নেত্রকোণার হাওরবেষ্টিত উপজেলা মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুড়ির দিগন্তজোড়া মাঠে চলতি মৌসুমে মিষ্টি কুমড়ার বেশি ফলনে খুশি কৃষকেরা। অনুকূল আবহাওয়া এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসারে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হওয়ায় স্থানীয় চাষিরা লাভবান হচ্ছেন।
সরেজমিনে খালিয়াজুড়ি উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের নাওটানা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন একটি বিশাল সবজি বিপণন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বগুড়া, কুষ্টিয়া, রংপুর, রাজশাহী, কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ীরা ট্রাকের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকের জমি থেকে মিষ্টি কুমড়া কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
রংপুরের মিঠাপুকুর থেকে আসা ব্যবসায়ী আলমগীর মিয়া বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের বাজারে কুমড়া আসার আগেই নেত্রকোণার কুমড়া সরবরাহ শুরু হয়। বাজারে চাহিদা থাকায় প্রতি কেজি ২৫ টাকায় কিনে নিচ্ছি। গাড়ি ভাড়া ও শ্রমিক খরচসহ পৌঁছাতে খরচ পড়ছে ২৮ টাকা প্রতি কেজি।’
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থেকে আসা ব্যবসায়ী উজ্জ্বল ভূঁইয়া জানান, তিনি আকারভেদে ২২ থেকে ২৫ টাকায় সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে অগ্রিম চুক্তিতে কুমড়া কিনেছেন। প্রতি কাঠায় (১০ শতাংশ) জমিতে ১ টন ফলন হলে প্রায় হাজার টাকা লাভ হচ্ছে। সংগৃহীত কুমড়া ঝিনাইদহ, বগুড়া, কুষ্টিয়া, নাটোর ও পাবনার মতো জেলায় পাঠানো হচ্ছে।
খালিয়াজুড়ির সফল কৃষক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, চলতি বছরে ১০০ কাঠা জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষ করেছেন এবং ইতোমধ্যে ১৫ টন বিক্রি করেছেন। বাজারমূল্য ভাল থাকায় তিনি অত্যন্ত খুশি। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন, হাওরাঞ্চলে উৎপাদিত কুমড়া বিদেশে রপ্তানির সুযোগ করে দিতে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) রাকিবুল হাসান জানান, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলায় মিষ্টি কুমড়া চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে সাফল্য অর্জিত হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জেলায় ৭২৯ হেক্টর জমিতে চাষ হয়, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৭৩৬ হেক্টরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে ৩৭০ হেক্টর চাষ হয়েছে শুধুমাত্র হাওরাঞ্চলে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২১-২২ মৌসুমে খালিয়াজুড়ির পতিত জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষের সমন্বিত উদ্যোগের সফলতায় সরকার ‘জনপ্রশাসন পদক’ প্রদান করে। সেই থেকে ফসলটি কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। কৃষকদের সহায়তা হিসেবে বীজ ছাড়াও নিরাপদ উৎপাদনের জন্য ফেরোমন ফাঁদ ও ইয়েলো ট্র্যাপসহ আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন ও নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে বাজারমূল্য ভালো থাকায় কৃষকরা সরাসরি লাভবান হচ্ছেন, যা জেলার সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নেত্রকোণার হাওরবেষ্টিত উপজেলা মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুড়ির দিগন্তজোড়া মাঠে চলতি মৌসুমে মিষ্টি কুমড়ার বেশি ফলনে খুশি কৃষকেরা। অনুকূল আবহাওয়া এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসারে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদন হওয়ায় স্থানীয় চাষিরা লাভবান হচ্ছেন।
সরেজমিনে খালিয়াজুড়ি উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের নাওটানা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, হাওরের বিস্তীর্ণ এলাকা এখন একটি বিশাল সবজি বিপণন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বগুড়া, কুষ্টিয়া, রংপুর, রাজশাহী, কিশোরগঞ্জ ও ময়মনসিংহ থেকে আসা পাইকারি ব্যবসায়ীরা ট্রাকের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকের জমি থেকে মিষ্টি কুমড়া কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
রংপুরের মিঠাপুকুর থেকে আসা ব্যবসায়ী আলমগীর মিয়া বলেন, ‘উত্তরবঙ্গের বাজারে কুমড়া আসার আগেই নেত্রকোণার কুমড়া সরবরাহ শুরু হয়। বাজারে চাহিদা থাকায় প্রতি কেজি ২৫ টাকায় কিনে নিচ্ছি। গাড়ি ভাড়া ও শ্রমিক খরচসহ পৌঁছাতে খরচ পড়ছে ২৮ টাকা প্রতি কেজি।’
কিশোরগঞ্জের তাড়াইল থেকে আসা ব্যবসায়ী উজ্জ্বল ভূঁইয়া জানান, তিনি আকারভেদে ২২ থেকে ২৫ টাকায় সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে অগ্রিম চুক্তিতে কুমড়া কিনেছেন। প্রতি কাঠায় (১০ শতাংশ) জমিতে ১ টন ফলন হলে প্রায় হাজার টাকা লাভ হচ্ছে। সংগৃহীত কুমড়া ঝিনাইদহ, বগুড়া, কুষ্টিয়া, নাটোর ও পাবনার মতো জেলায় পাঠানো হচ্ছে।
খালিয়াজুড়ির সফল কৃষক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, চলতি বছরে ১০০ কাঠা জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষ করেছেন এবং ইতোমধ্যে ১৫ টন বিক্রি করেছেন। বাজারমূল্য ভাল থাকায় তিনি অত্যন্ত খুশি। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন, হাওরাঞ্চলে উৎপাদিত কুমড়া বিদেশে রপ্তানির সুযোগ করে দিতে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) রাকিবুল হাসান জানান, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলায় মিষ্টি কুমড়া চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে সাফল্য অর্জিত হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জেলায় ৭২৯ হেক্টর জমিতে চাষ হয়, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৭৩৬ হেক্টরে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে ৩৭০ হেক্টর চাষ হয়েছে শুধুমাত্র হাওরাঞ্চলে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২১-২২ মৌসুমে খালিয়াজুড়ির পতিত জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষের সমন্বিত উদ্যোগের সফলতায় সরকার ‘জনপ্রশাসন পদক’ প্রদান করে। সেই থেকে ফসলটি কৃষকদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। কৃষকদের সহায়তা হিসেবে বীজ ছাড়াও নিরাপদ উৎপাদনের জন্য ফেরোমন ফাঁদ ও ইয়েলো ট্র্যাপসহ আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন ও নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে বাজারমূল্য ভালো থাকায় কৃষকরা সরাসরি লাভবান হচ্ছেন, যা জেলার সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

আপনার মতামত লিখুন