ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

হাজার কোটি টাকার খনন প্রকল্পেও ফেরেনি ব্রহ্মপুত্রের নাব্যতা


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬

হাজার কোটি টাকার খনন প্রকল্পেও ফেরেনি ব্রহ্মপুত্রের নাব্যতা
ছবি: সংগৃহীত

পুরানো ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে প্রায় পৌনে তিন হাজার কোটি টাকার বিশাল প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও তার সুফল পাচ্ছে না ময়মনসিংহবাসী। উল্টো খনন কাজের ধীরগতি ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীরা। এক সময়ের খরস্রোতা এই নদ এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে; অনেক স্থানে পানির প্রবাহ এতটাই কমেছে যে নদটি এখন সরু খালে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ২০১৯ সালে ‘ওল্ড ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা উন্নয়ন ও খনন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প শুরু করে। ২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থেকে কিশোরগঞ্জের ভৈরব পর্যন্ত ২২৭ কিলোমিটার নদীপথ খনন করা। ২০২৪ সালের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি মাত্র ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। অথচ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরাদ্দের প্রায় সিংহভাগ অর্থই ইতোমধ্যে খরচ দেখানো হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ময়মনসিংহ নগরীর কাচিঝুলি, শম্ভুগঞ্জ ও ব্রিজ মোড় এলাকায় নদের বুকজুড়ে বিশাল চর জেগে উঠেছে। খনন করার কথা থাকলেও অনেক জায়গায় এখন হাঁটু সমান পানি। স্থানীয়দের অভিযোগ, উত্তোলিত বালু নদের তীরেই স্তূপ করে রাখা হচ্ছে, যা বৃষ্টির সময় পুনরায় ধুয়ে নদে গিয়ে পড়ছে। এতে খনন প্রক্রিয়ার স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না। প্রকল্পের ধীরগতির কারণ হিসেবে কর্মকর্তারা স্থানীয় বাধা ও পলি জমার সমস্যার কথা বললেও বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা।

নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করার পেছনে অবৈধ দখলকেও দায়ী করছেন পরিবেশবাদীরা। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের তথ্যমতে, ময়মনসিংহ সদর উপজেলাতেই প্রায় দেড় হাজার অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। কালীবাড়ি পুরাতন ফেরিঘাট, কাছারি ঘাট এবং শম্ভুগঞ্জ সেতু সংলগ্ন এলাকায় নদের তীর দখল করে দোকান ও ঘরবাড়ি গড়ে উঠেছে। এমনকি টাউন প্রোটেকশন বাঁধের ওপর স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করায় নদের সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। পুরাতন গুদারাঘাট এলাকায় নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা ফেলায় দূষণ ও নাব্যতা সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী দখলমুক্ত না করে এবং পলি ব্যবস্থাপনার সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া শুধু খনন প্রকল্প দিয়ে ব্রহ্মপুত্রকে বাঁচানো সম্ভব নয়। সরকারি অর্থের এই বিশাল ব্যয়ের পরও যদি নদের নাব্যতা না ফেরে, তবে ভবিষ্যতে ব্রহ্মপুত্র নদ কেবল মানচিত্রেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


হাজার কোটি টাকার খনন প্রকল্পেও ফেরেনি ব্রহ্মপুত্রের নাব্যতা

প্রকাশের তারিখ : ১১ মার্চ ২০২৬

featured Image

পুরানো ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে প্রায় পৌনে তিন হাজার কোটি টাকার বিশাল প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও তার সুফল পাচ্ছে না ময়মনসিংহবাসী। উল্টো খনন কাজের ধীরগতি ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশবাদীরা। এক সময়ের খরস্রোতা এই নদ এখন অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে; অনেক স্থানে পানির প্রবাহ এতটাই কমেছে যে নদটি এখন সরু খালে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ২০১৯ সালে ‘ওল্ড ব্রহ্মপুত্র নদের নাব্যতা উন্নয়ন ও খনন’ শীর্ষক একটি প্রকল্প শুরু করে। ২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থেকে কিশোরগঞ্জের ভৈরব পর্যন্ত ২২৭ কিলোমিটার নদীপথ খনন করা। ২০২৪ সালের জুনে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি মাত্র ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। অথচ সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরাদ্দের প্রায় সিংহভাগ অর্থই ইতোমধ্যে খরচ দেখানো হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ময়মনসিংহ নগরীর কাচিঝুলি, শম্ভুগঞ্জ ও ব্রিজ মোড় এলাকায় নদের বুকজুড়ে বিশাল চর জেগে উঠেছে। খনন করার কথা থাকলেও অনেক জায়গায় এখন হাঁটু সমান পানি। স্থানীয়দের অভিযোগ, উত্তোলিত বালু নদের তীরেই স্তূপ করে রাখা হচ্ছে, যা বৃষ্টির সময় পুনরায় ধুয়ে নদে গিয়ে পড়ছে। এতে খনন প্রক্রিয়ার স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না। প্রকল্পের ধীরগতির কারণ হিসেবে কর্মকর্তারা স্থানীয় বাধা ও পলি জমার সমস্যার কথা বললেও বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা।

নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করার পেছনে অবৈধ দখলকেও দায়ী করছেন পরিবেশবাদীরা। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের তথ্যমতে, ময়মনসিংহ সদর উপজেলাতেই প্রায় দেড় হাজার অবৈধ স্থাপনা রয়েছে। কালীবাড়ি পুরাতন ফেরিঘাট, কাছারি ঘাট এবং শম্ভুগঞ্জ সেতু সংলগ্ন এলাকায় নদের তীর দখল করে দোকান ও ঘরবাড়ি গড়ে উঠেছে। এমনকি টাউন প্রোটেকশন বাঁধের ওপর স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করায় নদের সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। পুরাতন গুদারাঘাট এলাকায় নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা ফেলায় দূষণ ও নাব্যতা সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী দখলমুক্ত না করে এবং পলি ব্যবস্থাপনার সঠিক পরিকল্পনা ছাড়া শুধু খনন প্রকল্প দিয়ে ব্রহ্মপুত্রকে বাঁচানো সম্ভব নয়। সরকারি অর্থের এই বিশাল ব্যয়ের পরও যদি নদের নাব্যতা না ফেরে, তবে ভবিষ্যতে ব্রহ্মপুত্র নদ কেবল মানচিত্রেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ