ভোরের আলো ফোটার আগেই যে খামারগুলো মুখরিত হয়ে উঠত হাজারো মুরগির কলকাকলিতে, যেখানে খামারিদের চোখে থাকত স্বাবলম্বী হওয়ার সোনালী স্বপ্ন—আজ সেখানে শুধুই এক নীরব হাহাকার। উৎপাদন খরচের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি আর বাজারে ডিমের আকস্মিক দরপতনের নিষ্ঠুর জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে কিশোরগঞ্জের পোল্ট্রি শিল্প এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। খামারিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ, চোখে পানি আর পকেটে কেবলই ঋণের বোঝা। "সবাই কয় ডিম বেচলে লাভ, কিন্তু আমাগো যে বুকের রক্ত পানি হইতাছে, হেই খবর কেউ রাহে না!"—চোখের জল মুছতে মুছতে এভাবেই নিজের আকুতি প্রকাশ করলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের খামারি রফিকুল ইসলাম। এটি কেবল রফিকুলের একার কণ্ঠস্বর নয়, জেলা সদর থেকে শুরু করে পাকুন্দিয়া, বাজিতপুর, করিমগঞ্জ কিংবা তাড়াইলের হাজারো ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারির ঘরে ঘরে আজ একই কান্নার সুর।
গত এক বছরে পোল্ট্রি খাদ্যের (ফিড) দাম বেড়েছে জ্যামিতিক হারে। এর সাথে যোগ হয়েছে ওষুধ, ভিটামিন, বিদ্যুৎ বিল এবং খামার শ্রমিকের মজুরি। খামারিদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী ফিডের আকাশছোঁয়া দাম। এক বস্তা (৫০ কেজি) লেয়ার ফিডের দাম যেখানে আগে ছিল ২,২০০ থেকে ২,৪০০ টাকা, তা এখন ৩,৬০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
এক দিনের একটি লেয়ার বাচ্চার দামও সাধারণ খামারিদের নাগালের বাইরে। তাছাড়া মুরগির রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ভ্যাকসিনের দাম বেড়েছে প্রায় ৪০%। সব মিলিয়ে বর্তমানে কিশোরগঞ্জে প্রতিটি ডিমের উৎপাদন খরচ পড়ছে প্রায় ১০ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১১ টাকা। অথচ বাজারে পাইকারি দরে সেই ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৮ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৯ টাকায়। অর্থাৎ, প্রতিটি ডিম বিক্রিতে খামারিদের পকেট থেকে লোকসান দিতে হচ্ছে প্রায় ২ টাকা! প্রতিদিন হাজার হাজার ডিম উৎপাদনকারী একটি খামারে এই লোকসানের অঙ্কটা কত বড় ও ভয়াবহ, তা সহজেই অনুমেয়।
সরেজমিনে কিশোরগঞ্জের বড় বাজার, পুরান থানা বাজার ও কাচারী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা পর্যায়ে সাধারণ ক্রেতারা ঠিকই প্রতি হালি ডিম ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায় (অর্থাৎ ১১ থেকে ১২ টাকা পিস) কিনছেন। অথচ খামারিরা সেই লভ্যাংশ পাচ্ছেন না।
কিশোরগঞ্জ জেলা পোল্ট্রি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ এনামুল হক প্রতিবেদককে জানান, "আমরা রক্ত পানি করে ডিম উৎপাদন করছি, আর মাঝখান থেকে আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট সব লাভ লুটে নিচ্ছে। ডিম পচনশীল পণ্য, আমরা তো আর ধরে রাখতে পারি না। বাধ্য হয়ে লসে ছেড়ে দিতে হয়।"
খামারিদের অভিযোগ, বাজারে ডিমের কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত সরবরাহের অজুহাত দেখিয়ে আড়তদাররা প্রতিদিন সকালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ডিমের দাম নির্ধারণ করে দেন। এই 'মোবাইল সিন্ডিকেটের' কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন মাঠপর্যায়ের প্রান্তিক খামারিরা।
কিশোরগঞ্জ জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় কয়েক হাজার পোল্ট্রি খামার রয়েছে, যা এই অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রেখেছিল এবং হাজার হাজার বেকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে গত কয়েক মাসে জেলার প্রায় ৩০% খামার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
করিমগঞ্জ উপজেলার চামড়া বন্দরের নারী উদ্যোক্তা সুফিয়া বেগম জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এবং গহনা বন্ধক রেখে তিনি ৫০০ মুরগির একটি খামার দিয়েছিলেন। গত চার মাসের টানা লোকসানে তিনি এখন নিঃস্ব। সুফিয়া বলেন, "মুরগিরে খাওন না দিলে চিল্লাইয়া ওঠে, ওই চিল্লানি শুনলে কলিজা ফাইট্টা যায়। টেকার অভাবে ফিড কিনতে পারি না। তাই বাধ্য অইয়া অর্ধেক দামে মুরগিডি বেইচ্যা দিছি। এখন ঋণের কিস্তি দিমু কেমনে আর সংসার চালামু কেমনে, আল্লাই জানে।"
অনেক খামারি ঋণের কিস্তি জোগাড় করতে না পেরে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। পোল্ট্রি শিল্পের এই বিপর্যয় কেবল খামারিদেরই নয়, এর সাথে জড়িত ফিড ব্যবসায়ী, ওষুধ বিক্রেতা এবং পরিবহন শ্রমিকদের জীবনযাত্রাতেও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ডিমকে বলা হয় গরিবের প্রোটিনের প্রধান উৎস। কিন্তু খামারিরা যদি এভাবে একের পর এক খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন, তবে দীর্ঘমেয়াদে বাজারে ডিমের তীব্র সংকট তৈরি হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ডিমের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যেতে পারে, যা দেশের পুষ্টি নিরাপত্তাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলবে। পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে না পারলে দেশীয় আমিষের বাজারে এক ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে।
এই অন্ধকার সময় পার করতে কিশোরগঞ্জের খামারিরা সরকারের কাছে জরুরি ভিত্তিতে কিছু দাবি জানিয়েছেন। তারা জানান, পোল্ট্রি ফিড ও ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ছাড় দিয়ে বাজারমূল্য দ্রুত খামারিদের নাগালের মধ্যে আনতে হবে। সরকারিভাবে ডিমের একটি যৌক্তিক উৎপাদন খরচ হিসাব করে সর্বনিম্ন বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করতে হবে যাতে খামারিরা লোকসানের হাত থেকে বাঁচেন। আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজি বন্ধে বাজার মনিটরিং জোরদার করতে হবে। তাছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ করা এবং নামমাত্র সুদে বা বিনা সুদে পূন অর্থায়ন ঋণ প্রদান করার বন্দোবস্ত করতে হবে।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "খামারিদের এই সংকটের কথা আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। পোল্ট্রি ফিডের দাম কমানো এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা না গেলে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।"
কিশোরগঞ্জের পোল্ট্রি খামারিরা কোনো দয়া বা অনুদান চান না। তারা চান তাদের কষ্টের সঠিক মূল্যায়ন। যে খামারিরা দেশের মানুষের পুষ্টির জোগান দিতে নিজেদের দিনরাত এক করে দেন, আজ তারা নিজেরাই পুষ্টিহীন ও সহায়-সম্বলহীন হওয়ার পথে। সরকারের নীতিনির্ধারক মহল কি এই নীরব হাহাকার শুনবেন? কিশোরগঞ্জের সবুজ শ্যামল গাঁয়ে আবার কি ফিরে আসবে খামারিদের সেই চেনা মুখের চওড়া হাসি? এই প্রশ্নই এখন বাতাসের ভেসে বেড়াচ্ছে হাওর-বাঁওড়ের এই জনপদে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬
ভোরের আলো ফোটার আগেই যে খামারগুলো মুখরিত হয়ে উঠত হাজারো মুরগির কলকাকলিতে, যেখানে খামারিদের চোখে থাকত স্বাবলম্বী হওয়ার সোনালী স্বপ্ন—আজ সেখানে শুধুই এক নীরব হাহাকার। উৎপাদন খরচের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি আর বাজারে ডিমের আকস্মিক দরপতনের নিষ্ঠুর জাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে কিশোরগঞ্জের পোল্ট্রি শিল্প এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। খামারিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ, চোখে পানি আর পকেটে কেবলই ঋণের বোঝা। "সবাই কয় ডিম বেচলে লাভ, কিন্তু আমাগো যে বুকের রক্ত পানি হইতাছে, হেই খবর কেউ রাহে না!"—চোখের জল মুছতে মুছতে এভাবেই নিজের আকুতি প্রকাশ করলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের খামারি রফিকুল ইসলাম। এটি কেবল রফিকুলের একার কণ্ঠস্বর নয়, জেলা সদর থেকে শুরু করে পাকুন্দিয়া, বাজিতপুর, করিমগঞ্জ কিংবা তাড়াইলের হাজারো ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারির ঘরে ঘরে আজ একই কান্নার সুর।
গত এক বছরে পোল্ট্রি খাদ্যের (ফিড) দাম বেড়েছে জ্যামিতিক হারে। এর সাথে যোগ হয়েছে ওষুধ, ভিটামিন, বিদ্যুৎ বিল এবং খামার শ্রমিকের মজুরি। খামারিদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী ফিডের আকাশছোঁয়া দাম। এক বস্তা (৫০ কেজি) লেয়ার ফিডের দাম যেখানে আগে ছিল ২,২০০ থেকে ২,৪০০ টাকা, তা এখন ৩,৬০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
এক দিনের একটি লেয়ার বাচ্চার দামও সাধারণ খামারিদের নাগালের বাইরে। তাছাড়া মুরগির রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ভ্যাকসিনের দাম বেড়েছে প্রায় ৪০%। সব মিলিয়ে বর্তমানে কিশোরগঞ্জে প্রতিটি ডিমের উৎপাদন খরচ পড়ছে প্রায় ১০ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১১ টাকা। অথচ বাজারে পাইকারি দরে সেই ডিম বিক্রি করতে হচ্ছে মাত্র ৮ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৯ টাকায়। অর্থাৎ, প্রতিটি ডিম বিক্রিতে খামারিদের পকেট থেকে লোকসান দিতে হচ্ছে প্রায় ২ টাকা! প্রতিদিন হাজার হাজার ডিম উৎপাদনকারী একটি খামারে এই লোকসানের অঙ্কটা কত বড় ও ভয়াবহ, তা সহজেই অনুমেয়।
সরেজমিনে কিশোরগঞ্জের বড় বাজার, পুরান থানা বাজার ও কাচারী বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা পর্যায়ে সাধারণ ক্রেতারা ঠিকই প্রতি হালি ডিম ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায় (অর্থাৎ ১১ থেকে ১২ টাকা পিস) কিনছেন। অথচ খামারিরা সেই লভ্যাংশ পাচ্ছেন না।
কিশোরগঞ্জ জেলা পোল্ট্রি মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ এনামুল হক প্রতিবেদককে জানান, "আমরা রক্ত পানি করে ডিম উৎপাদন করছি, আর মাঝখান থেকে আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট সব লাভ লুটে নিচ্ছে। ডিম পচনশীল পণ্য, আমরা তো আর ধরে রাখতে পারি না। বাধ্য হয়ে লসে ছেড়ে দিতে হয়।"
খামারিদের অভিযোগ, বাজারে ডিমের কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত সরবরাহের অজুহাত দেখিয়ে আড়তদাররা প্রতিদিন সকালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ডিমের দাম নির্ধারণ করে দেন। এই 'মোবাইল সিন্ডিকেটের' কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন মাঠপর্যায়ের প্রান্তিক খামারিরা।
কিশোরগঞ্জ জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় কয়েক হাজার পোল্ট্রি খামার রয়েছে, যা এই অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রেখেছিল এবং হাজার হাজার বেকারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে গত কয়েক মাসে জেলার প্রায় ৩০% খামার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
করিমগঞ্জ উপজেলার চামড়া বন্দরের নারী উদ্যোক্তা সুফিয়া বেগম জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এবং গহনা বন্ধক রেখে তিনি ৫০০ মুরগির একটি খামার দিয়েছিলেন। গত চার মাসের টানা লোকসানে তিনি এখন নিঃস্ব। সুফিয়া বলেন, "মুরগিরে খাওন না দিলে চিল্লাইয়া ওঠে, ওই চিল্লানি শুনলে কলিজা ফাইট্টা যায়। টেকার অভাবে ফিড কিনতে পারি না। তাই বাধ্য অইয়া অর্ধেক দামে মুরগিডি বেইচ্যা দিছি। এখন ঋণের কিস্তি দিমু কেমনে আর সংসার চালামু কেমনে, আল্লাই জানে।"
অনেক খামারি ঋণের কিস্তি জোগাড় করতে না পেরে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। পোল্ট্রি শিল্পের এই বিপর্যয় কেবল খামারিদেরই নয়, এর সাথে জড়িত ফিড ব্যবসায়ী, ওষুধ বিক্রেতা এবং পরিবহন শ্রমিকদের জীবনযাত্রাতেও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
ডিমকে বলা হয় গরিবের প্রোটিনের প্রধান উৎস। কিন্তু খামারিরা যদি এভাবে একের পর এক খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন, তবে দীর্ঘমেয়াদে বাজারে ডিমের তীব্র সংকট তৈরি হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে ডিমের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যেতে পারে, যা দেশের পুষ্টি নিরাপত্তাকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলবে। পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে না পারলে দেশীয় আমিষের বাজারে এক ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসবে।
এই অন্ধকার সময় পার করতে কিশোরগঞ্জের খামারিরা সরকারের কাছে জরুরি ভিত্তিতে কিছু দাবি জানিয়েছেন। তারা জানান, পোল্ট্রি ফিড ও ওষুধের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ছাড় দিয়ে বাজারমূল্য দ্রুত খামারিদের নাগালের মধ্যে আনতে হবে। সরকারিভাবে ডিমের একটি যৌক্তিক উৎপাদন খরচ হিসাব করে সর্বনিম্ন বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করতে হবে যাতে খামারিরা লোকসানের হাত থেকে বাঁচেন। আড়তদার ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজি বন্ধে বাজার মনিটরিং জোরদার করতে হবে। তাছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ করা এবং নামমাত্র সুদে বা বিনা সুদে পূন অর্থায়ন ঋণ প্রদান করার বন্দোবস্ত করতে হবে।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "খামারিদের এই সংকটের কথা আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। পোল্ট্রি ফিডের দাম কমানো এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা না গেলে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।"
কিশোরগঞ্জের পোল্ট্রি খামারিরা কোনো দয়া বা অনুদান চান না। তারা চান তাদের কষ্টের সঠিক মূল্যায়ন। যে খামারিরা দেশের মানুষের পুষ্টির জোগান দিতে নিজেদের দিনরাত এক করে দেন, আজ তারা নিজেরাই পুষ্টিহীন ও সহায়-সম্বলহীন হওয়ার পথে। সরকারের নীতিনির্ধারক মহল কি এই নীরব হাহাকার শুনবেন? কিশোরগঞ্জের সবুজ শ্যামল গাঁয়ে আবার কি ফিরে আসবে খামারিদের সেই চেনা মুখের চওড়া হাসি? এই প্রশ্নই এখন বাতাসের ভেসে বেড়াচ্ছে হাওর-বাঁওড়ের এই জনপদে।

আপনার মতামত লিখুন