মানুষের মর্যাদা ও সফলতা কেবল ধন-সম্পদের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং তার জ্ঞান, বিবেক, নিয়ত এবং অর্জিত সম্পদের ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে। ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পদ একটি পরীক্ষা এবং জ্ঞান একটি আমানত। এই দুই নিয়ামত সঠিক পথে ব্যবহার করলে তা কল্যাণ বয়ে আনে, আর অপব্যবহার করলে তা ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) মানুষের এমন চারটি শ্রেণির কথা উল্লেখ করেছেন, যা আত্মপর্যালোচনার গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত।
যে ব্যক্তি আল্লাহর দেওয়া জ্ঞান ও সম্পদকে তাঁর সন্তুষ্টির পথে ব্যয় করে, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে এবং সমাজকল্যাণে ব্যবহার করে, সে সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এমন ব্যক্তি সম্পদের ক্ষেত্রে আল্লাহকে ভয় করে, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে এবং আল্লাহর হক আদায় করে।
আল্লাহ তাআলাও নির্দেশ দিয়েছেন—আল্লাহ যা দিয়েছেন তা দ্বারা আখিরাতের কল্যাণ অনুসন্ধান করতে এবং দুনিয়ার অংশ ভুলে না যেতে।
এই শ্রেণির মানুষ সম্পদশালী নয়, তবে তার অন্তর সৎ। সে মনে করে, যদি তার সম্পদ থাকত, তবে সেও আল্লাহর পথে ব্যয় করত।
এই আন্তরিক নিয়তের কারণে আল্লাহ তাকে সেই নেককার ব্যক্তির সমান সওয়াব দান করেন, যিনি বাস্তবে সম্পদ ব্যয় করেন। ইসলামে নিয়তের গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ সকল আমলের ভিত্তিই নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।
এই ব্যক্তি সম্পদের মালিক হলেও জ্ঞানের অভাবে তা অন্যায় ও অপচয়ের পথে ব্যয় করে। সে আল্লাহর হক সম্পর্কে অসচেতন থাকে এবং দায়িত্ব পালন করে না।
ফলে তার সম্পদই তার জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পবিত্র কুরআনে অপচয়কারীদের শয়তানের ভাই হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ব্যক্তি বাস্তবে কোনো সুযোগ না পেলেও মনে মনে অন্যায়ের ইচ্ছা পোষণ করে। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, খারাপ নিয়তও মানুষকে গুনাহের অংশীদার করতে পারে, যদিও সে কাজটি করতে সক্ষম না হয়।
ইসলামী এই শিক্ষা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, মানুষের প্রকৃত মর্যাদা তার ধন-সম্পদে নয়; বরং তার জ্ঞান, নিয়ত এবং কর্মে। যে ব্যক্তি আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত সঠিকভাবে ব্যবহার করে, সেই-ই দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতার অধিকারী হয়।

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬
মানুষের মর্যাদা ও সফলতা কেবল ধন-সম্পদের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং তার জ্ঞান, বিবেক, নিয়ত এবং অর্জিত সম্পদের ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে। ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পদ একটি পরীক্ষা এবং জ্ঞান একটি আমানত। এই দুই নিয়ামত সঠিক পথে ব্যবহার করলে তা কল্যাণ বয়ে আনে, আর অপব্যবহার করলে তা ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) মানুষের এমন চারটি শ্রেণির কথা উল্লেখ করেছেন, যা আত্মপর্যালোচনার গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত।
যে ব্যক্তি আল্লাহর দেওয়া জ্ঞান ও সম্পদকে তাঁর সন্তুষ্টির পথে ব্যয় করে, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে এবং সমাজকল্যাণে ব্যবহার করে, সে সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এমন ব্যক্তি সম্পদের ক্ষেত্রে আল্লাহকে ভয় করে, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে এবং আল্লাহর হক আদায় করে।
আল্লাহ তাআলাও নির্দেশ দিয়েছেন—আল্লাহ যা দিয়েছেন তা দ্বারা আখিরাতের কল্যাণ অনুসন্ধান করতে এবং দুনিয়ার অংশ ভুলে না যেতে।
এই শ্রেণির মানুষ সম্পদশালী নয়, তবে তার অন্তর সৎ। সে মনে করে, যদি তার সম্পদ থাকত, তবে সেও আল্লাহর পথে ব্যয় করত।
এই আন্তরিক নিয়তের কারণে আল্লাহ তাকে সেই নেককার ব্যক্তির সমান সওয়াব দান করেন, যিনি বাস্তবে সম্পদ ব্যয় করেন। ইসলামে নিয়তের গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ সকল আমলের ভিত্তিই নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।
এই ব্যক্তি সম্পদের মালিক হলেও জ্ঞানের অভাবে তা অন্যায় ও অপচয়ের পথে ব্যয় করে। সে আল্লাহর হক সম্পর্কে অসচেতন থাকে এবং দায়িত্ব পালন করে না।
ফলে তার সম্পদই তার জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পবিত্র কুরআনে অপচয়কারীদের শয়তানের ভাই হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ব্যক্তি বাস্তবে কোনো সুযোগ না পেলেও মনে মনে অন্যায়ের ইচ্ছা পোষণ করে। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, খারাপ নিয়তও মানুষকে গুনাহের অংশীদার করতে পারে, যদিও সে কাজটি করতে সক্ষম না হয়।
ইসলামী এই শিক্ষা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, মানুষের প্রকৃত মর্যাদা তার ধন-সম্পদে নয়; বরং তার জ্ঞান, নিয়ত এবং কর্মে। যে ব্যক্তি আল্লাহর দেওয়া নিয়ামত সঠিকভাবে ব্যবহার করে, সেই-ই দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতার অধিকারী হয়।

আপনার মতামত লিখুন