প্রতিষ্ঠানটির ব্যবহৃত অঙ্গীকারনামায় ঠিকানা হিসেবে বাড়ি নং-০৬, রোড নং-০৩/এএফ, সেক্টর নং-০৯, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ উল্লেখ রয়েছে। একই নথিতে সরকারি নিবন্ধন নং-১৯৪০৭০ লেখা রয়েছে। তবে নিবন্ধন নম্বরটির বৈধতা এবং প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, বিভিন্ন মাধ্যমে চাকরির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেখে তারা আইইএসএস প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। নিরাপত্তাকর্মীসহ বিভিন্ন পদে চাকরির আশ্বাস দেওয়ার পর তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। কারও কাছ থেকে ২০ হাজার, আবার কারও কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এভাবে অনেক চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানটি কয়েক লাখ টাকা নিয়েছে। তবে মোট কতজন টাকা দিয়েছেন এবং সব মিলিয়ে কী পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীরা জানান, টাকা দেওয়ার পর দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও অনেকে প্রতিশ্রুত চাকরি পাননি। বারবার যোগাযোগ করেও সমাধান না পাওয়ায় একপর্যায়ে কয়েকজন ভুক্তভোগী উত্তরায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে চাকরি অথবা জমা দেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানান।
আর সেখানেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা ফেরত চাওয়ার একপর্যায়ে তাদের কয়েকজনকে ভবনের ভেতরে আটকে রাখা হয়। এরপর তাদের ওপর বেধড়ক মারধর চালানো হয়। ঘটনায় কয়েকজন আহত হন এবং কয়েকজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
তবে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঠিক কীভাবে হয়েছিল, কোন পক্ষ প্রথমে শারীরিক সংঘর্ষে জড়ায় এবং মোট কতজন আহত হয়েছেন—এসব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় থাকা ভবন ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে প্রতিষ্ঠানটির লোকজন ও অভিযোগকারী ভুক্তভোগীদের মধ্য থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গেছে।
দীর্ঘ সময় পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে গণমাধ্যমকর্মীরা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে তথ্য সংগ্রহ করেন। এ সময় আইইএসএস প্রাইভেট লিমিটেডের কার্যালয়ের ভেতরে বিভিন্ন আসবাবপত্র ও জিনিসপত্র এলোমেলো এবং তছনছ অবস্থায় দেখা যায়। তবে কার্যালয়ের এই অবস্থার জন্য কারা দায়ী বা কখন ভাঙচুর হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবহৃত একটি ‘অঙ্গীকারনামা’ থেকে দেখা যায়, সেখানে চাকরিপ্রার্থীর নাম, বাবা-মায়ের নাম, স্থায়ী ঠিকানা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন নম্বরসহ ব্যক্তিগত তথ্য নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
নথিতে কোম্পানির নিয়ম-কানুন মেনে সিকিউরিটি বিভাগে চাকরিতে যোগদানের কথা উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি খাওয়া ও থাকার জন্য টাকা জমা দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে। চাকরি ছেড়ে দিলে জমা করা টাকা ফেরতযোগ্য—এমন কথাও অঙ্গীকারনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, একটি দৃশ্যমান অফিস, কাগজপত্র এবং চাকরির নিশ্চয়তার কথা শুনেই তারা প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্বাস করেছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকেই বেকার ও নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্য। কেউ কেউ চাকরি পাওয়ার আশায় ধারদেনা করে টাকা জোগাড় করেছেন বলেও জানিয়েছেন।
একাধিক অভিযোগকারীর ভাষ্য, চাকরি না পাওয়ার পর জমা দেওয়া অর্থ ফেরত চাইলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা ঘুরছেন। ফলে চাকরি না পাওয়া এবং টাকা আটকে যাওয়ায় আর্থিক ও মানসিক—দুই ধরনের সংকটেই পড়েছেন তারা।
ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, শুধু এই প্রতিষ্ঠান নয়, উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় আকর্ষণীয় চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। নিরাপত্তাকর্মীর চাকরি, প্রশিক্ষণ, পোশাক, থাকা-খাওয়া কিংবা অন্যান্য খাতের কথা বলে অর্থ নেওয়া হয় বলে তাদের অভিযোগ। তবে উত্তরায় কার্যক্রম পরিচালনাকারী সব নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানকে একই অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা তাদের জমা দেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি মারধরের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। চাকরি দেওয়ার নামে কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়মবহির্ভূতভাবে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আইইএসএস প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে অর্থ নেওয়া, চাকরি না দেওয়া এবং টাকা চাইতে যাওয়া ব্যক্তিদের মারধরের বিষয়গুলো ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত কিংবা আদালতের সিদ্ধান্তের আগে প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট কাউকে প্রতারণা বা অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগের বিপরীতে তাদের অবস্থানও প্রকাশ করা প্রয়োজন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবহৃত অঙ্গীকারনামায় ঠিকানা হিসেবে বাড়ি নং-০৬, রোড নং-০৩/এএফ, সেক্টর নং-০৯, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ উল্লেখ রয়েছে। একই নথিতে সরকারি নিবন্ধন নং-১৯৪০৭০ লেখা রয়েছে। তবে নিবন্ধন নম্বরটির বৈধতা এবং প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদনের বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, বিভিন্ন মাধ্যমে চাকরির আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দেখে তারা আইইএসএস প্রাইভেট লিমিটেডের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। নিরাপত্তাকর্মীসহ বিভিন্ন পদে চাকরির আশ্বাস দেওয়ার পর তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। কারও কাছ থেকে ২০ হাজার, আবার কারও কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এভাবে অনেক চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানটি কয়েক লাখ টাকা নিয়েছে। তবে মোট কতজন টাকা দিয়েছেন এবং সব মিলিয়ে কী পরিমাণ অর্থ নেওয়া হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীরা জানান, টাকা দেওয়ার পর দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও অনেকে প্রতিশ্রুত চাকরি পাননি। বারবার যোগাযোগ করেও সমাধান না পাওয়ায় একপর্যায়ে কয়েকজন ভুক্তভোগী উত্তরায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে চাকরি অথবা জমা দেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানান।
আর সেখানেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, টাকা ফেরত চাওয়ার একপর্যায়ে তাদের কয়েকজনকে ভবনের ভেতরে আটকে রাখা হয়। এরপর তাদের ওপর বেধড়ক মারধর চালানো হয়। ঘটনায় কয়েকজন আহত হন এবং কয়েকজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় বলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
তবে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঠিক কীভাবে হয়েছিল, কোন পক্ষ প্রথমে শারীরিক সংঘর্ষে জড়ায় এবং মোট কতজন আহত হয়েছেন—এসব তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় থাকা ভবন ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে প্রতিষ্ঠানটির লোকজন ও অভিযোগকারী ভুক্তভোগীদের মধ্য থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গেছে।
দীর্ঘ সময় পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে গণমাধ্যমকর্মীরা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে তথ্য সংগ্রহ করেন। এ সময় আইইএসএস প্রাইভেট লিমিটেডের কার্যালয়ের ভেতরে বিভিন্ন আসবাবপত্র ও জিনিসপত্র এলোমেলো এবং তছনছ অবস্থায় দেখা যায়। তবে কার্যালয়ের এই অবস্থার জন্য কারা দায়ী বা কখন ভাঙচুর হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবহৃত একটি ‘অঙ্গীকারনামা’ থেকে দেখা যায়, সেখানে চাকরিপ্রার্থীর নাম, বাবা-মায়ের নাম, স্থায়ী ঠিকানা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন নম্বরসহ ব্যক্তিগত তথ্য নেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
নথিতে কোম্পানির নিয়ম-কানুন মেনে সিকিউরিটি বিভাগে চাকরিতে যোগদানের কথা উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি খাওয়া ও থাকার জন্য টাকা জমা দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে। চাকরি ছেড়ে দিলে জমা করা টাকা ফেরতযোগ্য—এমন কথাও অঙ্গীকারনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, একটি দৃশ্যমান অফিস, কাগজপত্র এবং চাকরির নিশ্চয়তার কথা শুনেই তারা প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্বাস করেছিলেন। তাদের মধ্যে অনেকেই বেকার ও নিম্ন আয়ের পরিবারের সদস্য। কেউ কেউ চাকরি পাওয়ার আশায় ধারদেনা করে টাকা জোগাড় করেছেন বলেও জানিয়েছেন।
একাধিক অভিযোগকারীর ভাষ্য, চাকরি না পাওয়ার পর জমা দেওয়া অর্থ ফেরত চাইলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা ঘুরছেন। ফলে চাকরি না পাওয়া এবং টাকা আটকে যাওয়ায় আর্থিক ও মানসিক—দুই ধরনের সংকটেই পড়েছেন তারা।
ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, শুধু এই প্রতিষ্ঠান নয়, উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় আকর্ষণীয় চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। নিরাপত্তাকর্মীর চাকরি, প্রশিক্ষণ, পোশাক, থাকা-খাওয়া কিংবা অন্যান্য খাতের কথা বলে অর্থ নেওয়া হয় বলে তাদের অভিযোগ। তবে উত্তরায় কার্যক্রম পরিচালনাকারী সব নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানকে একই অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত করার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা তাদের জমা দেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি মারধরের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। চাকরি দেওয়ার নামে কোনো প্রতিষ্ঠান নিয়মবহির্ভূতভাবে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছে কি না, সেটিও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আইইএসএস প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে অর্থ নেওয়া, চাকরি না দেওয়া এবং টাকা চাইতে যাওয়া ব্যক্তিদের মারধরের বিষয়গুলো ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত কিংবা আদালতের সিদ্ধান্তের আগে প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট কাউকে প্রতারণা বা অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগের বিপরীতে তাদের অবস্থানও প্রকাশ করা প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন