ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ দাবি মিয়ানমারের, প্রত্যাখ্যান করল ঢাকা


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ দাবি মিয়ানমারের, প্রত্যাখ্যান করল ঢাকা

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে অভিহিত করার মিয়ানমারের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ। ঢাকার পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, রোহিঙ্গারা নিজস্ব জাতিগত পরিচয়সম্পন্ন জনগোষ্ঠী; তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করা সঠিক নয়।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সোয়ে মোর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের এ অবস্থান তুলে ধরেন মিয়ানমার অনুবিভাগের মহাপরিচালক তৌফিক-উর-রহমান।

বৈঠকে গত ১৫ আগস্ট মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত রোহিঙ্গাবিষয়ক বিবৃতি নিয়ে বাংলাদেশের আপত্তি জানানো হয়। তৌফিক-উর-রহমান বলেন, মিয়ানমারের ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা বেশ কিছু তথ্য ভুল পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা নিয়ে মিয়ানমারের দেওয়া তথ্য সঠিক নয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতিসংঘ ব্যবস্থায় নিবন্ধিত তথ্যেই দেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের প্রকৃত সংখ্যা প্রতিফলিত হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা অনুযায়ী বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

২০১৭ সালের পর রাখাইন থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আসা নতুন রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেওয়া শিশুদেরও যাচাই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ঢাকা।

বাংলাদেশ জানায়, বর্তমানে ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন রোহিঙ্গার হিসাবের পর অতিরিক্ত নিবন্ধিত ব্যক্তিদের তথ্য যথাসময়ে মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

রোহিঙ্গাদের পরিচয় প্রসঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই জনগোষ্ঠীকে ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করা যথাযথ নয়। রোহিঙ্গারা নিজস্ব জাতিগত পরিচয়ের অধিকারী এবং সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত মিয়ানমার কর্তৃপক্ষও তাদের সেই স্বতন্ত্র পরিচয় স্বীকার করে এসেছে।

বাংলাদেশের উত্থাপিত উদ্বেগ ও পর্যবেক্ষণ নিজ সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সোয়ে মো। একই সঙ্গে যাচাই কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচাইকৃত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করার বিষয়ে তার সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশ আবারও স্পষ্ট করে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো তাদের নিজ ভূমি রাখাইনে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ দাবি মিয়ানমারের, প্রত্যাখ্যান করল ঢাকা

প্রকাশের তারিখ : ১৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে অভিহিত করার মিয়ানমারের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ। ঢাকার পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, রোহিঙ্গারা নিজস্ব জাতিগত পরিচয়সম্পন্ন জনগোষ্ঠী; তাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করা সঠিক নয়।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সোয়ে মোর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের এ অবস্থান তুলে ধরেন মিয়ানমার অনুবিভাগের মহাপরিচালক তৌফিক-উর-রহমান।

বৈঠকে গত ১৫ আগস্ট মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত রোহিঙ্গাবিষয়ক বিবৃতি নিয়ে বাংলাদেশের আপত্তি জানানো হয়। তৌফিক-উর-রহমান বলেন, মিয়ানমারের ওই বিবৃতিতে উল্লেখ করা বেশ কিছু তথ্য ভুল পরিসংখ্যানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের সংখ্যা নিয়ে মিয়ানমারের দেওয়া তথ্য সঠিক নয়।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, জাতিসংঘ ব্যবস্থায় নিবন্ধিত তথ্যেই দেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের প্রকৃত সংখ্যা প্রতিফলিত হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা অনুযায়ী বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার জন্য মিয়ানমারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

২০১৭ সালের পর রাখাইন থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আসা নতুন রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি শরণার্থী শিবিরে জন্ম নেওয়া শিশুদেরও যাচাই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ঢাকা।

বাংলাদেশ জানায়, বর্তমানে ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন রোহিঙ্গার হিসাবের পর অতিরিক্ত নিবন্ধিত ব্যক্তিদের তথ্য যথাসময়ে মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

রোহিঙ্গাদের পরিচয় প্রসঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই জনগোষ্ঠীকে ‘বাঙালি’ হিসেবে উল্লেখ করা যথাযথ নয়। রোহিঙ্গারা নিজস্ব জাতিগত পরিচয়ের অধিকারী এবং সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত মিয়ানমার কর্তৃপক্ষও তাদের সেই স্বতন্ত্র পরিচয় স্বীকার করে এসেছে।

বাংলাদেশের উত্থাপিত উদ্বেগ ও পর্যবেক্ষণ নিজ সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত উ কিয়াও সোয়ে মো। একই সঙ্গে যাচাই কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচাইকৃত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু করার বিষয়ে তার সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশ আবারও স্পষ্ট করে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান হলো তাদের নিজ ভূমি রাখাইনে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ