এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে আগেও থানায় অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এর আগেও এ ধরনের ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
হামলার প্রতিবাদে রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। এ সময় শিক্ষার্থীরা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে চাকসুর সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রকাশনা সম্পাদক হারেজুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। বারবার শিক্ষার্থীরা হামলার শিকার হচ্ছেন। প্রতিবার আশ্বাস দেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।
শহিদ ফরহাদ হোসেন হলের ভিপি মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন, অপরাধীদের শাস্তি না হওয়ায় এমন হামলা বারবার ঘটছে। প্রতিটি ঘটনার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়, কিন্তু পরে তারা আবার এলাকায় ঘুরে বেড়ায়।
শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার না করা হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথ ও আশপাশের এলাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানানো হয়েছে।
#আর

আপনার মতামত লিখুন