ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

“চিনি খেলে ক্যানসার হয়” দাবি কতটা সত্য?


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ জুন ২০২৬

“চিনি খেলে ক্যানসার হয়” দাবি কতটা সত্য?
ছবি: সংগৃহীত

চিনি সরাসরি ক্যানসার সৃষ্টি করে না—এ বিষয়ে একমত চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। মানবদেহের প্রতিটি সক্রিয় কোষের বেঁচে থাকার জন্য গ্লুকোজ প্রয়োজন হয়। সাধারণ কোষের মতো ক্যানসার কোষও শক্তির জন্য গ্লুকোজ ব্যবহার করে। তবে এর মানে এই নয় যে, চিনি খাওয়ার কারণে সরাসরি ক্যানসার হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার এবং প্রক্রিয়াজাত পানীয় শরীরে ক্যালোরি বাড়িয়ে স্থূলতা তৈরি করে। আর স্থূলতা স্তন, কোলন, পাকস্থলী ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এছাড়া রক্তে দীর্ঘদিন উচ্চ সুগার থাকলে শরীরে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়, যা ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার জন্য সহায়ক হতে পারে।

তবে শুধু চিনি বন্ধ করলেই ক্যানসার প্রতিরোধ বা চিকিৎসা সম্ভব—এ ধারণাকেও ভুল বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শরীর যদি গ্লুকোজ না পায়, তাহলে ক্যানসার কোষ প্রোটিন ও ফ্যাট থেকে বিকল্প শক্তি সংগ্রহ করে বেঁচে থাকতে পারে। তাই শুধু ডায়েট থেকে চিনি বাদ দিলে ক্যানসার কোষ “অনাহারে মারা যায়”—এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর পরামর্শ অনুযায়ী, অতিরিক্ত মিষ্টি, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং কৃত্রিম চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত। একইভাবে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন জানায়, নারীদের দিনে সর্বোচ্চ ২৫ গ্রাম এবং পুরুষদের ৩৬ গ্রামের বেশি অ্যাডেড সুগার গ্রহণ করা উচিত নয়।

ভারতীয় অনকোলজিস্ট ডা. বর্তিকা বিশ্বানি বলেন, চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খেলে সরাসরি ক্যানসার হয়—এ ধরনের কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তার ভাষায়, শরীরের সব অঙ্গই শক্তির জন্য গ্লুকোজ ব্যবহার করে। তাই পুরোপুরি চিনি বাদ দিলে শরীর শক্তির ঘাটতিতে পড়তে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে পেশি ক্ষয়ও হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সমস্যা চিনি নয়, বরং অতিরিক্ত গ্রহণ এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। বেশি চিনি, স্থূলতা এবং মেটাবলিক সমস্যা ভবিষ্যতে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে ক্যানসারের ঝুঁকি একক কোনো খাবারের ওপর নির্ভর করে না; বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি খাদ্যাভ্যাস, জীবনধারা এবং শারীরিক অবস্থার সমন্বিত ফল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাসই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্বাভাবিক পরিমাণে চিনি গ্রহণ ক্ষতিকর নয়, কিন্তু অতিরিক্ত মিষ্টি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলাই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


“চিনি খেলে ক্যানসার হয়” দাবি কতটা সত্য?

প্রকাশের তারিখ : ২১ জুন ২০২৬

featured Image

চিনি সরাসরি ক্যানসার সৃষ্টি করে না—এ বিষয়ে একমত চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। মানবদেহের প্রতিটি সক্রিয় কোষের বেঁচে থাকার জন্য গ্লুকোজ প্রয়োজন হয়। সাধারণ কোষের মতো ক্যানসার কোষও শক্তির জন্য গ্লুকোজ ব্যবহার করে। তবে এর মানে এই নয় যে, চিনি খাওয়ার কারণে সরাসরি ক্যানসার হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার এবং প্রক্রিয়াজাত পানীয় শরীরে ক্যালোরি বাড়িয়ে স্থূলতা তৈরি করে। আর স্থূলতা স্তন, কোলন, পাকস্থলী ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এছাড়া রক্তে দীর্ঘদিন উচ্চ সুগার থাকলে শরীরে এমন একটি পরিবেশ তৈরি হয়, যা ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ও বেঁচে থাকার জন্য সহায়ক হতে পারে।

তবে শুধু চিনি বন্ধ করলেই ক্যানসার প্রতিরোধ বা চিকিৎসা সম্ভব—এ ধারণাকেও ভুল বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শরীর যদি গ্লুকোজ না পায়, তাহলে ক্যানসার কোষ প্রোটিন ও ফ্যাট থেকে বিকল্প শক্তি সংগ্রহ করে বেঁচে থাকতে পারে। তাই শুধু ডায়েট থেকে চিনি বাদ দিলে ক্যানসার কোষ “অনাহারে মারা যায়”—এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-এর পরামর্শ অনুযায়ী, অতিরিক্ত মিষ্টি, প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং কৃত্রিম চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত। একইভাবে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন জানায়, নারীদের দিনে সর্বোচ্চ ২৫ গ্রাম এবং পুরুষদের ৩৬ গ্রামের বেশি অ্যাডেড সুগার গ্রহণ করা উচিত নয়।

ভারতীয় অনকোলজিস্ট ডা. বর্তিকা বিশ্বানি বলেন, চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার খেলে সরাসরি ক্যানসার হয়—এ ধরনের কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। তার ভাষায়, শরীরের সব অঙ্গই শক্তির জন্য গ্লুকোজ ব্যবহার করে। তাই পুরোপুরি চিনি বাদ দিলে শরীর শক্তির ঘাটতিতে পড়তে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে পেশি ক্ষয়ও হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সমস্যা চিনি নয়, বরং অতিরিক্ত গ্রহণ এবং অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন। বেশি চিনি, স্থূলতা এবং মেটাবলিক সমস্যা ভবিষ্যতে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে ক্যানসারের ঝুঁকি একক কোনো খাবারের ওপর নির্ভর করে না; বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি খাদ্যাভ্যাস, জীবনধারা এবং শারীরিক অবস্থার সমন্বিত ফল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্যাভ্যাসই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্বাভাবিক পরিমাণে চিনি গ্রহণ ক্ষতিকর নয়, কিন্তু অতিরিক্ত মিষ্টি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলাই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ