রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসন ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ঢাকা মহানগরী থেকে সব ধরনের ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক পুরোপুরি সরিয়ে ফেলার চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক উল্টো চিত্র দেখা গেছে ঢাকার একেবারে কোল ঘেঁষে থাকা প্রাচ্যের ড্যান্ডিখ্যাত বাণিজ্যিক নগরী নারায়ণগঞ্জে। ঢাকায় যখন ইজিবাইক নিষিদ্ধের তোড়জোড় চলছে, সেখানে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) এলাকায় এই ইজিবাইককে দেওয়া হয়েছে বৈধ লাইসেন্স ও নম্বরপ্লেট। কাছাকাছি দুটি শহরের এমন 'দুই মেরুর' সিদ্ধান্তে চরম সন্দিহান ও বিভ্রান্ত সাধারণ নগরবাসী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকায় প্রতিনিয়ত তীব্র যানজট, যত্রতত্র ট্রাফিক আইন অমান্য এবং সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে এই ইজিবাইকগুলোকে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। যার ফলে নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে ঢাকার সড়ক থেকে এগুলো চিরতরে দূর করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে।
ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় ইজিবাইক চলাচলকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট ফি’র বিনিময়ে দেওয়া হয়েছে নম্বরপ্লেট, যা থেকে সিটি করপোরেশন নিয়মিত রাজস্ব আদায় করছে। সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর আমলে চালু করা এই সিদ্ধান্ত নতুন করে চালিয়ে নিচ্ছেন বর্তমান প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান। নানামুখী পরিকল্পনার কথা জানানো হলেও ইজিবাইকজনিত সংকটের সমাধান মিলছে না কিছুতেই।
বৈধতা দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র একেবারেই ভিন্ন ও উদ্বেগজনক। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশন যে পরিমাণ ইজিবাইকের অনুমোদন দিয়েছে, বাস্তবে সড়কে চলাচল করছে তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অবৈধ ইজিবাইক। অনুমোদনহীন এসব ইজিবাইকের দাপটে পুরো নারায়ণগঞ্জ শহর এখন সাধারণ মানুষের চলাচলের একপ্রকার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে—
চাষাড়া মোড়
২ নং রেলগেট
কালীবাজার
সহ শহরের প্রতিটি প্রধান সড়কেই এখন ইজিবাইকের কারণে দিনরাত তীব্র যানজট লেগে থাকছে।
"বৈধতা দিয়েও যেখানে নারায়ণগঞ্জে বিশৃঙ্খলা ও যানজট কমানো যায়নি, বরং ভোগান্তি আরও বেড়েছে, সেখানে এই সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। ঢাকায় যদি যানজট ও বিশৃঙ্খলার অজুহাতে ইজিবাইক নিষিদ্ধ হতে পারে, তবে নারায়ণগঞ্জের মতো ঘিঞ্জি ও ব্যস্ত শহরে কেন তা বৈধ থাকবে? বৈধতার সুযোগ নিয়ে এই শহরে হাজার হাজার অবৈধ ইজিবাইক ঢুকছে। আমরা চাই ঢাকার মতো নারায়ণগঞ্জেও ইজিবাইক পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হোক।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল রাজস্ব আদায়ের দিকে না তাকিয়ে নাগরিক স্বস্তি ও যানজটমুক্ত শহরের স্বার্থে নারায়ণগঞ্জের ইজিবাইক নীতি জরুরি ভিত্তিতে পুনর্বিবেচনা করা উচিত। তবে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে ঢাকার কার্যক্রমের দিকে নজর রাখা জরুরি। ঢাকায় যদি এই উদ্যোগ সফল হয়, তবে নারায়ণগঞ্জেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, ইজিবাইকের কারণে শহরটি যেভাবে দুর্ভোগে পড়েছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুন ২০২৬
রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসন ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ঢাকা মহানগরী থেকে সব ধরনের ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক পুরোপুরি সরিয়ে ফেলার চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক উল্টো চিত্র দেখা গেছে ঢাকার একেবারে কোল ঘেঁষে থাকা প্রাচ্যের ড্যান্ডিখ্যাত বাণিজ্যিক নগরী নারায়ণগঞ্জে। ঢাকায় যখন ইজিবাইক নিষিদ্ধের তোড়জোড় চলছে, সেখানে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) এলাকায় এই ইজিবাইককে দেওয়া হয়েছে বৈধ লাইসেন্স ও নম্বরপ্লেট। কাছাকাছি দুটি শহরের এমন 'দুই মেরুর' সিদ্ধান্তে চরম সন্দিহান ও বিভ্রান্ত সাধারণ নগরবাসী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজধানী ঢাকায় প্রতিনিয়ত তীব্র যানজট, যত্রতত্র ট্রাফিক আইন অমান্য এবং সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে এই ইজিবাইকগুলোকে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। যার ফলে নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে ঢাকার সড়ক থেকে এগুলো চিরতরে দূর করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে যাচ্ছে।
ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় ইজিবাইক চলাচলকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট ফি’র বিনিময়ে দেওয়া হয়েছে নম্বরপ্লেট, যা থেকে সিটি করপোরেশন নিয়মিত রাজস্ব আদায় করছে। সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর আমলে চালু করা এই সিদ্ধান্ত নতুন করে চালিয়ে নিচ্ছেন বর্তমান প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খান। নানামুখী পরিকল্পনার কথা জানানো হলেও ইজিবাইকজনিত সংকটের সমাধান মিলছে না কিছুতেই।
বৈধতা দেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র একেবারেই ভিন্ন ও উদ্বেগজনক। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশন যে পরিমাণ ইজিবাইকের অনুমোদন দিয়েছে, বাস্তবে সড়কে চলাচল করছে তার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি অবৈধ ইজিবাইক। অনুমোদনহীন এসব ইজিবাইকের দাপটে পুরো নারায়ণগঞ্জ শহর এখন সাধারণ মানুষের চলাচলের একপ্রকার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে—
চাষাড়া মোড়
২ নং রেলগেট
কালীবাজার
সহ শহরের প্রতিটি প্রধান সড়কেই এখন ইজিবাইকের কারণে দিনরাত তীব্র যানজট লেগে থাকছে।
"বৈধতা দিয়েও যেখানে নারায়ণগঞ্জে বিশৃঙ্খলা ও যানজট কমানো যায়নি, বরং ভোগান্তি আরও বেড়েছে, সেখানে এই সিদ্ধান্ত কতটা যৌক্তিক তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। ঢাকায় যদি যানজট ও বিশৃঙ্খলার অজুহাতে ইজিবাইক নিষিদ্ধ হতে পারে, তবে নারায়ণগঞ্জের মতো ঘিঞ্জি ও ব্যস্ত শহরে কেন তা বৈধ থাকবে? বৈধতার সুযোগ নিয়ে এই শহরে হাজার হাজার অবৈধ ইজিবাইক ঢুকছে। আমরা চাই ঢাকার মতো নারায়ণগঞ্জেও ইজিবাইক পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হোক।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল রাজস্ব আদায়ের দিকে না তাকিয়ে নাগরিক স্বস্তি ও যানজটমুক্ত শহরের স্বার্থে নারায়ণগঞ্জের ইজিবাইক নীতি জরুরি ভিত্তিতে পুনর্বিবেচনা করা উচিত। তবে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে ঢাকার কার্যক্রমের দিকে নজর রাখা জরুরি। ঢাকায় যদি এই উদ্যোগ সফল হয়, তবে নারায়ণগঞ্জেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, ইজিবাইকের কারণে শহরটি যেভাবে দুর্ভোগে পড়েছে, তাতে অদূর ভবিষ্যতে এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন