ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিননামা ছাড়াই ‘ভুলবশত’ মুক্তি পাওয়া একটি হত্যা মামলার তিন আসামিকে পুনরায় গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৪)। গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার দায়ে কারাগারের একজন ডেপুটি জেলারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার তারাটি গ্রামের হযরত আলীর তিন ছেলে মো. আনিস মিয়া, রাশেদুল ইসলাম ও জাকিরুল ইসলাম। তাঁরা তিনজনই তারাকান্দা থানার একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
র্যাব-১৪-এর ময়মনসিংহ সদর দপ্তরে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অধিনায়ক নয়মুল হাসান। তিনি বলেন, গত ২৩ জানুয়ারি এই তিনজনকে গ্রেফতার করে র্যাব। এরপর আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। কিন্তু গত ২৭ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) বিকেলে কারাগারের অসাধু সদস্যদের সহায়তায় তাঁরা মুক্তি পেয়ে পালিয়ে যান। বিষয়টি নজরে আসার পর র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয় এবং অবশেষে তাঁদের টাঙ্গাইল থেকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। আজ দুপুরে তাঁদের পুনরায় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিকেলে ‘প্রডাকশন ওয়ারেন্ট’ বা হাজিরার পরোয়ানাকে ভুলবশত জামিননামা হিসেবে গণ্য করে ওই তিন আসামিকে মুক্তি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর কারা প্রশাসনের ভেতরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টিকে একটি ‘ভুল মুক্তি’ হিসেবে স্বীকার করেছেন।
ময়মনসিংহ বিভাগের কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, হাজিরা পরোয়ানাটি সঠিকভাবে না পড়ায় এই বিপত্তি ঘটেছে। এ ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে ডেপুটি জেলার জাকারিয়া ইমতিয়াজকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখতে ঢাকা বিভাগ-২-এর ডিআইজি প্রিজন্স টিপু সুলতানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া ডেপুটি জেলার জাকারিয়া ইমতিয়াজ নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ অসতর্কতাবশত ঘটেছে। তবে ডিআইজি প্রিজন্স হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তদন্তে যদি অন্য কোনো কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা বা ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য প্রমাণিত হয়, তবে তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, কারাগার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হলে পুলিশও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জামিননামা ছাড়াই ‘ভুলবশত’ মুক্তি পাওয়া একটি হত্যা মামলার তিন আসামিকে পুনরায় গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৪)। গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার দায়ে কারাগারের একজন ডেপুটি জেলারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার তারাটি গ্রামের হযরত আলীর তিন ছেলে মো. আনিস মিয়া, রাশেদুল ইসলাম ও জাকিরুল ইসলাম। তাঁরা তিনজনই তারাকান্দা থানার একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
র্যাব-১৪-এর ময়মনসিংহ সদর দপ্তরে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অধিনায়ক নয়মুল হাসান। তিনি বলেন, গত ২৩ জানুয়ারি এই তিনজনকে গ্রেফতার করে র্যাব। এরপর আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। কিন্তু গত ২৭ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) বিকেলে কারাগারের অসাধু সদস্যদের সহায়তায় তাঁরা মুক্তি পেয়ে পালিয়ে যান। বিষয়টি নজরে আসার পর র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয় এবং অবশেষে তাঁদের টাঙ্গাইল থেকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। আজ দুপুরে তাঁদের পুনরায় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বিকেলে ‘প্রডাকশন ওয়ারেন্ট’ বা হাজিরার পরোয়ানাকে ভুলবশত জামিননামা হিসেবে গণ্য করে ওই তিন আসামিকে মুক্তি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর কারা প্রশাসনের ভেতরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. আমিনুল ইসলাম বিষয়টিকে একটি ‘ভুল মুক্তি’ হিসেবে স্বীকার করেছেন।
ময়মনসিংহ বিভাগের কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন্স) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম জানান, হাজিরা পরোয়ানাটি সঠিকভাবে না পড়ায় এই বিপত্তি ঘটেছে। এ ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে ডেপুটি জেলার জাকারিয়া ইমতিয়াজকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখতে ঢাকা বিভাগ-২-এর ডিআইজি প্রিজন্স টিপু সুলতানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া ডেপুটি জেলার জাকারিয়া ইমতিয়াজ নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ অসতর্কতাবশত ঘটেছে। তবে ডিআইজি প্রিজন্স হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তদন্তে যদি অন্য কোনো কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা বা ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য প্রমাণিত হয়, তবে তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, কারাগার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হলে পুলিশও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বর্তমানে পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন