ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

রাজশাহীতে হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু



রাজশাহীতে হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু
ছবি : প্রতিনিধি

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনার ফলে হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ জনে। একই সময়ে নতুন আক্রান্ত শিশুদের ভর্তি অব্যাহত থাকায় চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে ১৩৮ জনে পৌঁছেছে।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রবিবার (৫ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে আরও ২০ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে চিকিৎসার মাধ্যমে পাঁচজন শিশুকে সুস্থ করে বাড়ি ফিরানো সম্ভব হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি সময়ে মোট ৪১১ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে রামেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য উদ্বেগজনক। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের হার বেশি।

চিকিৎসকরা বলেন, হামের সংক্রমণের দ্রুত বিস্তার মৌসুমি পরিবর্তন, টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি এবং সচেতনতার অভাবের কারণে হচ্ছে। শিশুদের মধ্যে জ্বর, ফুসকুড়ি, কাশি, চোখ লাল হওয়া বা অন্যান্য লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

রামেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা সেবায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। রোগীদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে অতিরিক্ত দায়িত্বশীল স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলেছেন, “শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে। হামের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।”

হাসপাতাল প্রশাসন এবং জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছেন, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। পাশাপাশি তারা সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে এবং শিশুদের প্রাণহানি কমানো যায়।

সাধারণ মানুষকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে, শিশুদের ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে। স্বাস্থ্যকর্মীরা গ্রামাঞ্চলে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন এবং রোগের সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করছেন।

এই ঘটনায় স্বাস্থ্য প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনও নজরদারি বাড়িয়েছে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অতিরিক্ত বেড, চিকিৎসক এবং নার্স মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জরুরি অবস্থা মোকাবেলায় হাসপাতালের প্রশাসন অতিরিক্ত চিকিৎসা সামগ্রী ও ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।

এই পরিস্থিতি হামের সংক্রমণের গুরুত্ব এবং সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা আবারও প্রমাণ করছে। অভিভাবকদের বলা হচ্ছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ করা শিশুদের জীবন রক্ষায় সহায়ক হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬


রাজশাহীতে হামের উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনার ফলে হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২ জনে। একই সময়ে নতুন আক্রান্ত শিশুদের ভর্তি অব্যাহত থাকায় চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে ১৩৮ জনে পৌঁছেছে।

রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রবিবার (৫ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে আরও ২০ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তবে চিকিৎসার মাধ্যমে পাঁচজন শিশুকে সুস্থ করে বাড়ি ফিরানো সম্ভব হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি সময়ে মোট ৪১১ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে রামেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য উদ্বেগজনক। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের হার বেশি।

চিকিৎসকরা বলেন, হামের সংক্রমণের দ্রুত বিস্তার মৌসুমি পরিবর্তন, টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি এবং সচেতনতার অভাবের কারণে হচ্ছে। শিশুদের মধ্যে জ্বর, ফুসকুড়ি, কাশি, চোখ লাল হওয়া বা অন্যান্য লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

রামেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসা সেবায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। রোগীদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে অতিরিক্ত দায়িত্বশীল স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা বলেছেন, “শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে। হামের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া গেলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।”

হাসপাতাল প্রশাসন এবং জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছেন, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। পাশাপাশি তারা সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে না পড়ে এবং শিশুদের প্রাণহানি কমানো যায়।

সাধারণ মানুষকে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে, শিশুদের ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে। স্বাস্থ্যকর্মীরা গ্রামাঞ্চলে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন এবং রোগের সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানোর চেষ্টা করছেন।

এই ঘটনায় স্বাস্থ্য প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনও নজরদারি বাড়িয়েছে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অতিরিক্ত বেড, চিকিৎসক এবং নার্স মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জরুরি অবস্থা মোকাবেলায় হাসপাতালের প্রশাসন অতিরিক্ত চিকিৎসা সামগ্রী ও ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।

এই পরিস্থিতি হামের সংক্রমণের গুরুত্ব এবং সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা আবারও প্রমাণ করছে। অভিভাবকদের বলা হচ্ছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ করা শিশুদের জীবন রক্ষায় সহায়ক হবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ