নরসিংদীতে একটি গ্যারেজে ঘুমন্ত অবস্থায় আগুনে পুড়ে চঞ্চল ভৌমিক (২৫) নামের এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রহস্য দানা বাঁধছে। নিহতের পরিবার ও সহকর্মীদের দাবি, এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে পেট্রল বা মবিল ঢেলে ঘটিয়ে দেওয়া একটি হত্যাকাণ্ড। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তদন্ত চালিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি।
গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ভোরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশের একটি গ্যারেজ থেকে চঞ্চলের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। চঞ্চল কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের প্রয়াত খোকন ভৌমিকের ছেলে। গত সাত বছর ধরে তিনি এই গ্যারেজে কাজ করতেন এবং রাতে সেখানেই থাকতেন। ছয় মাস আগে বাবাকে হারানোর পর শারীরিক প্রতিবন্ধী বড় ভাই ও মায়ের দায়িত্ব ছিল একমাত্র উপার্জনক্ষম চঞ্চলের কাঁধেই।
গতকাল রবিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা যায়, পাশাপাশি তিনটি টিনশেড দোকানের মধ্যে কেবল মাঝখানের রুবেল মিয়ার গ্যারেজটি পুড়েছে। দুপাশের দোকানগুলোর একটিতে রঙের কাজ ও অন্যটিতে যন্ত্রাংশ বিক্রি হলেও সেগুলোতে আগুনের কোনো চিহ্ন নেই। স্থানীয়দের মতে, দুর্ঘটনা হলে আগুন দুপাশে ছড়ানোর কথা ছিল, যা একে সন্দেহজনক করে তুলেছে।
সহকর্মী শান্ত দেবনাথ জানান, গ্যারেজের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, এক অজ্ঞাত ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে আশেপাশে মবিলমাখা কাপড় ও কাগজ কুড়িয়ে এনে গ্যারেজের শাটারের সামনে আগুন ধরিয়ে দেন। গ্যারেজের ভেতরে থাকা মবিলের সংস্পর্শে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা চঞ্চলের শরীরে লাগে। গ্যারেজের মালিক রুবেল মিয়াও একে হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করেছেন।
নিহত চঞ্চলের মা ববিতা ভৌমিক আহাজারি করে বলেন, “ওর তো কোনো শত্রু ছিল না, আমার ছেলেরে আগুন দিয়া মাইরা ফেলল। এখন আমাদের সংসার কে চালাবে?” গতকাল রবিবার দুপুরে কুমিল্লার নিজ গ্রামে চঞ্চলের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর আল মামুন জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাওয়া ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে থানা-পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ও ডিবি কাজ করছে। তদন্ত শেষে এটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
নরসিংদীতে একটি গ্যারেজে ঘুমন্ত অবস্থায় আগুনে পুড়ে চঞ্চল ভৌমিক (২৫) নামের এক যুবকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রহস্য দানা বাঁধছে। নিহতের পরিবার ও সহকর্মীদের দাবি, এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে পেট্রল বা মবিল ঢেলে ঘটিয়ে দেওয়া একটি হত্যাকাণ্ড। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তদন্ত চালিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি।
গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ভোরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশের একটি গ্যারেজ থেকে চঞ্চলের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। চঞ্চল কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের প্রয়াত খোকন ভৌমিকের ছেলে। গত সাত বছর ধরে তিনি এই গ্যারেজে কাজ করতেন এবং রাতে সেখানেই থাকতেন। ছয় মাস আগে বাবাকে হারানোর পর শারীরিক প্রতিবন্ধী বড় ভাই ও মায়ের দায়িত্ব ছিল একমাত্র উপার্জনক্ষম চঞ্চলের কাঁধেই।
গতকাল রবিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে দেখা যায়, পাশাপাশি তিনটি টিনশেড দোকানের মধ্যে কেবল মাঝখানের রুবেল মিয়ার গ্যারেজটি পুড়েছে। দুপাশের দোকানগুলোর একটিতে রঙের কাজ ও অন্যটিতে যন্ত্রাংশ বিক্রি হলেও সেগুলোতে আগুনের কোনো চিহ্ন নেই। স্থানীয়দের মতে, দুর্ঘটনা হলে আগুন দুপাশে ছড়ানোর কথা ছিল, যা একে সন্দেহজনক করে তুলেছে।
সহকর্মী শান্ত দেবনাথ জানান, গ্যারেজের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, এক অজ্ঞাত ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে আশেপাশে মবিলমাখা কাপড় ও কাগজ কুড়িয়ে এনে গ্যারেজের শাটারের সামনে আগুন ধরিয়ে দেন। গ্যারেজের ভেতরে থাকা মবিলের সংস্পর্শে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা চঞ্চলের শরীরে লাগে। গ্যারেজের মালিক রুবেল মিয়াও একে হত্যাকাণ্ড বলে অভিহিত করেছেন।
নিহত চঞ্চলের মা ববিতা ভৌমিক আহাজারি করে বলেন, “ওর তো কোনো শত্রু ছিল না, আমার ছেলেরে আগুন দিয়া মাইরা ফেলল। এখন আমাদের সংসার কে চালাবে?” গতকাল রবিবার দুপুরে কুমিল্লার নিজ গ্রামে চঞ্চলের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর আল মামুন জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাওয়া ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে থানা-পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ও ডিবি কাজ করছে। তদন্ত শেষে এটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আপনার মতামত লিখুন