পদ্মা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব চিত্র পর্যালোচনা এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফরিদপুর সদর উপজেলার ভাঙ্গি ডাঙ্গী গ্রাম পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মো. মজহারুল ইসলাম।
মঙ্গলবার দুপুরে তিনি মোতালেব হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় এবং মাজেদা বেগম মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি শিক্ষা কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্যে তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের নেতিবাচক দিক তুলে ধরেন। মাদকাসক্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
এর আগে জেলা প্রশাসক মাজেদা বেগম মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র পরিদর্শন করে চিকিৎসাসেবা, জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির জনবল বৃদ্ধি এবং সেবার মান আরও উন্নত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। একই সঙ্গে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কেন্দ্রটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
বিকেলে মোতালেব হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মোতালেব হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে পৃথক পরামর্শ সভায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক। সভায় শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং পাঠদান আরও কার্যকর করার বিষয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পরিদর্শন উপলক্ষে আয়োজিত অভিভাবক সমাবেশে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা ও ক্রীড়া উপকরণ বিতরণ করা হয়। এছাড়া দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ করতে ১০টি বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য একটি নতুন কমন রুমের উদ্বোধনও করা হয়।
দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে জেলা প্রশাসক মো. মজহারুল ইসলাম ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন।
শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সচেতনতা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নকে একসঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচি চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
এস.আর

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুলাই ২০২৬
পদ্মা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার বাস্তব চিত্র পর্যালোচনা এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফরিদপুর সদর উপজেলার ভাঙ্গি ডাঙ্গী গ্রাম পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মো. মজহারুল ইসলাম।
মঙ্গলবার দুপুরে তিনি মোতালেব হোসেন উচ্চ বিদ্যালয় এবং মাজেদা বেগম মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) শফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি শিক্ষা কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় আরও মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্যে তিনি বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের নেতিবাচক দিক তুলে ধরেন। মাদকাসক্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
এর আগে জেলা প্রশাসক মাজেদা বেগম মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র পরিদর্শন করে চিকিৎসাসেবা, জনবল সংকট ও অবকাঠামোগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির জনবল বৃদ্ধি এবং সেবার মান আরও উন্নত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। একই সঙ্গে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে কেন্দ্রটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
বিকেলে মোতালেব হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মোতালেব হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে পৃথক পরামর্শ সভায় অংশ নেন জেলা প্রশাসক। সভায় শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং পাঠদান আরও কার্যকর করার বিষয়ে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পরিদর্শন উপলক্ষে আয়োজিত অভিভাবক সমাবেশে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা ও ক্রীড়া উপকরণ বিতরণ করা হয়। এছাড়া দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ করতে ১০টি বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য একটি নতুন কমন রুমের উদ্বোধনও করা হয়।
দিনব্যাপী কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে জেলা প্রশাসক মো. মজহারুল ইসলাম ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন।
শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সচেতনতা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নকে একসঙ্গে গুরুত্ব দিয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচি চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
এস.আর

আপনার মতামত লিখুন