ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যেই বিএনপির জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।

ছয় মাসেই বিএনপির জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করেছে: সারজিস আলম


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

ছয় মাসেই বিএনপির জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করেছে: সারজিস আলম

ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যেই বিএনপির জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও সংস্কৃতির কারণে বিএনপি নির্যাতনের শিকার হয়েছে, ক্ষমতায় এসে দলটি এখন একই ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি অনুসরণ করছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে খাগড়াছড়ির একটি কমিউনিটি সেন্টারে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

সারজিস আলম বলেন, বিএনপি দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর জুলুম, মিথ্যা মামলা, গুম ও খুনের শিকার হয়েছে। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের পর তারা আগের রাজনৈতিক ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, এ কারণেই অল্প সময়ের মধ্যে বিএনপির জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিরও সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা। তার ভাষ্য, বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতি লিটার জ্বালানি তেলের দাম ২০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। জ্বালানির সঙ্গে বিদ্যুৎ, কৃষি, উৎপাদন ও পরিবহনসহ প্রায় সব খাতের সম্পর্ক থাকায় এর প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় পড়ছে। টাকা দিয়েও সার না পাওয়া এবং মূল্য পরিশোধের পরও বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট থাকার অভিযোগও করেন তিনি।

বিএনপির এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সারজিস। তার অভিযোগ, গত ছয় মাসে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কর্মসংস্থান তৈরির কাছাকাছিও যেতে পারেনি সরকার; বরং অনেকে কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি বিস্তারের অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, বিপুলসংখ্যক মানুষ এখন এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগও করেন সারজিস আলম। তার দাবি, যোগ্যতা ও দক্ষতার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কর্মকর্তাদের হয়রানি ও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে।

নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের হেনস্তা এবং সিলেটের জেলা প্রশাসক সারোয়ার আলমকে বদলির প্রসঙ্গও টানেন তিনি। সারজিসের অভিযোগ, চাঁদাবাজির সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে ওই জেলা প্রশাসককে দ্রুত বদলি করা হয়েছে।

বিএনপিকে সতর্ক করে সারজিস আলম বলেন, এনসিপি বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে। বিএনপি ভালো কাজ করলে তার প্রশংসা করা হবে, আবার সমালোচনার প্রয়োজন হলে সেটিও করা হবে। হুমকি দিয়ে তাদের সমালোচনা থেকে বিরত রাখা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপিকে দ্রুত জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করার আহ্বান জানিয়ে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিও জানান সারজিস।

পার্বত্য চট্টগ্রামের কোটা ব্যবস্থা নিয়েও কথা বলেন এনসিপির এই নেতা। পাহাড়ের মানুষের জন্য যৌক্তিক মাত্রায় কোটা রাখার পক্ষে মত দিলেও এই ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে বিএনপির দলীয়করণের অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদ জানান।

খাগড়াছড়ি জেলা এনসিপির আহ্বায়ক নূর আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার ও আলী আহসান জুনায়েদসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ছয় মাসেই বিএনপির জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করেছে: সারজিস আলম

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যেই বিএনপির জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও সংস্কৃতির কারণে বিএনপি নির্যাতনের শিকার হয়েছে, ক্ষমতায় এসে দলটি এখন একই ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি অনুসরণ করছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে খাগড়াছড়ির একটি কমিউনিটি সেন্টারে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

সারজিস আলম বলেন, বিএনপি দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর জুলুম, মিথ্যা মামলা, গুম ও খুনের শিকার হয়েছে। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনের পর তারা আগের রাজনৈতিক ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, এ কারণেই অল্প সময়ের মধ্যে বিএনপির জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিরও সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা। তার ভাষ্য, বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতি লিটার জ্বালানি তেলের দাম ২০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। জ্বালানির সঙ্গে বিদ্যুৎ, কৃষি, উৎপাদন ও পরিবহনসহ প্রায় সব খাতের সম্পর্ক থাকায় এর প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় পড়ছে। টাকা দিয়েও সার না পাওয়া এবং মূল্য পরিশোধের পরও বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট থাকার অভিযোগও করেন তিনি।

বিএনপির এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সারজিস। তার অভিযোগ, গত ছয় মাসে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কর্মসংস্থান তৈরির কাছাকাছিও যেতে পারেনি সরকার; বরং অনেকে কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি বিস্তারের অভিযোগ তুলে তিনি দাবি করেন, বিপুলসংখ্যক মানুষ এখন এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে।

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগও করেন সারজিস আলম। তার দাবি, যোগ্যতা ও দক্ষতার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কর্মকর্তাদের হয়রানি ও হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে।

নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের হেনস্তা এবং সিলেটের জেলা প্রশাসক সারোয়ার আলমকে বদলির প্রসঙ্গও টানেন তিনি। সারজিসের অভিযোগ, চাঁদাবাজির সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে ওই জেলা প্রশাসককে দ্রুত বদলি করা হয়েছে।

বিএনপিকে সতর্ক করে সারজিস আলম বলেন, এনসিপি বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে। বিএনপি ভালো কাজ করলে তার প্রশংসা করা হবে, আবার সমালোচনার প্রয়োজন হলে সেটিও করা হবে। হুমকি দিয়ে তাদের সমালোচনা থেকে বিরত রাখা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপিকে দ্রুত জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করার আহ্বান জানিয়ে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিও জানান সারজিস।

পার্বত্য চট্টগ্রামের কোটা ব্যবস্থা নিয়েও কথা বলেন এনসিপির এই নেতা। পাহাড়ের মানুষের জন্য যৌক্তিক মাত্রায় কোটা রাখার পক্ষে মত দিলেও এই ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে বিএনপির দলীয়করণের অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদ জানান।

খাগড়াছড়ি জেলা এনসিপির আহ্বায়ক নূর আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমন্বয় সভায় দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার ও আলী আহসান জুনায়েদসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ