পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি-তে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার একটি বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্লাড ব্যাংকের অভাব। জেলার সরকারি ও বেসরকারি কোনো হাসপাতালেই এখনো কার্যকর ব্লাড ব্যাংক স্থাপিত হয়নি। ফলে দুর্ঘটনা, প্রসূতি জটিলতা, জরুরি অস্ত্রোপচার বা থ্যালাসেমিয়া রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় রক্ত সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সময়মতো রক্তের ব্যবস্থা না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে রোগীর জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ে যাচ্ছে। স্থানীয় সংবাদসূত্রেও উল্লেখ করা হয়েছে যে জেলায় বহু হাসপাতাল থাকলেও কোনো ব্লাড ব্যাংক না থাকায় জরুরি রক্ত সংগ্রহে রোগীদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে।
খাগড়াছড়ি জেলায় প্রায় সাত লাখ মানুষের বসবাস। শুধু এই জেলার মানুষই নয়, পাশের রাঙামাটি জেলার লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার অনেক বাসিন্দাও চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে আসেন। কিন্তু সেখানে রক্ত সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় রেফ্রিজারেটর বা ব্লাড ব্যাংক না থাকায় জরুরি মুহূর্তে রোগীদের জন্য রক্ত সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। ফলে রোগীর স্বজনদের বাইরে থেকে রক্তদাতা খুঁজে এনে রক্ত সংগ্রহ করতে হয়, যা অনেক সময় দীর্ঘ বিলম্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
জেলা সদরের কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা নির্ঝরা খীসা ও সুজেস চাকমা জানান, তাদের এক প্রসূতি রোগীর জন্য দুই ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হলেও হাসপাতালে কোনো রক্ত পাওয়া যায়নি। পরে বাইরে থেকে রক্তদাতা সংগ্রহ করে রক্তের ব্যবস্থা করতে হয়েছে। তাদের মতে, সাধারণ রোগীদের কথা বিবেচনা করে খাগড়াছড়ি হাসপাতালে দ্রুত একটি ব্লাড ব্যাংক চালু করা প্রয়োজন।
খাগড়াছড়ি যুব রেড ক্রিসেন্টের স্বাস্থ্য ও সেবা বিভাগের প্রধান মো. জাহিদুল আলম বলেন, দুর্গম পার্বত্য এলাকায় দুর্ঘটনা বা গুরুতর রোগীর ক্ষেত্রে রাতের বেলায় দ্রুত রক্তের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সংরক্ষিত রক্ত না থাকায় অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবে রোগীকে সহায়তা করা সম্ভব হয় না। তিনি জানান, রক্ত সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় রেফ্রিজারেটর স্থাপনের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সংগঠনের প্রায় দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবককে রক্তদানের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. বাপ্পি চাকমা বলেন, বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের জরুরি রক্তের প্রয়োজন হলেও হাসপাতালে তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে গভীর রাতে রোগী এলে তাৎক্ষণিকভাবে রক্তের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো পর্যাপ্ত বরাদ্দ পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি খাগড়াছড়ি ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান মো. দুলাল হোসেন বলেন, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের কারণে গুরুতর অসুস্থ বা আহত রোগীকে দ্রুত ঢাকা বা চট্টগ্রাম-এ স্থানান্তর করা অনেক সময় সম্ভব হয় না। তাই প্রসূতি রোগী, দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি ও অন্যান্য গুরুতর রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে খাগড়াছড়িতে একটি আধুনিক ব্লাড ব্যাংক স্থাপন অত্যন্ত জরুরি।
খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের জানান, ব্লাড ব্যাংক না থাকায় প্রত্যন্ত এলাকার অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তার মতে, নতুন আড়াইশ শয্যার হাসপাতালের নির্মাণকাজ শেষ হলে সেখানে ব্লাড ব্যাংক স্থাপনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, খাগড়াছড়িতে দ্রুত একটি আধুনিক ও কার্যকর ব্লাড ব্যাংক স্থাপন করা গেলে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার বড় একটি সংকট দূর হবে এবং অনেক রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মার্চ ২০২৬
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি-তে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার একটি বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্লাড ব্যাংকের অভাব। জেলার সরকারি ও বেসরকারি কোনো হাসপাতালেই এখনো কার্যকর ব্লাড ব্যাংক স্থাপিত হয়নি। ফলে দুর্ঘটনা, প্রসূতি জটিলতা, জরুরি অস্ত্রোপচার বা থ্যালাসেমিয়া রোগীদের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় রক্ত সংগ্রহ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, সময়মতো রক্তের ব্যবস্থা না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে রোগীর জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ে যাচ্ছে। স্থানীয় সংবাদসূত্রেও উল্লেখ করা হয়েছে যে জেলায় বহু হাসপাতাল থাকলেও কোনো ব্লাড ব্যাংক না থাকায় জরুরি রক্ত সংগ্রহে রোগীদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে দৌড়ঝাঁপ করতে হচ্ছে।
খাগড়াছড়ি জেলায় প্রায় সাত লাখ মানুষের বসবাস। শুধু এই জেলার মানুষই নয়, পাশের রাঙামাটি জেলার লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার অনেক বাসিন্দাও চিকিৎসার জন্য খাগড়াছড়ি আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে আসেন। কিন্তু সেখানে রক্ত সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় রেফ্রিজারেটর বা ব্লাড ব্যাংক না থাকায় জরুরি মুহূর্তে রোগীদের জন্য রক্ত সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। ফলে রোগীর স্বজনদের বাইরে থেকে রক্তদাতা খুঁজে এনে রক্ত সংগ্রহ করতে হয়, যা অনেক সময় দীর্ঘ বিলম্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
জেলা সদরের কলেজপাড়া এলাকার বাসিন্দা নির্ঝরা খীসা ও সুজেস চাকমা জানান, তাদের এক প্রসূতি রোগীর জন্য দুই ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হলেও হাসপাতালে কোনো রক্ত পাওয়া যায়নি। পরে বাইরে থেকে রক্তদাতা সংগ্রহ করে রক্তের ব্যবস্থা করতে হয়েছে। তাদের মতে, সাধারণ রোগীদের কথা বিবেচনা করে খাগড়াছড়ি হাসপাতালে দ্রুত একটি ব্লাড ব্যাংক চালু করা প্রয়োজন।
খাগড়াছড়ি যুব রেড ক্রিসেন্টের স্বাস্থ্য ও সেবা বিভাগের প্রধান মো. জাহিদুল আলম বলেন, দুর্গম পার্বত্য এলাকায় দুর্ঘটনা বা গুরুতর রোগীর ক্ষেত্রে রাতের বেলায় দ্রুত রক্তের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সংরক্ষিত রক্ত না থাকায় অনেক সময় তাৎক্ষণিকভাবে রোগীকে সহায়তা করা সম্ভব হয় না। তিনি জানান, রক্ত সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় রেফ্রিজারেটর স্থাপনের বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তবে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সংগঠনের প্রায় দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবককে রক্তদানের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. বাপ্পি চাকমা বলেন, বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের জরুরি রক্তের প্রয়োজন হলেও হাসপাতালে তা সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে গভীর রাতে রোগী এলে তাৎক্ষণিকভাবে রক্তের ব্যবস্থা করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো পর্যাপ্ত বরাদ্দ পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি খাগড়াছড়ি ইউনিটের ভাইস চেয়ারম্যান মো. দুলাল হোসেন বলেন, দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের কারণে গুরুতর অসুস্থ বা আহত রোগীকে দ্রুত ঢাকা বা চট্টগ্রাম-এ স্থানান্তর করা অনেক সময় সম্ভব হয় না। তাই প্রসূতি রোগী, দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি ও অন্যান্য গুরুতর রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে খাগড়াছড়িতে একটি আধুনিক ব্লাড ব্যাংক স্থাপন অত্যন্ত জরুরি।
খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের জানান, ব্লাড ব্যাংক না থাকায় প্রত্যন্ত এলাকার অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তার মতে, নতুন আড়াইশ শয্যার হাসপাতালের নির্মাণকাজ শেষ হলে সেখানে ব্লাড ব্যাংক স্থাপনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, খাগড়াছড়িতে দ্রুত একটি আধুনিক ও কার্যকর ব্লাড ব্যাংক স্থাপন করা গেলে জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থার বড় একটি সংকট দূর হবে এবং অনেক রোগীর জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন