আবু সাঈদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডি নির্বাচন ২০২৬ স্থগিত ঘোষণা করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন।
শনিবার (২৫ জুলাই) নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শুক্রবার রাতে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শামীমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক জরুরি নোটিশে এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়।
এদিকে নির্বাচন স্থগিতের নোটিশ প্রকাশের পর থেকেই প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত নির্বাচন বন্ধের পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় অধিবাসীরা পাল্টাপাল্টি স্লোগান ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা রাজনৈতিক ও দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নিজের অনুসারীদের নিয়ে একটি ‘সাজানো নির্বাচন’ আয়োজনের চক্রান্ত করছিলেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার আসামি বলেও দাবি করেন তারা।
অভিভাবকরা জানান, স্বজনপ্রীতি ও প্রশাসনিক অনিয়ম-দুর্নীতির বৈধতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে অধ্যক্ষ প্রতিষ্ঠানটিকে একটি ‘পকেট কমিটিতে’ রূপান্তরের চেষ্টা করছিলেন। সাধারণ অনেক অভিভাবককে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ দেওয়া হয়নি। প্রার্থী করার ক্ষেত্রে অধ্যক্ষ তার নিজের আওয়ামী লীগপন্থী স্বজনদের প্রাধান্য দিয়েছেন। এছাড়া বর্তমান সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিক্ষোভকারীরা। আন্দোলনকারীরা এ সময় অধ্যক্ষের দ্রুত পদত্যাগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অন্যদিকে নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শনিবার সকালে স্কুলের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা।
বিক্ষোভ চলাকালে ‘চেয়ার’ প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজাহান খান অভিযোগ করে বলেন,
"অধ্যক্ষ চক্রান্ত করে এই নির্বাচন স্থগিত করিয়েছেন। তিনি জানেন নির্বাচিত কমিটি দায়িত্ব নিলে তার অনিয়ম, মানি রসিদ ছাড়া অর্থ লেনদেন ও লুটপাট বন্ধ হয়ে যাবে। সেই ভয় থেকেই তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নির্বাচন পণ্ড করেছেন।"
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী একাধিক প্রার্থী দাবি করেন, নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং অভিভাবকরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তারাও অনতিবিলম্বে অধ্যক্ষের পদত্যাগ এবং দ্রুত সুষ্ঠু নির্বাচনের নতুন সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানান।
উত্থাপিত অনিয়মের অভিযোগ ও নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে জানতে সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি এবং তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুলাই ২০২৬
আবু সাঈদ, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডি নির্বাচন ২০২৬ স্থগিত ঘোষণা করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন।
শনিবার (২৫ জুলাই) নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শুক্রবার রাতে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শামীমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক জরুরি নোটিশে এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়।
এদিকে নির্বাচন স্থগিতের নোটিশ প্রকাশের পর থেকেই প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত নির্বাচন বন্ধের পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় অধিবাসীরা পাল্টাপাল্টি স্লোগান ও বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা রাজনৈতিক ও দলীয় প্রভাব ব্যবহার করে নিজের অনুসারীদের নিয়ে একটি ‘সাজানো নির্বাচন’ আয়োজনের চক্রান্ত করছিলেন। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার আসামি বলেও দাবি করেন তারা।
অভিভাবকরা জানান, স্বজনপ্রীতি ও প্রশাসনিক অনিয়ম-দুর্নীতির বৈধতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে অধ্যক্ষ প্রতিষ্ঠানটিকে একটি ‘পকেট কমিটিতে’ রূপান্তরের চেষ্টা করছিলেন। সাধারণ অনেক অভিভাবককে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ দেওয়া হয়নি। প্রার্থী করার ক্ষেত্রে অধ্যক্ষ তার নিজের আওয়ামী লীগপন্থী স্বজনদের প্রাধান্য দিয়েছেন। এছাড়া বর্তমান সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের নাম ভাঙিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন বিক্ষোভকারীরা। আন্দোলনকারীরা এ সময় অধ্যক্ষের দ্রুত পদত্যাগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
অন্যদিকে নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শনিবার সকালে স্কুলের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা।
বিক্ষোভ চলাকালে ‘চেয়ার’ প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজাহান খান অভিযোগ করে বলেন,
"অধ্যক্ষ চক্রান্ত করে এই নির্বাচন স্থগিত করিয়েছেন। তিনি জানেন নির্বাচিত কমিটি দায়িত্ব নিলে তার অনিয়ম, মানি রসিদ ছাড়া অর্থ লেনদেন ও লুটপাট বন্ধ হয়ে যাবে। সেই ভয় থেকেই তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নির্বাচন পণ্ড করেছেন।"
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী একাধিক প্রার্থী দাবি করেন, নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং অভিভাবকরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তারাও অনতিবিলম্বে অধ্যক্ষের পদত্যাগ এবং দ্রুত সুষ্ঠু নির্বাচনের নতুন সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানান।
উত্থাপিত অনিয়মের অভিযোগ ও নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে জানতে সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি এবং তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আপনার মতামত লিখুন