ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মোট মাদকাসক্ত ৮২ লাখ, জাতীয় গবেষণা প্রতিবেদন

দেশে ৬১ লাখ গাঁজাখোর


বিশেষ প্রতিনিধি :
বিশেষ প্রতিনিধি :
প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

দেশে ৬১ লাখ গাঁজাখোর

দেশে মাদক সেবনকারীর সংখ্যা বর্তমানে আনুমানিক ৮২ লাখে পৌঁছেছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গাঁজা সেবনকারী, সংখ্যা প্রায় ৬১ লাখ। পাশাপাশি ইয়াবা, অ্যালকোহল, কফ সিরাপ ও হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবনের প্রবণতাও উল্লেখযোগ্য হারে রয়েছে।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টস লিমিটেড যৌথভাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী এই গবেষণা পরিচালনা করে। গবেষণার জন্য দেশের আটটি বিভাগে ১৩ জেলা ও ২৬ উপজেলা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা যায়, ময়মনসিংহ বিভাগে মাদক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি, যা ৬ দশমিক ০২ শতাংশ। এরপর রয়েছে রংপুর বিভাগ ৬ দশমিক শূন্য শতাংশ এবং চট্টগ্রাম বিভাগ ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। সংখ্যার বিচারে ঢাকা বিভাগে মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা সর্বাধিক, প্রায় ২২ দশমিক ৯ লাখ।

গবেষণা প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, মাদকসেবীদের একটি বড় অংশই তরুণ। মোট ব্যবহারকারীর ৩৩ শতাংশ ৮ থেকে ১৭ বছর বয়সে এবং ৫৯ শতাংশ ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সে প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করেছে। বেকারত্ব, পারিবারিক অস্থিরতা, মানসিক চাপসহ বিভিন্ন সামাজিক কারণকে মাদকাসক্তির পেছনের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তাদের জন্য মাদক সহজলভ্য।

চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক চিত্রও উঠে এসেছে গবেষণায়। মাত্র ১৩ শতাংশ মাদকসেবী চিকিৎসা বা পুনর্বাসনের সুযোগ পেয়েছেন। পর্যাপ্ত সেবা না থাকায় অনেকেই মাদক ত্যাগে ব্যর্থ হচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। জরিপে অংশ নেওয়া মাদকসেবীদের ৬৯ শতাংশ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ এবং ৬২ শতাংশ কাউন্সেলিং সেবার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, মাদক সমস্যা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি একটি জটিল জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সংকট। রাজনৈতিক সংকল্প এবং গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে বলে তিনি মত দেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ জানান, দেশে মাদকাসক্তির ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে সাতটি বিভাগে ২০০ শয্যা বিশিষ্ট পুনর্বাসন কেন্দ্র চালুর অনুমোদন দিয়েছে। পরিবার ও সমাজকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মাদক নির্মূলের ওপর জোর দেন তিনি।

গবেষণার ফলাফল দেশের মাদক নীতি প্রণয়ন এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রম গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


দেশে ৬১ লাখ গাঁজাখোর

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

দেশে মাদক সেবনকারীর সংখ্যা বর্তমানে আনুমানিক ৮২ লাখে পৌঁছেছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গাঁজা সেবনকারী, সংখ্যা প্রায় ৬১ লাখ। পাশাপাশি ইয়াবা, অ্যালকোহল, কফ সিরাপ ও হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবনের প্রবণতাও উল্লেখযোগ্য হারে রয়েছে।


বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালট্যান্টস লিমিটেড যৌথভাবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী এই গবেষণা পরিচালনা করে। গবেষণার জন্য দেশের আটটি বিভাগে ১৩ জেলা ও ২৬ উপজেলা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।


গবেষণায় দেখা যায়, ময়মনসিংহ বিভাগে মাদক ব্যবহারের হার সবচেয়ে বেশি, যা ৬ দশমিক ০২ শতাংশ। এরপর রয়েছে রংপুর বিভাগ ৬ দশমিক শূন্য শতাংশ এবং চট্টগ্রাম বিভাগ ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। সংখ্যার বিচারে ঢাকা বিভাগে মাদক ব্যবহারকারীর সংখ্যা সর্বাধিক, প্রায় ২২ দশমিক ৯ লাখ।


গবেষণা প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে, মাদকসেবীদের একটি বড় অংশই তরুণ। মোট ব্যবহারকারীর ৩৩ শতাংশ ৮ থেকে ১৭ বছর বয়সে এবং ৫৯ শতাংশ ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সে প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করেছে। বেকারত্ব, পারিবারিক অস্থিরতা, মানসিক চাপসহ বিভিন্ন সামাজিক কারণকে মাদকাসক্তির পেছনের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রায় ৯০ শতাংশ ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তাদের জন্য মাদক সহজলভ্য।


চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে উদ্বেগজনক চিত্রও উঠে এসেছে গবেষণায়। মাত্র ১৩ শতাংশ মাদকসেবী চিকিৎসা বা পুনর্বাসনের সুযোগ পেয়েছেন। পর্যাপ্ত সেবা না থাকায় অনেকেই মাদক ত্যাগে ব্যর্থ হচ্ছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। জরিপে অংশ নেওয়া মাদকসেবীদের ৬৯ শতাংশ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ এবং ৬২ শতাংশ কাউন্সেলিং সেবার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন।


বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, মাদক সমস্যা শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি একটি জটিল জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সংকট। রাজনৈতিক সংকল্প এবং গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে বলে তিনি মত দেন।


মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ জানান, দেশে মাদকাসক্তির ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে। তিনি বলেন, সরকার ইতোমধ্যে সাতটি বিভাগে ২০০ শয্যা বিশিষ্ট পুনর্বাসন কেন্দ্র চালুর অনুমোদন দিয়েছে। পরিবার ও সমাজকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে মাদক নির্মূলের ওপর জোর দেন তিনি।


গবেষণার ফলাফল দেশের মাদক নীতি প্রণয়ন এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রম গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ