ঢাকা    মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পকে চাপে ফেলতে প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬

ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পকে চাপে ফেলতে প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে একটি প্রস্তাব পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। স্থানীয় সময় বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটে প্রস্তাবটি ২১৫-২০৮ ভোটে গৃহীত হয়। চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দিয়ে প্রস্তাবটির পক্ষে অবস্থান নেন।

প্রস্তাবটি এখনো সিনেটে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে এটি ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের বিরুদ্ধে কংগ্রেসে বাড়তে থাকা অসন্তোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সমালোচকদের দাবি, ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের জন্য কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেওয়া হয়নি। সেই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করতে প্রতিনিধি পরিষদে এটি ছিল চতুর্থ উদ্যোগ। তবে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেটে প্রস্তাবটি পাস হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

সিনেটে অনুমোদন পেলেও প্রস্তাবটি কার্যকর হতে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে। ট্রাম্প ভেটো দিলে তা অতিক্রম করতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন লাগবে।

ভোটাভুটিতে রিপাবলিকান সদস্য থমাস ম্যাসি, ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক, টম ব্যারেট এবং ওয়ারেন ডেভিডসন ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। এছাড়া ডেমোক্র্যাট সদস্য জ্যারেড গোল্ডেন, যিনি আগে একই ধরনের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন, এবার সমর্থনে ভোট দেন।

মিশিগানের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান টম ব্যারেট বলেন, যুদ্ধ ঘোষণা করার সাংবিধানিক ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকা উচিত এবং এ নীতি রক্ষা করা প্রয়োজন। ট্রাম্পের বিরূপ প্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি নিজের বিবেক ও নীতির ভিত্তিতে ভোট দিয়েছেন।

প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস এই ভোটকে ট্রাম্পের ইরান নীতির বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিদলীয় বার্তা হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, যুদ্ধ ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে, জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও জটিল করেছে।

তিনি বলেন, মার্কিন ভোটারদের বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি আরেকটি যুদ্ধ চায় না এবং রিপাবলিকানদের একটি অংশও এখন সেই জনমতের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।

এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানে হামলা এবং তার জবাবে ইরানের পক্ষ থেকে কুয়েতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যেই ট্রাম্প দাবি করেছেন, সংঘাত নিরসনে চলমান আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং খুব শিগগিরই একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসন একটি চুক্তির মাধ্যমে দ্রুত সংঘাতের অবসান চায়। তিনি দাবি করেন, উভয় পক্ষ একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে এবং সম্পর্কও আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে।

বিষয় : ইরান যুদ্ধ ডোনাল্ড ট্রাম্প

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬


ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পকে চাপে ফেলতে প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাব পাস

প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬

featured Image

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা সীমিত করতে একটি প্রস্তাব পাস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ। স্থানীয় সময় বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটে প্রস্তাবটি ২১৫-২০৮ ভোটে গৃহীত হয়। চারজন রিপাবলিকান সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দিয়ে প্রস্তাবটির পক্ষে অবস্থান নেন।

প্রস্তাবটি এখনো সিনেটে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে এটি ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের বিরুদ্ধে কংগ্রেসে বাড়তে থাকা অসন্তোষের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সমালোচকদের দাবি, ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের জন্য কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেওয়া হয়নি। সেই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করতে প্রতিনিধি পরিষদে এটি ছিল চতুর্থ উদ্যোগ। তবে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেটে প্রস্তাবটি পাস হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

সিনেটে অনুমোদন পেলেও প্রস্তাবটি কার্যকর হতে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর প্রয়োজন হবে। ট্রাম্প ভেটো দিলে তা অতিক্রম করতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন লাগবে।

ভোটাভুটিতে রিপাবলিকান সদস্য থমাস ম্যাসি, ব্রায়ান ফিটজপ্যাট্রিক, টম ব্যারেট এবং ওয়ারেন ডেভিডসন ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। এছাড়া ডেমোক্র্যাট সদস্য জ্যারেড গোল্ডেন, যিনি আগে একই ধরনের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন, এবার সমর্থনে ভোট দেন।

মিশিগানের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান টম ব্যারেট বলেন, যুদ্ধ ঘোষণা করার সাংবিধানিক ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে থাকা উচিত এবং এ নীতি রক্ষা করা প্রয়োজন। ট্রাম্পের বিরূপ প্রতিক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি নিজের বিবেক ও নীতির ভিত্তিতে ভোট দিয়েছেন।

প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস এই ভোটকে ট্রাম্পের ইরান নীতির বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিদলীয় বার্তা হিসেবে অভিহিত করেন। তার মতে, যুদ্ধ ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে, জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের পথ আরও জটিল করেছে।

তিনি বলেন, মার্কিন ভোটারদের বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি আরেকটি যুদ্ধ চায় না এবং রিপাবলিকানদের একটি অংশও এখন সেই জনমতের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।

এদিকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানে হামলা এবং তার জবাবে ইরানের পক্ষ থেকে কুয়েতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যেই ট্রাম্প দাবি করেছেন, সংঘাত নিরসনে চলমান আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং খুব শিগগিরই একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তার প্রশাসন একটি চুক্তির মাধ্যমে দ্রুত সংঘাতের অবসান চায়। তিনি দাবি করেন, উভয় পক্ষ একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে এবং সম্পর্কও আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ