ট্রাক্টর মালিকদের অভিযোগ, কৃষিকাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টর সড়কে উঠলেই বিভিন্ন স্থানে পুলিশ আটক করছে। ফলে প্রয়োজনীয় মেরামতের জন্যও অনেক ট্রাক্টর যশোর শহরের ওয়ার্কশপে আনা যাচ্ছে না। এতে একদিকে ট্রাক্টর মালিকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে পার্টস ব্যবসা ও ওয়ার্কশপগুলোতে মন্দা দেখা দিয়েছে।
তাদের দাবি, দক্ষিণাঞ্চলে লক্ষাধিক ট্রাক্টর মালিক এ সমস্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে কিংবা জমি বন্ধক রেখে ট্রাক্টর কেনা অনেক মালিক এখন কিস্তি পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছেন।
ট্রাক্টর মালিকদের অভিযোগ, যশোর শহরের মুড়োলি মোড়, খাজুরা বাসস্ট্যান্ড, পালবাড়ি ও চাঁচড়া চেকপোস্টসহ বিভিন্ন এলাকায় ট্রাক্টর আটকানো হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ট্রাক্টর ছাড়িয়ে নিতে উৎকোচ দিতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অনেক মালিক জানিয়েছেন, হয়রানির আশঙ্কায় তারা ট্রাক্টর বাড়িতেই রেখে দিচ্ছেন। এতে নতুন আরেকটি সমস্যা তৈরি হয়েছে। ট্রাক্টর নষ্ট হলে শহরের ওয়ার্কশপে নিয়ে আসার পরিবর্তে মিস্ত্রিকে বাড়িতে নিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে যে মেরামতকাজ আগে ৫০০ টাকায় করা যেত, যাতায়াতসহ সেই কাজের পেছনে কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যমতে, শুধু যশোর জেলায় প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার ট্রাক্টর রয়েছে। এসব ট্রাক্টরের সঙ্গে মালিক, চালক, সহকারী, পার্টস ব্যবসায়ী, মেকানিক ও লেদ কারখানার শ্রমিকসহ বহু মানুষের জীবিকা জড়িত।
ট্রাক্টর পার্টস ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাদল শেখ বলেন, ট্রাক্টর কৃষিকাজে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র। সড়কে চলাচলের সময় পুলিশ ট্রাক্টর আটকালে শুধু মালিক নন, এর সঙ্গে জীবিকা জড়িত হাজারো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সমস্যার দ্রুত সমাধানে যশোরের জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ট্রাক্টর মালিক ও ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, কৃষিকাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টরের প্রয়োজনীয় চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত না হলে এ খাতের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়বেন।
পার্টস ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান ভুট্ট, নাসির খসরু শাহীন, সফিয়ার রহমান, ফরিদ শেখ, সাইফুল মোড়ল ও আরিফুল ইসলাম এবং লেদ মালিক সমিতির জাহাঙ্গীর হোসেনও নিজেদের সংকটের কথা তুলে ধরেন। তারা যশোর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিতের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তাদের ভাষ্য, সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে অনেক ব্যবসায়ীকে ট্রাক্টর পার্টসের ব্যবসা ও সংশ্লিষ্ট পেশা ছেড়ে জীবিকার জন্য বিকল্প পথ খুঁজতে হতে পারে।
ট্রাক্টর পার্টস ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান বলেন, বিষয়টি যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ প্রতিমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। তবে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা তারা জানতে পারেননি। সমস্যা সমাধানে তারা তার উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এদিকে গত ২৮ জুলাই চাঁচড়ায় ট্রাক্টর মালিক ও ট্রাক্টর পার্টস ব্যবসায়ীদের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ট্রাক্টর পার্টস ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান আমান। সভায় উপস্থিত ছিলেন শাফিউর রহমান, সাইফুর রহমান, সাইফুল মীর, বাদল শেখ, জাহাঙ্গীর হোসেন, ট্রাক্টর মহাজন জাহাঙ্গীর হোসেন, শাহিন ও ফরিদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, মালিক, চালক ও সহকারীরা।
সভায় বাদল শেখ বলেন, অনেক খেটে খাওয়া মানুষ এনজিও ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কিংবা জমি বন্ধক রেখে ট্রাক্টর কিনেছেন। অর্থ সাশ্রয়ের জন্য অনেক মালিক নিজেই গাড়ি চালান, আবার কখনো নিজেরাই সহকারীর কাজ করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের আয় কমে যাওয়ায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, ট্রাক্টর শুধু একটি যান নয়, কৃষিকাজের পাশাপাশি এর সঙ্গে বহু মানুষের রুটি-রুজি জড়িয়ে রয়েছে। তাই কৃষিকাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টরের প্রয়োজনীয় চলাচলে হয়রানি বন্ধ এবং সমস্যাটির একটি স্থায়ী সমাধানে পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ চান তারা।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
ট্রাক্টর মালিকদের অভিযোগ, কৃষিকাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টর সড়কে উঠলেই বিভিন্ন স্থানে পুলিশ আটক করছে। ফলে প্রয়োজনীয় মেরামতের জন্যও অনেক ট্রাক্টর যশোর শহরের ওয়ার্কশপে আনা যাচ্ছে না। এতে একদিকে ট্রাক্টর মালিকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে পার্টস ব্যবসা ও ওয়ার্কশপগুলোতে মন্দা দেখা দিয়েছে।
তাদের দাবি, দক্ষিণাঞ্চলে লক্ষাধিক ট্রাক্টর মালিক এ সমস্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে কিংবা জমি বন্ধক রেখে ট্রাক্টর কেনা অনেক মালিক এখন কিস্তি পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছেন।
ট্রাক্টর মালিকদের অভিযোগ, যশোর শহরের মুড়োলি মোড়, খাজুরা বাসস্ট্যান্ড, পালবাড়ি ও চাঁচড়া চেকপোস্টসহ বিভিন্ন এলাকায় ট্রাক্টর আটকানো হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ট্রাক্টর ছাড়িয়ে নিতে উৎকোচ দিতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অনেক মালিক জানিয়েছেন, হয়রানির আশঙ্কায় তারা ট্রাক্টর বাড়িতেই রেখে দিচ্ছেন। এতে নতুন আরেকটি সমস্যা তৈরি হয়েছে। ট্রাক্টর নষ্ট হলে শহরের ওয়ার্কশপে নিয়ে আসার পরিবর্তে মিস্ত্রিকে বাড়িতে নিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে যে মেরামতকাজ আগে ৫০০ টাকায় করা যেত, যাতায়াতসহ সেই কাজের পেছনে কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্যমতে, শুধু যশোর জেলায় প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার ট্রাক্টর রয়েছে। এসব ট্রাক্টরের সঙ্গে মালিক, চালক, সহকারী, পার্টস ব্যবসায়ী, মেকানিক ও লেদ কারখানার শ্রমিকসহ বহু মানুষের জীবিকা জড়িত।
ট্রাক্টর পার্টস ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাদল শেখ বলেন, ট্রাক্টর কৃষিকাজে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র। সড়কে চলাচলের সময় পুলিশ ট্রাক্টর আটকালে শুধু মালিক নন, এর সঙ্গে জীবিকা জড়িত হাজারো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সমস্যার দ্রুত সমাধানে যশোরের জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন ট্রাক্টর মালিক ও ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, কৃষিকাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টরের প্রয়োজনীয় চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত না হলে এ খাতের সঙ্গে যুক্ত অনেকেই দেনায় জর্জরিত হয়ে পড়বেন।
পার্টস ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান ভুট্ট, নাসির খসরু শাহীন, সফিয়ার রহমান, ফরিদ শেখ, সাইফুল মোড়ল ও আরিফুল ইসলাম এবং লেদ মালিক সমিতির জাহাঙ্গীর হোসেনও নিজেদের সংকটের কথা তুলে ধরেন। তারা যশোর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ ইসলাম অমিতের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তাদের ভাষ্য, সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে অনেক ব্যবসায়ীকে ট্রাক্টর পার্টসের ব্যবসা ও সংশ্লিষ্ট পেশা ছেড়ে জীবিকার জন্য বিকল্প পথ খুঁজতে হতে পারে।
ট্রাক্টর পার্টস ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান বলেন, বিষয়টি যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ প্রতিমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। তবে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা তারা জানতে পারেননি। সমস্যা সমাধানে তারা তার উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এদিকে গত ২৮ জুলাই চাঁচড়ায় ট্রাক্টর মালিক ও ট্রাক্টর পার্টস ব্যবসায়ীদের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ট্রাক্টর পার্টস ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান আমান। সভায় উপস্থিত ছিলেন শাফিউর রহমান, সাইফুর রহমান, সাইফুল মীর, বাদল শেখ, জাহাঙ্গীর হোসেন, ট্রাক্টর মহাজন জাহাঙ্গীর হোসেন, শাহিন ও ফরিদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, মালিক, চালক ও সহকারীরা।
সভায় বাদল শেখ বলেন, অনেক খেটে খাওয়া মানুষ এনজিও ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে কিংবা জমি বন্ধক রেখে ট্রাক্টর কিনেছেন। অর্থ সাশ্রয়ের জন্য অনেক মালিক নিজেই গাড়ি চালান, আবার কখনো নিজেরাই সহকারীর কাজ করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের আয় কমে যাওয়ায় ঋণের কিস্তি পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, ট্রাক্টর শুধু একটি যান নয়, কৃষিকাজের পাশাপাশি এর সঙ্গে বহু মানুষের রুটি-রুজি জড়িয়ে রয়েছে। তাই কৃষিকাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টরের প্রয়োজনীয় চলাচলে হয়রানি বন্ধ এবং সমস্যাটির একটি স্থায়ী সমাধানে পুলিশ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ চান তারা।

আপনার মতামত লিখুন