তথ্যপ্রযুক্তি

পাঠাওয়ের ১ কোটি ৯০ লাখ গ্রাহকের তথ্য চুরির দাবি, মুক্তিপণ ৪ লাখ ডলার

পাঠাওয়ের কোটি কোটি গ্রাহকের তথ্য হ্যাকারদের হাতে? ৪ লাখ ডলার মুক্তিপণ দাবি

⎙ প্রিন্ট
পাঠাওয়ের ১ কোটি ৯০ লাখ গ্রাহকের তথ্য চুরির দাবি, মুক্তিপণ ৪ লাখ ডলার
পাঠাওয়ের ১ কোটি ৯০ লাখ গ্রাহকের তথ্য চুরির দাবি, মুক্তিপণ ৪ লাখ ডলার
বাংলাদেশের অত্যন্ত পরিচিত ডিজিটাল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান পাঠাওয়ের অসংখ্য গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করা হয়েছে বলে একটি হ্যাকার গোষ্ঠী দাবি করেছে।
উক্ত হ্যাকার গোষ্ঠীটির দাবি অনুসারে, প্রায় এক কোটি ৯০ লাখ ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য তাদের হেফাজতে রয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম ডেইলি ডার্ক ওয়েব জানিয়েছে, তথ্য প্রকাশ করা হবে না—এই শর্তে চার লাখ মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। তবে হ্যাকারদের এই দাবির সম্পূর্ণ সত্যতা এবং তথ্য চুরির প্রকৃত পরিমাণ কোনো স্বাধীন সূত্রে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 শুক্রবার, ৯ অক্টোবর তারিখে প্রকাশিত ঢাকা ট্রিবিউনের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হ্যাকাররা প্রায় ১৩৩ গিগাবাইট পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ করার দাবি করেছে। তাদের দাবি অনুসারে, ৫৯১টি ডেটাবেজে প্রায় ২৫ কোটি রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় ডেটাবেজটিতে এক কোটি ৯০ লাখেরও বেশি অ্যাকাউন্ট-সংশ্লিষ্ট তথ্য থাকার দাবি করা হয়েছে। হ্যাকার গোষ্ঠীটির দাবি অনুযায়ী, এসব তথ্যের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর, মোবাইল নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্সের তথ্য, ছবি, বাসার ঠিকানা, অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য এবং আর্থিক লেনদেনের বিবরণ অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। 

এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়িক নথি, কর্মীদের তথ্য এবং ডেলিভারি ও রাইড-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করার দাবিও করা হয়েছে। তবে এসব তথ্যের প্রতিটি বিভাগ সত্যিই চুরি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পাঠাও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ৪ অক্টোবর তাদের সিস্টেমে একটি সাইবার নিরাপত্তাসংক্রান্ত ঘটনা শনাক্ত করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিস্টেম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। 

এর ফলে কয়েকটি সেবায় বিঘ্ন ঘটে। প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছে যে, অননুমোদিত ব্যক্তিরা কিছু ব্যক্তিগত তথ্যের নাগাল পেয়েছিল। এর মধ্যে ব্যবহারকারীদের নাম, ইমেইল ঠিকানা এবং ফোন নম্বর রয়েছে। তবে এক কোটি ৯০ লাখ অ্যাকাউন্টের তথ্য চুরি হয়েছে—এমন দাবি পাঠাও নিশ্চিত করেনি। জাতীয় পরিচয়পত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স, আর্থিক তথ্য কিংবা অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য চুরির বিষয়টিও এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

 পাঠাও জানিয়েছে, নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি ঘটনার তদন্তে বাইরের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সেবাগুলো পুনরায় চালু হয়েছে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে সাময়িক প্রযুক্তিগত সমস্যা থাকতে পারে। এই ঘটনাটি বাংলাদেশের ডিজিটাল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য সুরক্ষা এবং গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের প্রদত্ত প্রচলিত পরামর্শ অনুসারে, এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে ব্যবহারকারীদের জন্য কয়েকটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; সেগুলো হলো সন্দেহজনক লিংকের প্রতি আকৃষ্ট না হওয়া বা সেগুলো এড়িয়ে চলা, একই পাসওয়ার্ড বিভিন্ন সেবায় পুনরায় ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা এবং কোনো অপরিচিত ব্যক্তিকে ওটিপি বা এককালীন পাসকোড প্রদান না করা। 

তদন্তের কাজ সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়ে গেলে তথ্য চুরির প্রকৃত পরিমাণ কতটা ছিল এবং কোন কোন ব্যবহারকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সে সম্পর্কে আরও অনেক স্পষ্ট ও নির্ভুল ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

সম্পর্কিত সংবাদ