মূত্রথলির বা ব্লাডার ক্যানসার তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত হলেও বিশ্বজুড়ে এর রোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। পুরুষরা নারীদের তুলনায় এতে বেশি আক্রান্ত হন বলে জানা গেছে।
বিশেষ করে শহর ও শিল্পাঞ্চলে বসবাসকারী এবং দীর্ঘদিন ধরে ধূমপান করেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে ঝুঁকি আরও বেশি। চিকিৎসকদের মতে, ধূমপানই ব্লাডার ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ। তামাকের ক্ষতিকর রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হওয়ার সময় মূত্রাশয়ের আস্তরণে ক্ষতি করে, যা ধীরে ধীরে ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করে।
এ ছাড়া পারিবারিক ইতিহাস, বয়স, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং রং, রাবার, চামড়া ও বস্ত্রশিল্পে ব্যবহৃত কিছু রাসায়নিকের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শও এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ব্লাডার ক্যানসারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া। এটি উজ্জ্বল লাল রঙের হতে পারে, আবার অনেক সময় গাঢ় কোলার মতো রঙেও দেখা যায়। কখনও কখনও এতে রক্ত জমাটও দেখা যেতে পারে।
এর পাশাপাশি ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ, প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা, এবং তলপেট বা পিঠে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা হতে পারে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
রোগ নির্ণয়ে সাধারণত প্রস্রাব ও রক্ত পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, সিস্টোস্কোপি, ইমেজিং পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে বায়োপসি করা হয়। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যানসারের উপস্থিতি ও বিস্তার সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।
চিকিৎসকদের মতে, প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা গেলে ব্লাডার ক্যানসারের চিকিৎসা সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই প্রস্রাবে রক্ত দেখা দিলে বা দীর্ঘদিন মূত্রজনিত সমস্যা থাকলে সেটিকে অবহেলা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ধূমপান পরিহার, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা এই রোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পুরুষদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি দেখা গেলেও নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ জুলাই ২০২৬
মূত্রথলির বা ব্লাডার ক্যানসার তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত হলেও বিশ্বজুড়ে এর রোগীর সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। পুরুষরা নারীদের তুলনায় এতে বেশি আক্রান্ত হন বলে জানা গেছে।
বিশেষ করে শহর ও শিল্পাঞ্চলে বসবাসকারী এবং দীর্ঘদিন ধরে ধূমপান করেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে ঝুঁকি আরও বেশি। চিকিৎসকদের মতে, ধূমপানই ব্লাডার ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ। তামাকের ক্ষতিকর রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করে প্রস্রাবের মাধ্যমে বের হওয়ার সময় মূত্রাশয়ের আস্তরণে ক্ষতি করে, যা ধীরে ধীরে ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করে।
এ ছাড়া পারিবারিক ইতিহাস, বয়স, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং রং, রাবার, চামড়া ও বস্ত্রশিল্পে ব্যবহৃত কিছু রাসায়নিকের দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শও এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ব্লাডার ক্যানসারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হলো প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া। এটি উজ্জ্বল লাল রঙের হতে পারে, আবার অনেক সময় গাঢ় কোলার মতো রঙেও দেখা যায়। কখনও কখনও এতে রক্ত জমাটও দেখা যেতে পারে।
এর পাশাপাশি ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ, প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা, এবং তলপেট বা পিঠে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা হতে পারে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
রোগ নির্ণয়ে সাধারণত প্রস্রাব ও রক্ত পরীক্ষা, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, সিস্টোস্কোপি, ইমেজিং পরীক্ষা এবং প্রয়োজনে বায়োপসি করা হয়। এসব পরীক্ষার মাধ্যমে ক্যানসারের উপস্থিতি ও বিস্তার সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।
চিকিৎসকদের মতে, প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করা গেলে ব্লাডার ক্যানসারের চিকিৎসা সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই প্রস্রাবে রক্ত দেখা দিলে বা দীর্ঘদিন মূত্রজনিত সমস্যা থাকলে সেটিকে অবহেলা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ধূমপান পরিহার, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সময়মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা এই রোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পুরুষদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি দেখা গেলেও নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন