ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

গাজীপুর-৫ আসনে বিপুল বিজয়ী এ কে এম ফজলুল হক মিলন'কে মন্ত্রিসভায় দেখতে চান এলাকাবাসী


আতিফ ভুইয়ান
আতিফ ভুইয়ান
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

গাজীপুর-৫ আসনে বিপুল বিজয়ী এ কে এম ফজলুল হক মিলন'কে মন্ত্রিসভায় দেখতে চান এলাকাবাসী
ছবি: গাজীপুর-৫ আসনে বিপুল বিজয়ী এ কে এম ফজলুল হক মিলন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৫ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী কে এম ফজলুল হক মিলন স্থানীয় জনমনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছেন। তিনি ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৯১ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সাধারণ জনগণ তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুলেছেন।

স্থানীয় পর্যায়ে ‘গাজীপুর থেকে কে হচ্ছেন নতুন মন্ত্রী?’ -এই প্রশ্ন চায়ের দোকান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যন্ত সর্বত্র শোনা যাচ্ছে। আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নাম সাবেক ছাত্রনেতা এবং বিএনপির অভিজ্ঞ নেতা ফজলুল হক মিলনের।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন ফজলুল হক মিলন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগ দেন। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রচার সম্পাদক, যুগ্ম আহ্বায়ক, সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক (অনার্স) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ঢাকা কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্রদলের প্রথম কমিটির সদস্য হিসেবেও সক্রিয় ছিলেন।

ছাত্ররাজনীতির সীমা পেরিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক, বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক এবং বৃহত্তর ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেন। রাজনৈতিক জীবনে সাতবার কারাবন্দি হওয়া ছাড়াও তার বিরুদ্ধে ৬৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি রাজনৈতিক অবস্থানে অবিচল ছিলেন।

ফজলুল হক মিলন দুইবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সংসদ সদস্য থাকাকালে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর আমন্ত্রণে সিঙ্গাপুরে আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নেন এবং যুক্তরাজ্যের হাউজ অব কমন্স কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। ছাত্রদলের সভাপতি থাকাকালে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর সফরসঙ্গী হিসেবে সার্ক সম্মেলনেও অংশগ্রহণ করেন।

স্থানীয় ছাত্রদল নেতা মো. মাহাথির ভূঁইয়া বলেন, “ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা একজন জাতীয় নেতার সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের একটি স্বাভাবিক সংযোগ রয়েছে। উন্নত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে তাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।” পুবাইল থানা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সোহেল খান বলেন, “মিলন ভাইয়ের বিজয় গাজীপুর-৫ এর মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন। তিনি দলের দুঃসময়ে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে এলাকার উন্নয়ন আরও বেগবান হবে।”

সোনারগাঁ হোটেলের কর্মকর্তা আব্দুল হক ভূঁইয়া মানিকের মতে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা তাকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে এসেছে। ফলে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা পুরোপুরি অমূলক নয়।

স্থানীয় ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, গাজীপুরবাসীর প্রত্যাশা এখন একটাই- নির্বাচিত প্রতিনিধির নেতৃত্বে উন্নয়ন ও কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। এখন দেখার বিষয়, দলীয় সিদ্ধান্তে গাজীপুর-৫ এর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মন্ত্রিসভায় স্থান পাবে কি না।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


গাজীপুর-৫ আসনে বিপুল বিজয়ী এ কে এম ফজলুল হক মিলন'কে মন্ত্রিসভায় দেখতে চান এলাকাবাসী

প্রকাশের তারিখ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৫ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী কে এম ফজলুল হক মিলন স্থানীয় জনমনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছেন। তিনি ১ লাখ ৩২ হাজার ৮৯১ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকার সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সাধারণ জনগণ তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুলেছেন।

স্থানীয় পর্যায়ে ‘গাজীপুর থেকে কে হচ্ছেন নতুন মন্ত্রী?’ -এই প্রশ্ন চায়ের দোকান থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যন্ত সর্বত্র শোনা যাচ্ছে। আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নাম সাবেক ছাত্রনেতা এবং বিএনপির অভিজ্ঞ নেতা ফজলুল হক মিলনের।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন ফজলুল হক মিলন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগ দেন। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে প্রচার সম্পাদক, যুগ্ম আহ্বায়ক, সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক (অনার্স) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ঢাকা কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্রদলের প্রথম কমিটির সদস্য হিসেবেও সক্রিয় ছিলেন।

ছাত্ররাজনীতির সীমা পেরিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক, বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক এবং বৃহত্তর ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের কারণে তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেন। রাজনৈতিক জীবনে সাতবার কারাবন্দি হওয়া ছাড়াও তার বিরুদ্ধে ৬৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এসব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি রাজনৈতিক অবস্থানে অবিচল ছিলেন।

ফজলুল হক মিলন দুইবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সংসদ সদস্য থাকাকালে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর আমন্ত্রণে সিঙ্গাপুরে আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নেন এবং যুক্তরাজ্যের হাউজ অব কমন্স কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। ছাত্রদলের সভাপতি থাকাকালে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর সফরসঙ্গী হিসেবে সার্ক সম্মেলনেও অংশগ্রহণ করেন।

স্থানীয় ছাত্রদল নেতা মো. মাহাথির ভূঁইয়া বলেন, “ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা একজন জাতীয় নেতার সঙ্গে তরুণ প্রজন্মের একটি স্বাভাবিক সংযোগ রয়েছে। উন্নত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে তাকে মন্ত্রী হিসেবে দেখতে চাই।” পুবাইল থানা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক সোহেল খান বলেন, “মিলন ভাইয়ের বিজয় গাজীপুর-৫ এর মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন। তিনি দলের দুঃসময়ে রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে এলাকার উন্নয়ন আরও বেগবান হবে।”

সোনারগাঁ হোটেলের কর্মকর্তা আব্দুল হক ভূঁইয়া মানিকের মতে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা তাকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে এসেছে। ফলে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা পুরোপুরি অমূলক নয়।

স্থানীয় ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, গাজীপুরবাসীর প্রত্যাশা এখন একটাই- নির্বাচিত প্রতিনিধির নেতৃত্বে উন্নয়ন ও কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা। এখন দেখার বিষয়, দলীয় সিদ্ধান্তে গাজীপুর-৫ এর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মন্ত্রিসভায় স্থান পাবে কি না।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ