ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

১৪৪ ধারার মধ্যেই হবিগঞ্জমুখী এনসিপি, শ্রীমঙ্গলে পুলিশি বাধা


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬

১৪৪ ধারার মধ্যেই হবিগঞ্জমুখী এনসিপি, শ্রীমঙ্গলে পুলিশি বাধা
ছবি: সংগৃহীত

হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতাদের বহর আটকে দিয়েছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৪টার কিছু আগে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। তবে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চা-কন্যা এলাকায় পৌঁছালে তাদের বহর থামিয়ে দেয় পুলিশ।

মঙ্গলবার হবিগঞ্জে কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের হামলায় এনসিপির কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে দলটি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বুধবার সকাল থেকেই হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন।

১৪৪ ধারা জারির পরও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ, সারোয়ার তুষারসহ কেন্দ্রীয় নেতারা হবিগঞ্জে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা সদরে তিন প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

এনসিপির উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাহিদ উদ্দিন তারেক বলেন, তাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও ১৪৪ ধারার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সেই কর্মসূচি থেকে সরে এসেছে দল। তবে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরতে বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে।

অন্যদিকে হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব সফিকুর রহমান সিতু বলেন, হবিগঞ্জ শান্তিপ্রিয় জেলা এবং এখানকার রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি ঐতিহ্য রয়েছে। তিনি দাবি করেন, এনসিপির কিছু নেতার বক্তব্য রাজনৈতিক শালীনতার সীমা অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হক জানান, মঙ্গলবারের ঘটনার বিষয়ে এখনো কোনো মামলা হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জ শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে জুলাই পদযাত্রা শেষে সার্কিট হাউসের পথে সবুজবাগ এলাকায় এনসিপির নেতাদের বহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তারা সোনালী ব্যাংকের একটি শাখায় আশ্রয় নেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় সারজিস আলমসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।

রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এনসিপির নেতাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। পরে সারজিস আলম মৌলভীবাজারের উদ্দেশে রওনা হন এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকার পথে যাত্রা করেন।

ঘটনার পর ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও এনসিপি পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় বুধবার হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে মোতায়েন করা হয় তিন প্লাটুন বিজিবি।



এস.আর 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


১৪৪ ধারার মধ্যেই হবিগঞ্জমুখী এনসিপি, শ্রীমঙ্গলে পুলিশি বাধা

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬

featured Image

হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতাদের বহর আটকে দিয়েছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল ৪টার কিছু আগে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হন। তবে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চা-কন্যা এলাকায় পৌঁছালে তাদের বহর থামিয়ে দেয় পুলিশ।

মঙ্গলবার হবিগঞ্জে কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের হামলায় এনসিপির কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে দলটি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বুধবার সকাল থেকেই হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন।

১৪৪ ধারা জারির পরও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ, সারোয়ার তুষারসহ কেন্দ্রীয় নেতারা হবিগঞ্জে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা সদরে তিন প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।

এনসিপির উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাহিদ উদ্দিন তারেক বলেন, তাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হলেও ১৪৪ ধারার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সেই কর্মসূচি থেকে সরে এসেছে দল। তবে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরতে বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে।

অন্যদিকে হবিগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব সফিকুর রহমান সিতু বলেন, হবিগঞ্জ শান্তিপ্রিয় জেলা এবং এখানকার রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি ঐতিহ্য রয়েছে। তিনি দাবি করেন, এনসিপির কিছু নেতার বক্তব্য রাজনৈতিক শালীনতার সীমা অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল হক জানান, মঙ্গলবারের ঘটনার বিষয়ে এখনো কোনো মামলা হয়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জ শহরের সাইফুর রহমান টাউন হলের সামনে জুলাই পদযাত্রা শেষে সার্কিট হাউসের পথে সবুজবাগ এলাকায় এনসিপির নেতাদের বহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তারা সোনালী ব্যাংকের একটি শাখায় আশ্রয় নেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় সারজিস আলমসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।

রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এনসিপির নেতাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। পরে সারজিস আলম মৌলভীবাজারের উদ্দেশে রওনা হন এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকার পথে যাত্রা করেন।

ঘটনার পর ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও এনসিপি পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা করলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিবেচনায় বুধবার হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে মোতায়েন করা হয় তিন প্লাটুন বিজিবি।



এস.আর 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ