ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

জালালুদ্দিন রুমির যে বাণীগুলো আজও হৃদয় স্পর্শ করে


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬

জালালুদ্দিন রুমির যে বাণীগুলো আজও হৃদয় স্পর্শ করে
ছবি: সংগৃহীত। জালালুদ্দিন রুমির

মানুষের জীবনে দুঃখ, কষ্ট, ব্যর্থতা কিংবা ভাঙন অনিবার্য। কিন্তু ঈমানদারের দৃষ্টিতে এসব কেবল পরীক্ষাই নয়, বরং আল্লাহর আরও নিকটবর্তী হওয়ার একটি সুযোগ। অনেক সময় হৃদয়ের গভীরতম ব্যথাই মানুষকে তার রবের দিকে ফিরিয়ে আনে, দোয়ায় সিক্ত করে এবং অন্তরে নতুন আশার আলো জ্বালায়।

মাওলানা জালালুদ্দিন রুমি (রহ.)-এর নামে প্রচলিত বেশ কিছু আধ্যাত্মিক উক্তি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের হৃদয়ে আশা, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার বার্তা পৌঁছে দিয়ে আসছে। যদিও এসব উক্তির সবগুলোর নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত নয়, তবুও এগুলোর ভাবার্থ অনেক মানুষের অন্তর ছুঁয়ে যায়।

হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া কয়েকটি উক্তি

১. ‘তুমি যে দুঃখে কাঁদছো, সেটাই তোমার আত্মাকে পরিষ্কার করছে। কারণ আল্লাহ তোমাকে তাঁর কাছে টানতে চান।’

২. ‘যে মুহূর্তে তুমি বলো, “আমি একা”, ঠিক তখনই আল্লাহ বলেন, “আমি তোমার সঙ্গে আছি।”’

৩. ‘তোমার ভাঙা হৃদয়ের মধ্য দিয়েই আলো প্রবেশ করে।’

৪. ‘আমার হৃদয় এতবার ভেঙেছে যে, এখন সেখানে শুধু আল্লাহর নামই জায়গা পায়।’

৫. ‘যেদিন তুমি বুঝবে, তোমার প্রতিটি দুঃখই তোমাকে আল্লাহর আরও কাছে নিয়ে যাচ্ছে, সেদিন আর শুধু কাঁদবে না, বরং কৃতজ্ঞ হবে।’

কুরআনের আলোকে

আল্লাহ তাঁর বান্দার খুবই নিকটে

وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ ۖ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ

অর্থ: ‘আর যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন বলে দাও, নিশ্চয়ই আমি নিকটবর্তী। যে আমাকে ডাকে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই।’

(সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৬)

কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি

فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا ۝ إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا

অর্থ: ‘নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি। নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি।’

(সুরা আল-ইনশিরাহ, আয়াত: ৫-৬)

হাদিসের আলোকে

মুমিনের প্রতিটি অবস্থাই কল্যাণকর

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

عَجَبًا لِأَمْرِ الْمُؤْمِنِ، إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ لَهُ خَيْرٌ...

অর্থ: ‘মুমিনের অবস্থা সত্যিই বিস্ময়কর। তার প্রতিটি অবস্থাই তার জন্য কল্যাণকর। সুখ পেলে সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে, আর তা তার জন্য কল্যাণ হয়। দুঃখ-কষ্টে আক্রান্ত হলে ধৈর্য ধারণ করে, আর তাও তার জন্য কল্যাণ হয়।’

(সহিহ মুসলিম: ২৯৯৯)

আল্লাহ বান্দার ধারণা অনুযায়ী আচরণ করেন

أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي، وَأَنَا مَعَهُ إِذَا ذَكَرَنِي

অর্থ: ‘আমি আমার বান্দা আমার সম্পর্কে যেমন ধারণা করে, তেমনই আচরণ করি। আর সে যখন আমাকে স্মরণ করে, তখন আমি তার সঙ্গেই থাকি।’

(সহিহ বুখারি: ৭৪০৫, সহিহ মুসলিম: ২৬৭৫)

উপসংহার

জীবনের প্রতিটি অশ্রু, প্রতিটি কষ্ট ও প্রতিটি ভাঙনের মধ্যেও আল্লাহর অসীম প্রজ্ঞা লুকিয়ে থাকে। কখনো সেই কষ্টই মানুষকে গুনাহ থেকে ফিরিয়ে আনে, কখনো দোয়ার দরজা খুলে দেয়, আবার কখনো ঈমানকে আরও দৃঢ় করে।

তাই বিপদে ভেঙে না পড়ে ধৈর্য ধারণ করা, বেশি বেশি দোয়া করা এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখাই একজন মুমিনের পথ। কারণ যে হৃদয় আল্লাহর স্মরণে সজীব থাকে, সে হৃদয় কখনো প্রকৃত অর্থে একা থাকে না।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


জালালুদ্দিন রুমির যে বাণীগুলো আজও হৃদয় স্পর্শ করে

প্রকাশের তারিখ : ২৯ জুন ২০২৬

featured Image

মানুষের জীবনে দুঃখ, কষ্ট, ব্যর্থতা কিংবা ভাঙন অনিবার্য। কিন্তু ঈমানদারের দৃষ্টিতে এসব কেবল পরীক্ষাই নয়, বরং আল্লাহর আরও নিকটবর্তী হওয়ার একটি সুযোগ। অনেক সময় হৃদয়ের গভীরতম ব্যথাই মানুষকে তার রবের দিকে ফিরিয়ে আনে, দোয়ায় সিক্ত করে এবং অন্তরে নতুন আশার আলো জ্বালায়।

মাওলানা জালালুদ্দিন রুমি (রহ.)-এর নামে প্রচলিত বেশ কিছু আধ্যাত্মিক উক্তি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের হৃদয়ে আশা, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার বার্তা পৌঁছে দিয়ে আসছে। যদিও এসব উক্তির সবগুলোর নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত নয়, তবুও এগুলোর ভাবার্থ অনেক মানুষের অন্তর ছুঁয়ে যায়।

হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া কয়েকটি উক্তি

১. ‘তুমি যে দুঃখে কাঁদছো, সেটাই তোমার আত্মাকে পরিষ্কার করছে। কারণ আল্লাহ তোমাকে তাঁর কাছে টানতে চান।’

২. ‘যে মুহূর্তে তুমি বলো, “আমি একা”, ঠিক তখনই আল্লাহ বলেন, “আমি তোমার সঙ্গে আছি।”’

৩. ‘তোমার ভাঙা হৃদয়ের মধ্য দিয়েই আলো প্রবেশ করে।’

৪. ‘আমার হৃদয় এতবার ভেঙেছে যে, এখন সেখানে শুধু আল্লাহর নামই জায়গা পায়।’

৫. ‘যেদিন তুমি বুঝবে, তোমার প্রতিটি দুঃখই তোমাকে আল্লাহর আরও কাছে নিয়ে যাচ্ছে, সেদিন আর শুধু কাঁদবে না, বরং কৃতজ্ঞ হবে।’

কুরআনের আলোকে

আল্লাহ তাঁর বান্দার খুবই নিকটে

وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ ۖ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ

অর্থ: ‘আর যখন আমার বান্দারা আমার সম্পর্কে তোমাকে জিজ্ঞাসা করে, তখন বলে দাও, নিশ্চয়ই আমি নিকটবর্তী। যে আমাকে ডাকে, আমি তার ডাকে সাড়া দিই।’

(সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৮৬)

কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি

فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا ۝ إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا

অর্থ: ‘নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি। নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গেই রয়েছে স্বস্তি।’

(সুরা আল-ইনশিরাহ, আয়াত: ৫-৬)

হাদিসের আলোকে

মুমিনের প্রতিটি অবস্থাই কল্যাণকর

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,

عَجَبًا لِأَمْرِ الْمُؤْمِنِ، إِنَّ أَمْرَهُ كُلَّهُ لَهُ خَيْرٌ...

অর্থ: ‘মুমিনের অবস্থা সত্যিই বিস্ময়কর। তার প্রতিটি অবস্থাই তার জন্য কল্যাণকর। সুখ পেলে সে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে, আর তা তার জন্য কল্যাণ হয়। দুঃখ-কষ্টে আক্রান্ত হলে ধৈর্য ধারণ করে, আর তাও তার জন্য কল্যাণ হয়।’

(সহিহ মুসলিম: ২৯৯৯)

আল্লাহ বান্দার ধারণা অনুযায়ী আচরণ করেন

أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي، وَأَنَا مَعَهُ إِذَا ذَكَرَنِي

অর্থ: ‘আমি আমার বান্দা আমার সম্পর্কে যেমন ধারণা করে, তেমনই আচরণ করি। আর সে যখন আমাকে স্মরণ করে, তখন আমি তার সঙ্গেই থাকি।’

(সহিহ বুখারি: ৭৪০৫, সহিহ মুসলিম: ২৬৭৫)

উপসংহার

জীবনের প্রতিটি অশ্রু, প্রতিটি কষ্ট ও প্রতিটি ভাঙনের মধ্যেও আল্লাহর অসীম প্রজ্ঞা লুকিয়ে থাকে। কখনো সেই কষ্টই মানুষকে গুনাহ থেকে ফিরিয়ে আনে, কখনো দোয়ার দরজা খুলে দেয়, আবার কখনো ঈমানকে আরও দৃঢ় করে।

তাই বিপদে ভেঙে না পড়ে ধৈর্য ধারণ করা, বেশি বেশি দোয়া করা এবং আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রাখাই একজন মুমিনের পথ। কারণ যে হৃদয় আল্লাহর স্মরণে সজীব থাকে, সে হৃদয় কখনো প্রকৃত অর্থে একা থাকে না।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ