রাজবাড়ীর পদ্মা নদী শুষ্ক মৌসুমে শীর্ণ খালের আকার ধারণ করেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার প্রায় ৫০ কিলোমিটারজুড়ে নদীতে চর জেগে উঠায় নদী সরু হয়ে গেছে এবং তার গতিপ্রকৃতি বদলে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় নদী পারাপার ও জলসীমার ব্যবহার কার্যত কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কিছুদিনের মধ্যেই নদী পায়ে হেঁটে পার হওয়া সম্ভব হবে।
এলাকার প্রবীণ আব্দুল হাকিম মণ্ডল জানান, ৩০ বছর আগে শুষ্ক মৌসুমে এমন সংকট ছিল না। নদীর গতি-প্রকৃতির পরিবর্তন ঘটলেও নাব্য সংকট দেখা দেয়নি। তবে গত তিন-চার বছরে নদীর পানি স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, ফলে কৃষকরা ফসল ও মালামাল নদীর ওপার থেকে আনার জন্য অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি বলেন, পূর্বে নদী পার হতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগত; এখন তা মাত্র ১৫–২০ মিনিটে সম্ভব হলেও পায়ে হেঁটে বা ঘোড়া-মহিষের গাড়িতে পারাপার করতে হয়।
নদীর শুষ্কতার কারণে চরাঞ্চলের কৃষকরা তাদের গবাদি পশুদের গোসল ও পানি খাওয়ানোর জন্য দূরদূরান্ত থেকে পানি আনতে বাধ্য হচ্ছেন। আব্দুর রহিম নামের এক কৃষক জানান, পানির স্তর এত কমে গেছে যে টিউবওয়েলেও পানি উঠছে না।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাজবাড়ীর সদর বিভাগীয় প্রকৌশলী সুব্রত কুমার জানান, নদীর শুকিয়ে যাওয়ার মূল কারণ হলো উজান থেকে পানির প্রবাহ কমে যাওয়া এবং সারফেস লেবেলের ধারণক্ষমতা কমে যাওয়া। তিনি আরও বলেন, উজানের ফারাক্কার পানি কম ছাড়ার ফলে প্রধান নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, যা শাখা নদীগুলোকেও প্রভাবিত করছে। এ পরিস্থিতিতে নদীর নাব্য সংকট ও জলাশয় শুকিয়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক। বোর্ড এই বিষয়ে জরিপ চালাচ্ছে এবং রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রকৃত তথ্য জানা যাবে।
স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, নদীর পানি আরও কমে গেলে কৃষি ও গবাদি পশুর জন্য পানির সংকট তীব্র হবে এবং নদীর নাব্যহীনতা এলাকায় পরিবহন ও জীবিকা কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজবাড়ীর পদ্মা নদী শুষ্ক মৌসুমে শীর্ণ খালের আকার ধারণ করেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার প্রায় ৫০ কিলোমিটারজুড়ে নদীতে চর জেগে উঠায় নদী সরু হয়ে গেছে এবং তার গতিপ্রকৃতি বদলে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় নদী পারাপার ও জলসীমার ব্যবহার কার্যত কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কিছুদিনের মধ্যেই নদী পায়ে হেঁটে পার হওয়া সম্ভব হবে।
এলাকার প্রবীণ আব্দুল হাকিম মণ্ডল জানান, ৩০ বছর আগে শুষ্ক মৌসুমে এমন সংকট ছিল না। নদীর গতি-প্রকৃতির পরিবর্তন ঘটলেও নাব্য সংকট দেখা দেয়নি। তবে গত তিন-চার বছরে নদীর পানি স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, ফলে কৃষকরা ফসল ও মালামাল নদীর ওপার থেকে আনার জন্য অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। তিনি বলেন, পূর্বে নদী পার হতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লাগত; এখন তা মাত্র ১৫–২০ মিনিটে সম্ভব হলেও পায়ে হেঁটে বা ঘোড়া-মহিষের গাড়িতে পারাপার করতে হয়।
নদীর শুষ্কতার কারণে চরাঞ্চলের কৃষকরা তাদের গবাদি পশুদের গোসল ও পানি খাওয়ানোর জন্য দূরদূরান্ত থেকে পানি আনতে বাধ্য হচ্ছেন। আব্দুর রহিম নামের এক কৃষক জানান, পানির স্তর এত কমে গেছে যে টিউবওয়েলেও পানি উঠছে না।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের রাজবাড়ীর সদর বিভাগীয় প্রকৌশলী সুব্রত কুমার জানান, নদীর শুকিয়ে যাওয়ার মূল কারণ হলো উজান থেকে পানির প্রবাহ কমে যাওয়া এবং সারফেস লেবেলের ধারণক্ষমতা কমে যাওয়া। তিনি আরও বলেন, উজানের ফারাক্কার পানি কম ছাড়ার ফলে প্রধান নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, যা শাখা নদীগুলোকেও প্রভাবিত করছে। এ পরিস্থিতিতে নদীর নাব্য সংকট ও জলাশয় শুকিয়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক। বোর্ড এই বিষয়ে জরিপ চালাচ্ছে এবং রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রকৃত তথ্য জানা যাবে।
স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, নদীর পানি আরও কমে গেলে কৃষি ও গবাদি পশুর জন্য পানির সংকট তীব্র হবে এবং নদীর নাব্যহীনতা এলাকায় পরিবহন ও জীবিকা কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন