সারাদেশে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে দেশের ৯টি জেলার ১০টি উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানস্থলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) একযোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে উদ্বোধন করা এই ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি দেশব্যাপী কৃষকদের জন্য ডিজিটাল পরিচয় ও সরকারি সেবা প্রাপ্তির একটি সমন্বিত ব্যবস্থা হিসেবে চালু করা হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
মোতায়েনকৃত স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট এবং বোদা উপজেলার বৈরাতী উচ্চ বিদ্যালয়। বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার শিবগঞ্জ উথলী উচ্চ বিদ্যালয়, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা অডিটরিয়াম, ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কৃপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার হাই স্কুল, জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার নাপিতের চর, মৌলভীবাজারের জুড়ি উপজেলার বশির উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় এবং কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার টেকনাফ এজাহার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
প্রতিটি স্থানে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। অনুষ্ঠানস্থলে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সম্ভাব্য যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা দায়িত্ব পালন করছে। পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও নিরাপত্তা কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয় এবং মাঠপর্যায়ে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়।
এদিকে কৃষক কার্ড কর্মসূচিকে সরকারের কৃষি খাতে ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, এই কর্মসূচি প্রি-পাইলটিং, পাইলটিং এবং পরবর্তীতে দেশব্যাপী পূর্ণ বাস্তবায়নের তিন ধাপে এগিয়ে নেওয়া হবে। প্রাথমিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আগামী চার বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষক কার্ড একটি ডিজিটাল ইউনিক পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করবে, যার মাধ্যমে কৃষকরা নিরাপদ পেমেন্ট সুবিধা, সরকারি প্রণোদনা এবং বিভিন্ন সেবায় সহজে প্রবেশাধিকার পাবেন। এর ফলে কৃষি খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং মধ্যস্বত্বভোগী নির্ভরতা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। অনেক এলাকায় কৃষক ও সাধারণ মানুষ অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হয়ে কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। প্রশাসনের দাবি, মাঠপর্যায়ে কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চলবে।
সব মিলিয়ে সারাদেশে একযোগে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, আগামী দিনগুলোতে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য অঞ্চলেও একই ধরনের নিরাপত্তা সমন্বয় অব্যাহত থাকবে, যাতে কর্মসূচির কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়।
#আরএ
বিষয় : কৃষক কার্ড

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬
সারাদেশে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে দেশের ৯টি জেলার ১০টি উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানস্থলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) একযোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে উদ্বোধন করা এই ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচি দেশব্যাপী কৃষকদের জন্য ডিজিটাল পরিচয় ও সরকারি সেবা প্রাপ্তির একটি সমন্বিত ব্যবস্থা হিসেবে চালু করা হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
মোতায়েনকৃত স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে পঞ্চগড় সদর উপজেলার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট এবং বোদা উপজেলার বৈরাতী উচ্চ বিদ্যালয়। বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার শিবগঞ্জ উথলী উচ্চ বিদ্যালয়, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা অডিটরিয়াম, ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কৃপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার হাই স্কুল, জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার নাপিতের চর, মৌলভীবাজারের জুড়ি উপজেলার বশির উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় এবং কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার টেকনাফ এজাহার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
প্রতিটি স্থানে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। অনুষ্ঠানস্থলে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সম্ভাব্য যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা দায়িত্ব পালন করছে। পাশাপাশি পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও নিরাপত্তা কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয় এবং মাঠপর্যায়ে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়।
এদিকে কৃষক কার্ড কর্মসূচিকে সরকারের কৃষি খাতে ডিজিটাল রূপান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, এই কর্মসূচি প্রি-পাইলটিং, পাইলটিং এবং পরবর্তীতে দেশব্যাপী পূর্ণ বাস্তবায়নের তিন ধাপে এগিয়ে নেওয়া হবে। প্রাথমিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আগামী চার বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষক কার্ড একটি ডিজিটাল ইউনিক পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করবে, যার মাধ্যমে কৃষকরা নিরাপদ পেমেন্ট সুবিধা, সরকারি প্রণোদনা এবং বিভিন্ন সেবায় সহজে প্রবেশাধিকার পাবেন। এর ফলে কৃষি খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং মধ্যস্বত্বভোগী নির্ভরতা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ঘিরে কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। অনেক এলাকায় কৃষক ও সাধারণ মানুষ অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হয়ে কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেন। প্রশাসনের দাবি, মাঠপর্যায়ে কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে ধাপে ধাপে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চলবে।
সব মিলিয়ে সারাদেশে একযোগে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, আগামী দিনগুলোতে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য অঞ্চলেও একই ধরনের নিরাপত্তা সমন্বয় অব্যাহত থাকবে, যাতে কর্মসূচির কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়।
#আরএ

আপনার মতামত লিখুন