ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সোনারগাঁয়ের এই দুর্নাম ঘুচবে কবে?



সোনারগাঁয়ের এই দুর্নাম ঘুচবে কবে?
ছবি ডিজাইন: ইফতেখার আহমেদ জুলহাস

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়কপথ। প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে হাজার হাজার যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। তবে দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের সোনারগাঁ অংশটি ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনার কারণে একটি নেতিবাচক পরিচিতি বহন করে আসছে। যদিও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, তবুও অতীতের সেই দুর্নামের ছাপ এখনও অনেক চালক ও যাত্রীর মনে গভীরভাবে রয়ে গেছে।

সম্প্রতি গৌরীপুর থেকে বাড়ি ফেরার পথে এমনই একটি বাস্তব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হলো। কয়েকজন শ্রদ্ধেয় বড় ভাইদের সঙ্গে একটি মাইক্রোবাসে করে যাত্রা করছিলাম। তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ কাজে ঢাকায় যাচ্ছিলেন, আর আমার গন্তব্য ছিল সোনারগাঁয়ের পুরান টিপুরদি। বড় ভাইদের সঙ্গে গল্প করতে করতে কখন যে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা অতিক্রম করেছি, তা টেরই পাইনি।

মোগরাপাড়া পেরিয়ে কঙ্কা ফ্যাক্টরির সামনে পৌঁছানোর পর আমি চালককে পুরান টিপুরদিতে নামিয়ে দিতে অনুরোধ করি। কিন্তু রাতের অন্ধকারে এলাকাটির পরিবেশ দেখে তিনি কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পরে বুঝতে পারি, তাঁর এই দ্বিধার পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের একটি ভয়—ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ অংশে ছিনতাই ও ডাকাতির পুরনো দুর্নাম। শেষ পর্যন্ত তিনি আমাকে পুরান টিপুরদিতে না নামিয়ে চৈতি কম্পোজিট এর সামনে (নতুন টিপুরদী) নামিয়ে দেন।

আমি যখন চালককে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কি ভয় পেয়েছেন, তখন তিনি নীরব ছিলেন। তাঁর এই নীরবতাই যেন একটি বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি—সোনারগাঁয়ের নাম শুনলে এখনও অনেক চালকের মনে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি কাজ করে।

তবে এটিও সত্য যে, অতীতের তুলনায় বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ অংশে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সোনারগাঁও থানা পুলিশ-এর নিয়মিত টহল, নজরদারি বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার ফলে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রশংসার দাবিদার।

তবে শুধুমাত্র অপরাধ কমে গেলেই হবে না; মানুষের মন থেকে ভয় ও অবিশ্বাসও দূর করতে হবে। কারণ, কোনো এলাকার ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের জন্য অপরাধ দমন যেমন জরুরি, তেমনি জনমনে নিরাপত্তার অনুভূতি ফিরিয়ে আনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সোনারগাঁয়ের ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, অতীতের সেই নেতিবাচক পরিচিতিকে পুরোপুরি মুছে ফেলা।

আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে সোনারগাঁয়ের মহাসড়ক এলাকায় আরও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিয়মিত টহল এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। একসময় যে সোনারগাঁ ছিনতাই ও ডাকাতির কারণে আলোচিত ছিল, ভবিষ্যতে সেই সোনারগাঁ নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রাপথের উদাহরণ হয়ে উঠবে—এটাই সকলের প্রত্যাশা।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


সোনারগাঁয়ের এই দুর্নাম ঘুচবে কবে?

প্রকাশের তারিখ : ০৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়কপথ। প্রতিদিন এই মহাসড়ক দিয়ে হাজার হাজার যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। তবে দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের সোনারগাঁ অংশটি ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনার কারণে একটি নেতিবাচক পরিচিতি বহন করে আসছে। যদিও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, তবুও অতীতের সেই দুর্নামের ছাপ এখনও অনেক চালক ও যাত্রীর মনে গভীরভাবে রয়ে গেছে।

সম্প্রতি গৌরীপুর থেকে বাড়ি ফেরার পথে এমনই একটি বাস্তব অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হলো। কয়েকজন শ্রদ্ধেয় বড় ভাইদের সঙ্গে একটি মাইক্রোবাসে করে যাত্রা করছিলাম। তাঁরা গুরুত্বপূর্ণ কাজে ঢাকায় যাচ্ছিলেন, আর আমার গন্তব্য ছিল সোনারগাঁয়ের পুরান টিপুরদি। বড় ভাইদের সঙ্গে গল্প করতে করতে কখন যে মোগরাপাড়া চৌরাস্তা অতিক্রম করেছি, তা টেরই পাইনি।

মোগরাপাড়া পেরিয়ে কঙ্কা ফ্যাক্টরির সামনে পৌঁছানোর পর আমি চালককে পুরান টিপুরদিতে নামিয়ে দিতে অনুরোধ করি। কিন্তু রাতের অন্ধকারে এলাকাটির পরিবেশ দেখে তিনি কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। পরে বুঝতে পারি, তাঁর এই দ্বিধার পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের একটি ভয়—ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ অংশে ছিনতাই ও ডাকাতির পুরনো দুর্নাম। শেষ পর্যন্ত তিনি আমাকে পুরান টিপুরদিতে না নামিয়ে চৈতি কম্পোজিট এর সামনে (নতুন টিপুরদী) নামিয়ে দেন।

আমি যখন চালককে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কি ভয় পেয়েছেন, তখন তিনি নীরব ছিলেন। তাঁর এই নীরবতাই যেন একটি বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি—সোনারগাঁয়ের নাম শুনলে এখনও অনেক চালকের মনে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি কাজ করে।

তবে এটিও সত্য যে, অতীতের তুলনায় বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁ অংশে ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সোনারগাঁও থানা পুলিশ-এর নিয়মিত টহল, নজরদারি বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার ফলে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রশংসার দাবিদার।

তবে শুধুমাত্র অপরাধ কমে গেলেই হবে না; মানুষের মন থেকে ভয় ও অবিশ্বাসও দূর করতে হবে। কারণ, কোনো এলাকার ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের জন্য অপরাধ দমন যেমন জরুরি, তেমনি জনমনে নিরাপত্তার অনুভূতি ফিরিয়ে আনাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সোনারগাঁয়ের ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, অতীতের সেই নেতিবাচক পরিচিতিকে পুরোপুরি মুছে ফেলা।

আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে সোনারগাঁয়ের মহাসড়ক এলাকায় আরও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নিয়মিত টহল এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে। একসময় যে সোনারগাঁ ছিনতাই ও ডাকাতির কারণে আলোচিত ছিল, ভবিষ্যতে সেই সোনারগাঁ নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাত্রাপথের উদাহরণ হয়ে উঠবে—এটাই সকলের প্রত্যাশা।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ