নওগাঁয় সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর প্রসূতির পেটে গজ কাপড় রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগে চিকিৎসকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বুধবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে নওগাঁ সদর ১ নম্বর আমলি আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এ আদেশ দেন।
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—অস্ত্রোপচারকারী চিকিৎসক ফাবলিহা সাদিয়া শাফীন (২৯), অ্যানেস্থেশিয়া প্রয়োগকারী চিকিৎসক মো. আখেরুজ্জামান রবি (৩৩), মেট্রো হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মো. রিপন আলী (৩৭), অপারেশন থিয়েটারের ইনচার্জ মোছা. সালমা বিবি নাজমা (৩২), রোগীর দালাল মো. রাশেদুল ইসলাম হিরু (৩৩) ও মো. নাহিদ বাবু (২২)।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৬ এপ্রিল নওগাঁ শহরের দক্ষিণ সুলতানপুর এলাকার বাসিন্দা প্রসূতি রাহী মুনী সন্তান প্রসবের জন্য নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে এক ব্যক্তি তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বেসরকারি হাসপাতালে ভালোভাবে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করানোর কথা বলেন। পরে ৮ হাজার টাকায় চুক্তি করে তাকে শহরের মেট্রো হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মেট্রো হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ওই দিন সন্ধ্যায় রাহী মুনীর প্রসববেদনা শুরু হয়। রাতে চিকিৎসক ফাবলিহা সাদিয়া শাফীন তার সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করেন। এ সময় হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অস্ত্রোপচারে সহযোগিতা করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের পর থেকেই রাহী মুনীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে তার পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়। পরিস্থিতির অবনতি হলে পরদিন তড়িঘড়ি করে তার পেটে দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করা হয়। ওই সময় তার পেটের ভেতর থেকে গজ কাপড় বের করা হয় এবং পরে পুনরায় অস্ত্রোপচার করে সেলাই করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, এ ঘটনায় পরবর্তীতে প্রসূতির মৃত্যু হয়। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলে তদন্ত ও আদালতের কার্যক্রম শেষে চিকিৎসকসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
সিজারের পর পেটে গজ রাখার অভিযোগ: নওগাঁয় চিকিৎসকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা








