ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ভাঙছে কি জামায়াতের ১১ দলীয় জোট?


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬

ভাঙছে কি জামায়াতের ১১ দলীয় জোট?
ছবি: সংগৃহীত

কওমি ধারার কয়েকটি ইসলামি রাজনৈতিক দলকে এক ছাতার নিচে আনার উদ্যোগ ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর নেতৃত্বে সাতটি কওমি ঘরানার দলকে একমঞ্চে আনার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।

তবে সংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, বর্তমানে নতুন কোনো রাজনৈতিক জোট গঠন বা বিদ্যমান জোট ত্যাগের সিদ্ধান্ত হয়নি। তারা এটিকে কওমি ধারার দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও ঐক্যের উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এছাড়া হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান জানান, সাতটি দল ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধভাবে পথচলার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কওমি ঘরানার দলগুলো বিভিন্ন রাজনৈতিক জোটে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। সেই বিভক্তি দূর করে সবাইকে আবার এক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন সংগঠনের আমির।

অন্যদিকে জামায়াতের একটি অংশ মনে করছে, তাদের নেতৃত্বাধীন জোট থেকে কওমি দলগুলোকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির আহ্বায়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য এখনো অটুট রয়েছে। সংসদ ও রাজপথে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে তারা যৌথভাবে কর্মসূচি পালন করছেন। তার দাবি, এ ঐক্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা হলেও তা সফল হবে না।

এদিকে হেফাজতের বৈঠকে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, কওমি ধারার দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় তৈরির উদ্যোগের সঙ্গে ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোটের কোনো সাংগঠনিক বিরোধ নেই। রাজনৈতিক কর্মসূচি ও জাতীয় ইস্যুতে বিদ্যমান জোটের কার্যক্রম আগের মতোই চলবে।

একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইজহার। তিনি বলেন, ১১ দলীয় রাজনৈতিক ঐক্য তার নিজস্ব অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তবে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের আন্দোলনে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কওমি ধারার দলগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে। তবে তা বিদ্যমান জোট রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটি নির্ভর করবে আগামী দিনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনী কৌশলের ওপর।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ভাঙছে কি জামায়াতের ১১ দলীয় জোট?

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুলাই ২০২৬

featured Image

কওমি ধারার কয়েকটি ইসলামি রাজনৈতিক দলকে এক ছাতার নিচে আনার উদ্যোগ ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর নেতৃত্বে সাতটি কওমি ঘরানার দলকে একমঞ্চে আনার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।

তবে সংশ্লিষ্ট নেতারা বলছেন, বর্তমানে নতুন কোনো রাজনৈতিক জোট গঠন বা বিদ্যমান জোট ত্যাগের সিদ্ধান্ত হয়নি। তারা এটিকে কওমি ধারার দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও ঐক্যের উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

গত ১৬ জুলাই চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির জামেয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এছাড়া হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা সাজিদুর রহমান জানান, সাতটি দল ভবিষ্যতে ঐক্যবদ্ধভাবে পথচলার বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।

হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কওমি ঘরানার দলগুলো বিভিন্ন রাজনৈতিক জোটে বিভক্ত হয়ে পড়েছিল। সেই বিভক্তি দূর করে সবাইকে আবার এক প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন সংগঠনের আমির।

অন্যদিকে জামায়াতের একটি অংশ মনে করছে, তাদের নেতৃত্বাধীন জোট থেকে কওমি দলগুলোকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির আহ্বায়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ১১ দলীয় ঐক্য এখনো অটুট রয়েছে। সংসদ ও রাজপথে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে তারা যৌথভাবে কর্মসূচি পালন করছেন। তার দাবি, এ ঐক্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা হলেও তা সফল হবে না।

এদিকে হেফাজতের বৈঠকে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, কওমি ধারার দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় তৈরির উদ্যোগের সঙ্গে ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোটের কোনো সাংগঠনিক বিরোধ নেই। রাজনৈতিক কর্মসূচি ও জাতীয় ইস্যুতে বিদ্যমান জোটের কার্যক্রম আগের মতোই চলবে।

একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইজহার। তিনি বলেন, ১১ দলীয় রাজনৈতিক ঐক্য তার নিজস্ব অবস্থানে রয়েছে। ভবিষ্যতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তবে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের আন্দোলনে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কওমি ধারার দলগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে। তবে তা বিদ্যমান জোট রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটি নির্ভর করবে আগামী দিনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও নির্বাচনী কৌশলের ওপর।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ