মাত্র এক রাতের সামান্য মনোমালিন্য। ভোর হলে আর কোনো কথা না বলেই মাইক্রোবাস নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন জাফর। পরিবারের কেউ তখনও কল্পনাও করতে পারেননি, সেটিই হবে তার শেষ বিদায়। কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হওয়া মানুষটি আর জীবিত ফিরলেন না। সন্ধ্যা নামার আগেই স্বজনদের কাছে পৌঁছে যায় তার মৃত্যুর মর্মান্তিক সংবাদ।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাসের সঙ্গে জাফরের চালিত মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি।
নিহত জাফরের বাড়ি উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ডাকুয়া পাড়ায়। পরিবার জানায়, আগের রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সামান্য মনোমালিন্য হয়েছিল। সেই অভিমান নিয়েই শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান জাফর। কিন্তু সন্ধ্যায় ফিরে আসে শুধু তার মৃত্যুর খবর।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্বামীর মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্ত্রী বলেন, “রাতে আমাদের সামান্য মনোমালিন্য হয়েছিল। সকালে সে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে যায়। সন্ধ্যায় খবর পেলাম, আমার স্বামী আর বেঁচে নেই।”
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জাফরের একটি ছোট সন্তান রয়েছে। এছাড়া তার স্ত্রী বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। অনাগত সন্তানকে ঘিরে ছিল পরিবারের নানা স্বপ্ন ও পরিকল্পনা। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই সবকিছু বদলে যায়।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভিড় করেন স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনরা। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে শোক আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। একই সঙ্গে শোকের ছায়া নেমে আসে ডাকুয়া পাড়ার বাড়িতেও, যেখানে অপেক্ষা ছিল পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যটির নিরাপদে ফিরে আসার।
এক রাতের অভিমান হয়তো সময়ের সঙ্গে মিটে যেত। কিন্তু নির্মম সড়ক দুর্ঘটনা সেই সুযোগ আর দেয়নি। রেখে গেছে এক অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী, একটি অবুঝ সন্তান এবং একটি পরিবারের আজীবনের বেদনা।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুলাই ২০২৬
মাত্র এক রাতের সামান্য মনোমালিন্য। ভোর হলে আর কোনো কথা না বলেই মাইক্রোবাস নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন জাফর। পরিবারের কেউ তখনও কল্পনাও করতে পারেননি, সেটিই হবে তার শেষ বিদায়। কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হওয়া মানুষটি আর জীবিত ফিরলেন না। সন্ধ্যা নামার আগেই স্বজনদের কাছে পৌঁছে যায় তার মৃত্যুর মর্মান্তিক সংবাদ।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাসের সঙ্গে জাফরের চালিত মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি।
নিহত জাফরের বাড়ি উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের ডাকুয়া পাড়ায়। পরিবার জানায়, আগের রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সামান্য মনোমালিন্য হয়েছিল। সেই অভিমান নিয়েই শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান জাফর। কিন্তু সন্ধ্যায় ফিরে আসে শুধু তার মৃত্যুর খবর।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্বামীর মরদেহের পাশে দাঁড়িয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্ত্রী বলেন, “রাতে আমাদের সামান্য মনোমালিন্য হয়েছিল। সকালে সে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে যায়। সন্ধ্যায় খবর পেলাম, আমার স্বামী আর বেঁচে নেই।”
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, জাফরের একটি ছোট সন্তান রয়েছে। এছাড়া তার স্ত্রী বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। অনাগত সন্তানকে ঘিরে ছিল পরিবারের নানা স্বপ্ন ও পরিকল্পনা। কিন্তু একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই সবকিছু বদলে যায়।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভিড় করেন স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনরা। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে শোক আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। একই সঙ্গে শোকের ছায়া নেমে আসে ডাকুয়া পাড়ার বাড়িতেও, যেখানে অপেক্ষা ছিল পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যটির নিরাপদে ফিরে আসার।
এক রাতের অভিমান হয়তো সময়ের সঙ্গে মিটে যেত। কিন্তু নির্মম সড়ক দুর্ঘটনা সেই সুযোগ আর দেয়নি। রেখে গেছে এক অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী, একটি অবুঝ সন্তান এবং একটি পরিবারের আজীবনের বেদনা।

আপনার মতামত লিখুন